সর্বশেষ সংবাদ: |
  • প্রধান বিচারপতির মায়ের ইন্তেকাল

ভেঙে ফেলা হবে কবি জসীম উদ্‌দীনের পলাশ বাড়ি

১৮ মার্চ,২০১৩

শিল্প-সাহিত্য ডেস্ক, আরটিএনএন

 

১৯৫৪ সাল। জসীম উদ্‌দীন তখন ‘সং পাবলিসিটি অফিসার’। চাকরির বেতন দিয়েই কিনলেন বর্তমান বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলের পাশে একটুকরো জমি। ৬ কাঠা জমির দাম ৩০ হাজার টাকা! জমিটির বর্তমান ঠিকানা হচ্ছে ১০, কবি জসীম উদ্‌দীন রোড, ঢাকা ১২১৭। এটিই কবি জসীম উদ্‌দীনের ঢাকার নিবাস। বাড়িটির নাম ‘পলাশ বাড়ি’। ১৯৫৬ সাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কবি এখানে বসবাস করতেন।

 

গত ১৪ মার্চ ছিল কবি জসীম উদ্‌দীনের ৩৮ তম মৃত্যুদিবস। দিবসটি সামনে রেখে গত ১২ মার্চ কবির বাসায় যান আরটিএনএন-এর আর্টস এডিটর মাহাবুব রাহমান, নিজস্ব লেখক ওয়াহিদ সুজন ও ফটোগ্রাফার জাহাঙ্গীর আলম।

 

কবি জসীম উদ্‌দীনের পলাশ বাড়ি

১. ‌পলাশ বাড়ির সাইনবোর্ড, সাইনবোর্ডে রয়েছে- কবি জসীম উদ্‌দীন মিউজিয়াম, পলাশ প্রকাশনী, কবি জসীম উদ্‌দীন একাডেমী, জাতীয় জসীম উদ্‌দীন পরিষদ। ঠিকানা : ১০ কবি জসীম উদ্‌দীন রোড, ঢাকা ১২১৭। প্রতিষ্ঠাতা : হাসনা মওদুদ জসীম উদ্‌দীন (বড় মেয়ে), খুরশীদ আনোয়ার জসীম উদ্‌দীন গং
২. বাগানে ফুটে আছে মালতী ফুল।
৩. বাড়ির পেছনে দুটি গরু। জানা যায় গরুর দুধ জসীম উদ্‌দীনের খুবই প্রিয় খাবার
৪. ভাঙাচোরা রসুই ঘর। কত দিন এখানে রান্না হয় না
৫. ঘরের বারান্দায় বাঁধাই হচ্ছে বই।
৬. অগোছালো বিছানা
৭. বৈঠক ঘরে বইয়ের স্তূপ।
৮. কবির ছোট ছেলে খুরশীদ আনোয়ার ভেতরে দেখাচ্ছেন।
৯. কবির রচিত কয়েকটি বইয়ের স্তূপ

............................................................................................

 

বাড়ি ভর্তি নানা জাতের ফুলগাছের সমাহার। দুয়েকটি গাছে ফুলও ফুটেছে। আহমদ ছফার একটি লেখায় (জসীম উদ্‌দীন কথা) জসীম উদ্‌দীনের ফুলপ্রীতির বিবরণ আছে। ছফার ভাষ্যে, ‘‘আমি একটা করে বাগানের সব কটা ফুল ছিঁড়ে চাদরে ভরে নিয়েছিলাম। কবি সাহেব অবাক-বিহ্বল দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। কোনো কথা বললেন না। আমি যখন ফুল নিয়ে চলে আস্‌ছি, তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখি সারা চোখ পানিতে ভরে গেছে।’’ (জসীম উদ্‌দীন কথা)।

 

বর্তমান গাছগুলো জসীম উদ্‌দীনের জীবদ্দশার নয়।

 

অযত্নে পড়ে আছে সম্মাননা

ঘরের ভিতরে ঢুকে দেখা গেল অযত্নে পড়ে আছে আসবাবপত্র। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কবির সংগৃহীত মূল্যবান সব সংগ্রহ, কবিকে দেওয়া বিশ্বভারতীর মানপত্র। ঘরের মধ্যে পড়ে আছে নতুন বাঁধাইকৃত বা বাঁধাইয়ের জন্য রেখে দেওয়া সদ্য ছাপানো কবির নানা বইপত্র। বর্তমানে এই ঘরে আর কেউ বসবাস করেন না।

 

বাড়ির ভেতরের চিত্র

১. অগোছালো টেবিল
২. অবহেলায় পড়ে আছে কবির ব্যবহৃত কোট
৩. দোতলায় ওঠার সিঁড়ি বন্ধ
৪. বিবর্ণ হয়ে গেছে বিশ্বভারতীর দেওয়া মানপত্র
৫. বিশ্ব ভারতীর ছাত্রছাত্রীদের দেওয়া মানপত্র
৬. রান্না ঘরের কেবিনেট ভাঙাচোরা
৭. এই সাইকেলটিতে চড়ে ঘুরে বেড়াতেন কবি। চলে যেতেন মাঠে কৃষকদের কাছে
৮. এই খাটে ঘুমাতেন কবি   
৯. কবির ব্যবহৃত টেলিফোন

.............................................................................


