পার্বত্য ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন

০৩ জুন,২০১৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন সংশোধন আইন ২০১৩’র চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের জানান, ‘আইনটি সংশোধনে পার্বত্য এলাকা নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। সব মহলের বক্তব্য বিবেচনা করেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে। এতে পাহাড়ি ও বাঙালি উভয়ে উপকৃত হবেন।’

তিনি বলেন, এ আইন বিষয়ে যারা উদ্বিগ্ন ছিলেন তাদের এটি আগাগোড়া পাঠ করা এবং গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনের সংশোধনী প্রস্তাব (খসড়া) বাতিলের দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচির মধ্যেই সোমবার এই চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হলো। এর আগে গত ২৭ মে এই আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পায়।

এরপর আইনটি বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে পার্বত্য জেলাগুলোতে। গতকাল রবিবার পার্বত্য তিন জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ (পিবিসিপি) ও ‘সম অধিকার আন্দোলন’ নামে দুটি সংগঠন।

এর আগে ৩০ মে একই দাবিতে সড়ক ও নৌ-পথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।

গত সপ্তাহে মন্ত্রিসভা পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন-২০১৩ এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয়। ১৯৯৭ সালে সম্পাদিত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির আলোকে ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য এই কমিশনকে আরো তৎপর ও কার্যকর করাই ছিল মূলত এর লক্ষ্য।

উপজাতি ও বাঙালি নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তৈরি এ সংশোধনীতে প্রস্তাব করা হয় যে, অবৈধভাবে দখলকৃত ও শরণার্থী পুনর্বাসনে ব্যবহৃত পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল ভূমি এই কমিশনের আওতায় আসবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী একজন উপজাতি সদস্য অথবা তাদের সমপ্রদায়ভুক্ত কোনো ব্যক্তি এ কমিশনের সদস্য সচিব হওয়ার ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের একজন সার্কেল প্রধান যদি সদস্য হিসাবে কমিশন আহুত বৈঠকে হাজির হতে না পারেন, সেক্ষেত্রে তিনি যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়ার পূর্ণ কর্তৃত্ব দিয়ে একজন প্রতিনিধি পাঠাতে পারবেন।


মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কমিশন চেয়ারম্যান (আপিল বিভাগের অব. বিচারপতি)সহ অধিকাংশ কমিশন সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে এই কমিশন যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। সংশোধনীতে আরো প্রস্তাব করা হয় যে, ভূমি মন্ত্রণালয় এর আইনের বাস্তবায়নে তিন মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান প্রণয়ন করতে পারবে।

এদিকে, মন্ত্রিসভা দেবোত্তর সম্পত্তির যথাযথ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এবং সম্পত্তি হস্তান্তর সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণায় দেবোত্তর সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১৩ এর খসড়াও চূড়ান্ত অনুমোদন করেছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকার হিন্দু সমপ্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করতে আইনটি প্রণয়ন করার উদ্যোগ নেয়। আইনে সম্পত্তির অব্যবস্থাপনার জন্য শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার আইন অনুযায়ী একটি ম্যানেজমেন্ট বোর্ড গঠনের মাধ্যমে হিন্দু সমপ্রদায়ের দেবোত্তর সম্পত্তির একটি তালিকা প্রণয়ন করবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই আইন দ্বারা মুসলমানদের ওয়াকফ সম্পত্তির ন্যায় হিন্দু সমপ্রদায়ের দেবোত্তর সম্পত্তির যথাযথ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে। আইনটি জাতীয় সংসদের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বোর্ড গঠিত হবে। বোর্ডের সদস্য সচিব থাকবেন যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কোনো হিন্দু সরকারি কর্মকর্তা।

তিনি আরো বলেন, আইনটি বাস্তবায়ন হবার পর দেবোত্তর সম্পত্তির অপব্যবহার হ্রাস পাবে। এ ধরনের সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ন্ত্রিত হবে। হিন্দু সমপ্রদায়ের সদস্যদের উন্নয়নের জন্য এই সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত হবে এবং হিন্দু সমপ্রদায়ের সদস্যরা এর সুফল পাবেন।

বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর

ঢাকার তাপমাত্রা ৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

নিজস্ব প্রতিনিধিআরটিএনএনঢাকা: রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রা ক্রমে বেড়ে বিগত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বুধবার ঢ . . . বিস্তারিত

বেদনাবিধূর শ্রমিক হত্যার প্রথম বার্ষিকী বৃহস্পতিবার

শামছুজ্জামান নাঈমআরটিএনএনঢাকা: ফিরে এলো বেদনাবিধূর ২৪ এপ্রিল। গত বছরের এই দিনে সাভারে যুবলীগ নেতা সোহেল রানার মালিকানাধী . . . বিস্তারিত

ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: ০১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: [email protected]