নিষিদ্ধ কেমন হয়

মোরশেদুল ইসলাম ২৬ ফেব্রুয়ারি,২০১৩
মোরশেদুল ইসলাম

কেমন করে, কিভাবে শুরু করলে অল্প কথার মধ্যে একটা সাধারণ ভাবনাকে আয়ত্তে আনা যাবে সেভাবে লিখতে চাই।

চারদিকে একটা ‘বিক্ষোভ’ উঠেছে যে ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। শাহবাগে তরুণ বন্ধুরা জড়ো হয়েছে ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার স্লোগান দিচ্ছে। বাম, ডান, সাধারণ-অসাধারণ সবাই একই তালে, একই সুরে বলছে নিষিদ্ধ চাই, নিষিদ্ধ চাই।

কিন্তু নিষিদ্ধ কেন করতে চাই? নিষিদ্ধ  হয়ে গেলেই কি কার্যে পরিণত  হয়? আবার যেটাকে এখন কার্য মানছি সেটা কি? অর্থাৎ কার্য কিভাবে ঠিক হয়, আলোচনা করতে গেলে এসব প্রশ্ন আমাদের সামনে চলে আসে।

শুনেছি শাহবাগে ‘দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ’ শুরু হয়েছে। এই দুই মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ রুপ এক না হলেও এক জায়গায় একই রকম। সেটা হল একাত্তরে যেমন পাকিস্তানি শাসক শ্রেনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধটাকে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বলে প্রতিষ্ঠা করতে চাওয়া, অনেকটা পারাও। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এখন ইসলামি বা ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার মধ্য দিয়ে তা করা।

কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে  অন্য জায়গায়, মানে নিষিদ্ধ  করা সরল  ব্যাপার নয়। আপনি আইন জারি করে দিলেন, আর সাথে সাথে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিল এরকম সরল নয়। প্রশ্নটা হচ্ছে আপনি আইন করে নিষিদ্ধ করতে চাচ্ছেন কেন? আপনার কি এর বিরুদ্ধে লড়াই করার আর কোন সৎ সাহস নেই? নাকি আপনার সেই নীতি বা কৌশল ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর চিন্তা, নীতি ও কৌশল বা আদর্শের কাছে মার খাচ্ছে। মুখ থুবড়ে পড়ছে অথবা মুখ থুবড়ে পড়ার সম্ভবনায় আসন্ন। কোনটা?

আমাদের কাছে এর একটা উত্তর আপনি আইন করে ঠিক করে দিচ্ছেন। যদি নিষিদ্ধ করাটাকে যৌক্তিক মনে করেন। মানে আমাদের কাছে পরিষ্কার যে আপনি ধর্মের চিন্তা, নীতি বা আদর্শের সাথে পেরে উঠছেন না। তাই নিষিদ্ধ করাকে ফায়সালা ভাবছেন।

কিন্তু আপনিও জানে, নিষিদ্ধ করা কোন  ফায়সালা হতে পারে না, নয়ও। কারণ নিষিদ্ধ করার মধ্য দিয়ে একটা নাম ‘ধর্ম’ বা ‘ইসলাম’ মাত্র আপনি আইনের খাতায় নিষেধ করছেন মাত্র। এর মধ্য দিয়ে ধর্মের কোন কার্যকরণ সম্পর্ক আপনার বিচারের আওতায় আনতে পারবেন না। কারণ আইন জারি করার মধ্য দিয়ে কোন নীতি, আদর্শের বা ধর্মের চিন্তা কার্যত নাকচ করে দেয়া বোঝায় না, নাকচ হতে পারে না।

যে চিন্তা বা আদর্শ চিন্তার মধ্যে সমাজের বৈষয়িক পরিস্থিতির মধ্যে হাজির থাকে, আছে, থাকতে বাধ্য তাকে আপনি কোন আইন বলে নিষিদ্ধ করবেন। ধর্মের গুরুত্ব নাকচ হয়ে যায় তখন যখন ধর্মের বাস্তব শর্ত বৈষয়িক জীবনে আর থাকে না। সেই ধরনের জীবনের মধ্যেই ধর্ম অপ্রয়োজনীয়, অপ্রাসঙ্গিক, বিলুপ্ত বা নাকচ হয়ে যায়। আইন বা গায়ের জোরে ধর্ম, ধর্মীয় সংগঠন নাই করে দেয়া যায় না। ধর্মের বিরুদ্ধে এই ধরনের আস্ফালন কোন প্রগতিশীলতা নয়। সাধারণ জনগণের কাছে এই আইন বা গায়ের জোর ধর্মকে আরো সত্য আরো স্পষ্ট করে তোলে। ধর্মের প্রতি জনগণের উৎসাহ উদ্দীপনা আরো গতিশীল করে তোলে। কারণ ধর্মের শক্তিকে আইনের খড়গে আরো সত্য, জীবন্ত করে তুলতে বাধ্য করছেন আপনারা।

এর ফলে সত্যিকারের সাংস্কৃতিক অগ্রগতি অনেক দুরের পথ হয়ে দাঁড়াবে। জনগণের মধ্যে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের বিকাশের পথে, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পথে সমযোতার বিপরীতে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি করবে। সেটা জনগণের রাজনৈতিক ভেদ ও পার্থক্যের চেয়ে ধর্মের ফারাকটাই প্রধান করে তুলবে। যা কোন রাজনৈতিক জনগোষ্ঠির জন্য মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না।

মোরশেদুল ইসলাম: শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। [email protected]

অন্যান্য কলাম

adv

ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: ০১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: [email protected]