ভূমিহীনদের উঠোনে সোনালি ধান

০৯ জুন,২০১৩

শাহীনুর রহমান শাহীন
আরটিএনএন

পাবনা: পাবনার চাটমোহর বিলকুড়ালিয়ার ভূমিহীনদের ঘরে ঘরে উঠছে সোনালি ধান। মাঠে পুরোদমে চলছে ধান কাটা। হাসিমুখে ধান কাটছেন ভূমিহীন কৃষক। বিলপাড়ের ভূমিহীন পল্লীগুলোতে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

সরকারি বন্দোবস্তের মাধ্যমে বিশাল এক বিলের চাষাবাদের অধিকার পেয়ে বিলপাড়ের ভূমিহীন পরিবারগুলো  দুমুঠো খাবারের সংস্থান করতে পেরেছে। পেরেছে কলজের টুকরো ছেলেমেয়েদেরকে শিক্ষার জন্য বিদ্যালয়ে পাঠাতে। তাই তৃপ্তির হাসি তাদের মুখে মুখে।

শনিবার সরেজমিনে বিল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠে পুরোদমে চলছে ধান কাটা। পুরুষের পাশাপাশি ধান কাটা ও বাড়িতে নেয়ার কাজে অংশ নিচ্ছেন নারীরাও। ধান কেটে বাড়িতে নেবার পর মাড়াই করে রোদে শুকিয়ে ডোলে (গোলায়) তুলছেন বাড়ির গৃহিনীরা।

একদিকে বিশাল বিলের ৩৭১ একর খাসজমি, অন্যদিকে সংগঠিত ১৪শ’ ভূমিহীন পরিবার। আর এ দু’য়ের মেলবন্ধনে ২০ বছর ধরে চলছে বেঁচে থাকার সংগ্রাম। এ  সংগ্রামের ইতিহাস হলো পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিলকুড়ালিয়ার খাসজমি ও বিলপাড়ের ভূমিহীন পরিবারের।

সহায়-সম্বলহীন ভূমিহীন পরিবারগুলো বিলকুড়ালিয়ার খাসজমিতে একসনা লীজ পদ্ধতিতে চাষাবাদের ফসলে তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন। পরিবর্তন করছেন নিজেদের আর্থ-সামাজিক অবস্থারও।

দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বিলকুড়ালিয়ার খাসজমিতে ভূমিহীন নারী-পুরুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই আন্দোলন সংগ্রাম আজ দেশজুড়ে আলোচিত। তবে এখনও অর্জিত হয়নি ভূমিহীনদের অনেক প্রত্যাশিত বিলকুড়ালিয়ার খাসজমির স্থায়ী বন্দোবস্ত।

বিরূপ আবহাওয়া সত্ত্বেও এ বছর বিলকুড়ালিয়ার খাসজমিতে বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। আর ফলন ভাল হওয়ায় খুশির ঝিলিক ভূমিহীনদের চোখে-মুখে। বিলপাড়ের ভূমিহীন পল্লীগুলোতে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।


গত ২০ বছর আগে এ ধান উঠতো ভূমিগ্রাসীদের ঘরে। তবে ঐক্যবদ্ধ লড়াই সংগ্রাম করে তাদের বিল থেকে হটিয়ে বিলকুড়ালিয়ার খাসজমি নিজেদের দখলে নিয়ে চাষাবাদ করে আসছে ভূমিহীনরা।

ভূমিহীন নেত্রী রমেছা খাতুন ও চাম্পা খাতুন জানান, আগে দু’বেলা পেট ভরে খেতে পারতামনা। ছেঁড়া কাপড় পরতে হতো। বিলের খাসজমি চাষাবাদ করে পাওয়া ধানে এখন আমাদের ৬ থেকে ৯ মাসের খাবারের সংস্থান হয়। দু’বেলা খেয়ে পরে বাঁচতে পারছি। ছেলেমেয়েদের স্কুলে লেখাপড়া করাতে পারছি। আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হচ্ছে।