ফুলের বাগানে উঠবে বহুতল ভবন

কবির ছোট ছেলে খুরশীদ আনোয়ারের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান বাড়িটির জমি কবির ওয়ারিশগণ ডেভেলপার কোম্পানিকে দিয়ে দিয়েছেন। কয়েকমাসের মধ্যেই এ বাড়িতে উঠবে বহুতল ভবন। বিলুপ্ত হয়ে যাবে ফুলের বাগান। হারিয়ে যাবে কবির স্মৃতি বিজড়িত পলাশ বাড়ির বর্তমান পরিবেশ। জসীম উদ্‌দীনের মতো একজন কবির স্মৃতি সংরক্ষণে রাষ্ট্রের তরফ থেকে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না।

 

রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে উপেক্ষিত কবি

রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অবহেলিত কবি জসীম উদ্‌দীন। গত ১৪ মার্চ ছিল জসীম উদ্‌দীনের ৩৮ তম মৃত্যুদিবস। তার মৃত্যু দিবসে দেশের বহুল প্রচারিত সংবাদমাধ্যমগুলো শীতল নীরবতা পালন করে। আমাদের সংবাদমাধ্যমগুলোর গণবিরোধী চরিত্র এ ঘটনার মাধ্যমেও প্রমাণিত হলো। কবির মৃত্যুদিবসে জাতীয় পর্যায়ে তো কোনো অনুষ্ঠান হয়ইনি স্থানীয় পর্যায়েও কোনো অনুষ্ঠান হয়নি। তার জন্মস্থান ফরিদপুর জেলার অম্বিকাপুরে গিয়ে দেখা গেল তার কবরে সাধারণ মানুষ ছাড়া প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের কেউ আসেননি ফুল দিতে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোনো অনুষ্ঠান কী স্মরণসভার আয়োজন করা হয়নি। অথচ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় কবির জন্মস্থান থেকে মাত্র ৩-৪ কিলোমিটার দূরে।

 

জসীম উদ্‌দীনের জন্মস্থান

১. এই ঘরে বসে কবি তার অমর কবিতা কবর, রাখালী রচনা করেন
২. ঘরের সামনে কবির সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জি
৩. আমাদের গরীবের সংসার, ঘি ময়দা ছানা দিয়া জৌলুস পিঠা তৈরী করিবার উপকরণ মায়ের ছিল না। চাউলের গুড়া আর গুড় এই মাত্র মায়ের সম্পদ
৪. কবির নাতনী
৫. আমার এ ঘর ভাঙ্গিয়াছে যেবা/ আমি বাঁধি তার ঘর/ আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই/ যে মোরে করেছে পর। গাছের উপর চিলেকোঠা
৬. রূপাই ছায়াঘর। ভেতরে একজোড়া কপোত-কপোতী। ওরা কি সাজু ও রূপাই!
৭. কবির মৃত্যুদিবসে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধাঞ্জলি।
৮. বিশাল এলাকা নিয়ে নির্মিয়মান ২০ কোটি টাকা বরাদ্দের মিউজিয়াম। বরাদ্দের টাকা নিয়ে লুটপাটের অভিযোগ তোলেন কবিপুত্র খুরশীদ আনোয়ার
৯. কবির বাড়ির সামনের কামার নদী। নদীতে এক ফোঁটা জলও নেই।

..............................................................................................

 

জসীম উদ্‌দীন বাংলা কবিতা ও বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতির অন্যতম দিকপাল। এ কবির প্রতি রাষ্ট্র যথাযথ সম্মান দেখিয়ে তার স্মৃতি সংরক্ষণার্থে তার ঢাকার পলাশ বাড়িকে ডেভেলপারদের হাত থেকে রক্ষা করবেন এবং যোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে কবির জন্ম ও মৃত্যু দিবস এমনটিই প্রত্যাশা করেন কবিভক্তগণ।

সংস্কৃতি পাতার আরো খবর

মিঠুর একক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ‘ডিকনস্ট্রাকটিং’

সংস্কৃতি প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: চিত্রশিল্পী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা খালিদ মাহমুদ মিঠুর একক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী শুরু হয়েছে।& . . . বিস্তারিত

ঢাকা শহর প্রতিষ্ঠার ৪০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে শিল্পকর্ম প্রদশর্নী

সংস্কৃতি প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: শুরু হয়েছে শিল্পী কাজী সালাউদ্দিন আহমেদ এর একক শিল্পকর্ম (ইনসাইট) প্রদর্শনি।বাংলাদেশ শিল . . . বিস্তারিত

ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: ০১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: [email protected]