রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস থেকে বাঁচতে নেতারা আদালতে যাননি: জামায়াত

০৯ জুন,২০১৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস থেকে বাঁচতে জামায়াত নেতারা আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি বলে দাবি করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমদ।

ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের নেতাকে সাজা দেয়ার পর রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই দাবি করেন।

বিবৃতিতে, দেশব্যাপী গণগ্রেপ্তার, গণনির্যাতন বন্ধ, জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করার সরকারি ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের প্রতিবাদে আগামীকাল সোমবার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেয়া হয়।

এতে বলা হয়, ‘সরকার জাময়াতকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য দেশব্যাপী অব্যাহতভাবে গণগ্রেপ্তার, গণনির্যাতন চালাচ্ছে। তারা জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে সাজানো মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাদেরকে শাস্তি দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে।’

জামায়াতের আমির অভিযোগ করেন, প্রায় ২২ মাস যাবৎ জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও মহানগরী কার্যালয়সহ বিভিন্ন জেলা কার্যালয় অবরুদ্ধ ও বন্ধ করে রেখেছে পুলিশ। সংবিধান স্বীকৃত গণতান্ত্রিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে কোথাও কোনো মিছিল বা সভা-সমাবেশের আয়োজন করলেই হামলা চালিয়ে পুলিশ তা পণ্ড করে দিচ্ছে।

‘দলীয় কোনো বৈঠক হলেই পুলিশ তাতে হানা দিয়ে নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠক বলে গ্রেপ্তার ও মিথ্যা মামলা দায়ের করছে। সরকারের ৫৪ মাসের শাসনামলে সারা দেশে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের ৪৩ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রিমান্ডে নেয়া হয়েছে প্রায় পাঁচ সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে। মামলা দেয়া হয়েছে ২৬ হাজারের মতো। মিথ্যা অভিযোগে আসামি করা হয়েছে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক’ যোগ করেন তিনি।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ‘মহিলারাও সরকারের জুলুম-নির্যাতন থেকে রেহাই পায়নি। পর্দানশীন ছাত্রীদেরকে গেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে শুধু নারী অধিকার নয় মানবাধিকারও লংঘন করেছে সরকার।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘মন্ত্রীরা ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলা সম্পর্কে যে সব বক্তব্য দিয়েছে তাতে সরকারি চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র বুঝতে জনগণের বেগ পেতে হয়নি। বিচার করছে আদালত আর রায়ের দিন, তারিখ ও সময় উল্লেখ করে অব্যাহতভাবে বক্তব্য রেখে চলেছেন সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা। এমনকি রায় কার্যকর করার দিন-তারিখ-সময়ও তারা নির্ধারণ করে ফেলেছেন।’

তিনি বলেন, ‘স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে সমাবেশের দাবি বিবেচনায় নিয়ে বিচারপতিগণ রায় দিবেন আশা করি মর্মে বক্তব্য রেখেছেন। তথ্যমন্ত্রী জুলাই-আগস্ট মাসে বিচারের রায় কার্যকর করা হবে বলে প্রকাশ্যে বক্তব্য রেখেছেন।’

‘মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ৩ জুন গোলাম আযমের মামলার রায় ঘোষণা করা হবে মর্মে বক্তব্য রেখেছেন। ইতিপূর্বে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, দপ্তর বিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এবং সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী আদালতকে ডিক্টেট করে বক্তব্য রেখেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিশরে গিয়ে মামলার রায়ের দিন-তারিখ নির্ধারণ করে বক্তব্য রেখেছেন। আদালত দৃষ্টি আকর্ষণমূলক কিছু নির্দেশনা দিয়ে এ সব আবেদনের নিষ্পত্তি করেন’ যোগ করেন মকবুল আহমাদ।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করলাম, মাননীয় ট্রাইব্যুনাল হামিদুর রহমান আজাদ এমপি ও সেলিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে আদালতে সশরীরে উপস্থিত হতে বলেন। পরবর্তীতে মাওলানা রফিকুল ইসলামের নামও সংযুক্ত করা হয়। প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে আদালতের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিলেও সরকারি দলের মন্ত্রী-এমপিদের কাউকে আদালত অবমাননার অভিযোগে সশরীরে আদালতে উপস্থিত হতে বলা হয়নি।’

‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস থেকে আত্মরক্ষার জন্য জামায়াত নেতারা আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। পরবর্তীতে সেলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে তার ওপর যে শারিরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে তা থেকে জামায়াত নেতাদের ওপর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও নির্যাতন চালানোর আশঙ্কা সত্যে পরিণত হয়’ যোগ করেন জামায়াতের আমির।

তিনি বলেন, ‘মাননীয় ট্রাইব্যুনাল জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, মহানগর নায়েবে আমির ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ এমপি ও মহানগর সহকারি সেক্রেটারি সেলিম উদ্দিন এর বিরুদ্ধে আজ যে আদেশ দিয়েছেন, আদালতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক বলতে চাই- জামায়াত নেতারা তাতে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।’

মকবুল আহমাদ বলেন, ‘সরকারের উদ্দেশ্যই হলো- জামায়াত নেতৃবৃন্দকে যেনতেন উপায়ে শাস্তি দিয়ে জামায়াতকে সমূলে উৎপাটন করা। এ উদ্দেশ্যে সরকার দেশব্যাপী জামায়াত-শিবিরের উপরে অব্যাহত জুলুম-নির্যাতন ও গণগ্রেপ্তার চালাচ্ছে।’

তিনি দাবি করেন, রিমান্ডে নিয়ে শিবির সভাপতিকে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে গায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করা হয়েছে অনেককে। থানায় নিয়ে গ্রেপ্তারকৃত শিবির নেতাদের অনেকের চোখ তুলে নেয়া হয়েছে।

রাজনীতি পাতার আরো খবর

এক ব্যক্তির বর্বর দুঃশাসনে পিষ্ট মানুষ: খালেদা

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, বর্তমানে দেশে কোন আইনের শাসন নেই। এক ব্যক্তির ই . . . বিস্তারিত

জিয়া প্রথম রাষ্ট্রপতি, আসেন প্রমাণ দিব: আজাদ

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) সভাপতি এস এম আবুল কালাম আজাদ দাবি করেছেন, ‘জ . . . বিস্তারিত

ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: ০১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: [email protected]