ভূমিহীনরা জানান, বিলের ৩৭১ দশমিক ২১ একর খাসজমি থেকে এবার অন্তত ২২ হাজার মণ ধান উৎপাদন হবে। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। ৩২টি অগভীর, ১টি গভীর এবং ১টি মিনি গভীর নলকূপ দিয়ে চাষাবাদ করা হয়েছে।

আলাপকালে ভূমিহীন নেতা হাসান আলী, রমিজ উদ্দিন জানান, ভূমিহীন উন্নয়ন তত্বাবধানে ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’র ‘অনুদানে উত্তরণ’র সহযোগিতায় আপার প্রকল্পে চলতি বছরে আমাদের প্রত্যেক ভূমিহীনকে ৩ হাজার ৩শ’ টাকা সুদমুক্ত মূলধন সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এতে করে এবছরে আমরা সুষ্ঠুভাবে চাষাবাদ করতে পেরেছি।

তারা আরও জানান, ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’র আর্থিক সহায়তা ভূমিহীনদের উন্নয়নে গতিশীল ভূমিকা রাখছে।

ভূমিহীন উন্নয়ন সংস্থা (এলডিও)-র নির্বাহী পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষক আতাউর রহমান রানা মাস্টার জানান, এই দীর্ঘ সময়ে ভূমিগ্রাসীদের বিল থেকে উচ্ছেদ করে তাদের দায়ের করা দেওয়ানী-ফৌজদারী ও প্রশাসনিক সকল মামলায় সরকারের পক্ষভুক্ত হয়ে তাদের পরাজিত করেছে ভূমিহীনরা। উচ্চ আদালত থেকেও ভূমিহীনরা সরকারের পক্ষে রায় এনেছেন।

তিনি বলেন, নিরঙ্কুশ খাসজমি হিসেবে সরকারের নামে ‌১নং খাস খতিয়ানে আরএস রেকর্ড হওয়ায় কৃষি খাসজমি বন্দোবস্তের নীতিমালা অনুযায়ী বিলকুড়ালিয়ার খাসজমি ভূমিহীনদের মাঝে স্থায়ী বন্দোবস্ত প্রদানের জন্য প্রশাসন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, একসান লীজে ভূমিহীনদের চাষাবাদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। স্থায়ী বন্দোবস্ত প্রদানের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের নেতৃত্বে ১৯৯২ সালে ভূমিগ্রাসীদের হটিয়ে বিলে লাল পতাকা উড়িয়ে বিলকুড়ালিয়ার ৩৭১ দশমিক ২১ একর খাসজিম দখল করে একসনা লীজ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে আসছে বিলপাড়ের ১৫টি গ্রামের প্রায় দেড় হাজার পরিবার।

উত্তরাঞ্চলে ভূমিহীন আন্দোলনের ইতিহাসে ১৯৯২ সন থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনটি নানারকম আঁকা-বাঁকা পথ পার হয়ে সফলতার দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে।

এখন স্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে সে সফলতা চূড়ান্ত রূপ পাবে বলে আশায় বুক বেঁধেছেন বিলপাড়ের হাজারো ভূমিহীন নারী-পুরুষ।

দেশজুড়ে পাতার আরো খবর

বোনের জমি দখলে নিতে বাবার লাশ জিম্মি!

নিজস্ব প্রতিনিধিআরটিএনএনসিরাজগঞ্জ: বোনের বিরুদ্ধে বাবাকে হত্যার মিথ্যা অভিযোগ এনে বাবার লাশ ঘরে তালাবদ্ধ করে রেখে বোনের . . . বিস্তারিত

হোটেল থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধার, ‘প্রেমিক’ গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধিআরটিএনএনকক্সবাজার: কক্সবাজার শহরে কলাতলি এলাকার আবাসিক হোটেল থেকে এক তরুণী পর্যটকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে . . . বিস্তারিত

ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: ০১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: [email protected]