সর্বশেষ সংবাদ: |
  • প্রধান বিচারপতির মায়ের ইন্তেকাল

ভারতীয় সমাজে কন্যাশিশুর আসল চিত্র

কামরুল ইসলাম ২২ জানুয়ারি,২০১৩
কামরুল ইসলাম

২৪ জানুয়ারি ভারতে পালিত হয় জাতীয় শিশুকন্যা দিবস। কন্যাশিশু বা শিশুকন্যার প্রকৃত  যত্ন-আত্তি, তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ শারীরিক মানসিক সবধরনের উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই দিবসটি নিবেদিত। এজন্য রয়েছে সরকারের বিভন্ন প্রকল্প। রয়েছে বিশেষ বাজেট।

সমাজে কন্যাশিশুর অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে অনেকগুলো সংগঠন। তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে তৎপর রয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। রয়েছে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি। কিন্তু সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে নারীর প্রতি হীন আচরণ, হত্যা-ধর্ষণ, নির্যাতন আর নৃসংশতার যে বেশুমার নজির রয়েছে ভারতীয় সমাজে তা থেকে উত্তরণ কোথায়?

নারীর প্রতি অবজ্ঞা-অবিচার-নির্মমতার প্রবল প্রতাপি ধারা অনিবার্যভাবে শিশুকন্যার দিকেও ধাবিত। এর একটি সবচাইতে হৃদয়ভাঙ্গা বাস্তবতা হচ্ছে ভারতীয় সমাজে কন্যাভ্রূণ হত্যার ব্যাপকতা। ভারতে জাতীয় শিশুকন্যা দিবসের প্রাক্কালে জি নিউজের বাংলা নিউজ পোর্টাল ২৪ঘন্টা ডটকম এক প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে সমাজের ভেতরের সেই নির্মম বাস্তবতার কথা।

২৪ জানুয়ারি ফিবছরের মতোই আসছে জাতীয় শিশুকন্যা দিবস। কিন্তু তার আগে দেশে মেয়েদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সমীক্ষা যথেষ্ট উদ্বেগ তৈরি করেছে। কন্যাভ্রূণ হত্যার মত ভয়ঙ্কর সমস্যার বাড়বাড়ন্ত এবং অপুষ্টি ও নারী শিক্ষার হতাশাজনক ছবি ক্রমেই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

আজকের নারী আর চার দেওয়ালের মধ্যে আবদ্ধ নয়। শিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা, কোনও ক্ষেত্রেই পিছিয়ে নেই আজকের অর্ধেক আকাশ। কিন্তু প্রদীপের নীচে পিলসুজের মতই আজকের নারীর এই এগিয়ে চলার আড়ালে রয়েছে অন্য এক উদ্বেগ। দেশে যখন সমারোহে পালিত হচ্ছে জাতীয় শিশু কন্যা দিবস। তখন দেশেরই বিভিন্ন প্রান্তে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে কন্যা ভ্রূণহত্যার সংখ্যা। গ্রাম কিংবা শহরের গণ্ডি পেরিয়ে সারা দেশে ব্যাধির মত ছড়াচ্ছে এই সমস্যা।

আইন প্রণয়ন হলেও তার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে। জি রিসার্চ গ্রুপের সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০০৯ জাতীয় শিশুকন্যা দিবস থেকে সারা দেশে মোট ৪৮১টি কন্যাভ্রূণ হত্যার অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কিন্তু চার্জ গঠন হয়েছে মাত্র ২৭টি মামলার। ২০১১-১২ সালে ২৭৯টি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য বেআইনি ডায়গনস্টিক সেন্টার। যেগুলিতে প্রতিনিয়ত আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলছে গর্ভপাত।

২০১২ সালের অক্টোবরে মহারাষ্ট্রের থানেতে অভিযান চালানোর পর একশটি বেআইনি গর্ভপাত কেন্দ্র এবং ৩১৯টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিল করার নির্দেশ দেন জেলাশাসক। রয়েছে অন্য সমস্যাও। পরিসংখ্যান বলছে, সমগ্র দেশে শিশুপুত্রের তুলনায় কমছে শিশুকন্যার সংখ্যা। সবচেয়ে উদ্বেগজনক ছবি হরিয়ানার ঝাজ্জর এবং মহেন্দ্রগড় জেলার।

শিশুকন্যাকে পৃথিবীর আলো দেখানোর মতোই তাকে স্কুলে পাঠানোর পরিসংখ্যানের ছবিটাও উদ্বেগজনক। জি রিসার্চ গ্রুপের সমীক্ষা অনুযায়ী, একটি ৫ থেকে ২৯ বছরের ছাত্রের ক্ষেত্রে শিক্ষাখাতে বছরে যা ব্যয় হয় ছাত্রীর ক্ষেত্রে তা অনেক কম হয়ে থাকে। বিহার এবং রাজস্থানে মেয়েদের স্বাক্ষরতার হার সবচেয়ে খারাপ।

এসবের সঙ্গে রয়েছে অপুষ্টিজনিত সমস্যা। সমীক্ষার রিপোর্ট অনুসারে ২০১১ সালে ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ শিশুকন্যা অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগেছে। ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেল্থ সার্ভে অনুসারে মেয়েদের মধ্যে বাড়ছে রক্তাল্পতার সমস্যা। অসম, ঝাড়খণ্ড ৬৯.৫ শতাংশ নারী রক্তাল্পতার শিকার। তারপরেই রয়েছে বিহার এবং ত্রিপুরা। যথাক্রমে ৬৭ দশমিক ৪ এবং ৬৫ দশমিক ১ শতাংশ।

তবে এইসব সমস্যা সত্ত্বেও নারী শক্তি জাগরণে কিশোরী শক্তি প্রকল্প ও রাজীব গান্ধী প্রকল্পের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। নারীর বিকাশ, পুষ্টি, স্বাস্থ্য, শিক্ষার উন্নয়নে ও প্রসারে কার্যকর ভূমিকা নিয়েছে এই দুটি প্রকল্প। ২০০৮-০৯ কিশোরী শক্তি প্রকল্পে ৫২ দশমিক ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। ২০১২-১৩ সেই বরাদ্দ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯৬ দশমিক ৭৩ কোটি টাকা।

সব মিলিয়ে কন্যাশিশুর সূচনা থেকে তার লালন বর্ধন উন্নয়নে ভারতীয় সমাজের চেহারাটা অনেকটাই হতাশাজনক। এ জন্য সমাজের মানুষের নির্মম মনোবৃত্তি আর আইনের অকার্যকারিতা বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কামরুল ইসলাম: সাংবাদিক।

অন্যান্য কলাম

adv

ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: ০১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: [email protected]