ছাত্রীসংস্থার কর্মী গ্রেপ্তার সেক্যুলারদের জন্য ‘হিতে-বিপরীত’

উম্মু আবীহা ২০ ডিসেম্বর,২০১২
উম্মু আবীহা

নিউজ ডেস্ক, ২০ ডিসেম্বর (রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম)-- যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম সিএনএন- এর অনলাইন সংস্করণে নাগরিক সাংবাদিকতার প্ল্যাটফর্ম ‘আই রিপোর্ট’।

আই রিপোর্টে জনৈক ফ্রি-ল্যান্স প্রতিবেদক উম্মু আবীহার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সম্প্রতি বাংলাদেশের ইসলামী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রী সংগঠন ইসলামী ছাত্রীসংস্থার বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীসহ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের স্ত্রীকে রাজধানী ঢাকার মগবাজারের একটি বাড়ি থেকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি।

১৯ ডিসেম্বর বুধবার সিএনএন- এর অনলাইন সংস্করণে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুদিন ধরেই একটি সংগঠিত প্রতিষ্ঠান আকারে হাজির রয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী। নিজেদের পকেটের অর্থ যোগান দিয়ে রাজনীতি পরিচালনা করে থাকে দলটি।

পুরুষদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লেও নানা কারণে বাংলাদেশের নারী সমাজে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি এই ইসলামী আন্দোলনের কার্যক্রম। সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা নিয়ে ব্যাখ্যা হাজির করতে না পারায় নারীদের মাঝে এই আন্দোলন সাড়া জাগাতে পারেনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে এতে।

সেখানে বহু পাঠকের মন্তব্য-পাল্টা মন্তব্যে ব্যক্তিগত মানবাধিকার, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এর প্রভাবসহ নানা দিক নিয়ে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ছে।

মূল সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে ছাত্রদের সংগঠন প্রতিনিধিত্ব করে ইসলামী ছাত্রশিবির। আর ছাত্রীদের রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করতে রয়েছে ইসলামী ছাত্রীসংস্থা।

দলটির নারীকর্মীদের ক্ষেত্রে গ্রেপ্তারের এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন এর আগে কখনো হতে হয়নি। আর হাজতে গিয়ে তারা প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎ পাবে উগ্র, আক্রমণাত্মক এবং সম্ভবত উন্মাদ ধরনের লোকদের। তারা হয়তো দেখতে পাবে সেইসব দুঃসাহসী মহিলাদের যারা পেশাদার কিলার অথবা স্মাগলার কিংবা চুরি অথবা পতিতা বৃত্তির সাথে জড়িত।

তবে এটা তাদের সমাজের বাস্তবতা উপলব্ধিতে সহায়তা করবে। এটা তাদের আরো সাহসী ও দৃঢ় মনোবল করে তুলতে পারে। পুরুষের সহযোগিতা ছাড়া নিজেদের কঠিন অবস্থা মোকাবেলায় প্রস্তুত হয়ে যেতে পারে তারা।

যদিও সরকারের এ ধরনের বাড়াবাড়ি ও অনধিকার প্রবেশ সকল নিয়ম-নীতি ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন, এর মাধ্যমে জামায়াতের মহিলাকর্মীরা একটা মাঝামাঝি অবস্থান অর্জনের সুযোগ পাবে, যার ফলে তাদের নগণ্য ভাবার দিন ফুরিয়ে যাবে।

জামায়াতে ইসলামীসহ এর অংগসংগঠনগুলোর ওপর দিন দিন নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণ এবং দলটির রাজনৈতিক পথ পরিক্রমা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলা হয়েছে, এই গ্রেপ্তারের ফলে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের পক্ষ থেকে যে কঠোর আন্দোলনের দাবি রয়েছে, তার দিকে নজর দেবে কেন্দ্রীয় নেতারা।

দলটির হাইকমান্ডের বিরাট অংশ কঠোর কর্মসূচির সিদ্ধান্তে যেতে একটা মাত্রায় গড়িমসি বা সংশয়ে ভোগে, এই অবস্থা থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে প্রেরণা যোগাতে পারে এই নিন্দনীয় ঘটনা।

এই ঘটনা দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী সমাজের বিশেষ সহানূভূতি পেতে সহায়তা করবে দলটিকে। যদিও বাংলাদেশের সমাজে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নারীদের ওপর নির্যাতনকে নারী-পুরুষ সবাই সহানভূতির দৃষ্টিতেই দেখে থাকে।

ইসলামী ছাত্রীসংস্থার এই নারীকর্মীদের প্রতি দুর্ব্যবহারের ফলে ব্যাপকভাবে দেশের সচেতন নারী সমাজ ক্ষুব্ধ হবে, তাদের প্রতি সরকারের অন্যায় আচরণে গভীরভাবে বিরক্ত হতে পারে। যার ফলে জামায়াতের রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হতে শুরু করতে পারে তারা।

সেই অর্থে সরকার একটি কঠিন পথে পা বাড়িয়েছে। দেশের ব্যাপক জনগোষ্ঠীর সমর্থন ধরে রাখা তাদের জন্য বন্ধুর হবে। এমনকি কিছু সংখ্যক অন্ধভক্ত ছাড়া নিজেদের সমর্থকদেরও ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।

সরকারের এই পদক্ষেপের কারণে নোংরা কাজের অভিযোগ আনার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। অবাক হবার কিছুই থাকবে না যদি এই নারীদের মধ্যে কেউ কেউ বিশেষত: কোন তরুণ বয়সের নারী শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়।

যদি এমনটাই ঘটে তবে সেটা শুধু সরকারের প্রতি জনগণের ব্যাপক ক্ষোভের কারণই হবে না বরং এটা বাম ঘরানার তথাকথিত মানবাধিকার কর্মীদের জন্যও কঠিন অবস্থা সৃষ্টি করবে। তারা তো দেশে বড় ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাকেও অনায়াসে পাশ কাটিয়ে যেতে অভ্যস্ত।

নিশ্চিতভাবে এটা বলা যায় যে, ইসলামী আন্দোলনের এই নারী কর্মীদের আটকের ফলে তাদের লড়াই একটি ভিন্ন মাত্রা পেতে যাচ্ছে। এর ফলে আমরা হয়তো প্রথমবারের মতো দেখতে পাবো বাংলাদেশের জয়নাব আল গাজালীরা জন্ম নিয়েছে এবং দেশে নতুন এক বিপ্লব দানা বাঁধতে শুরু করেছে।

রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম/সিএনএন/এএ/কিউআই/এমআই_ ২৩০৪ ঘ.

অন্যান্য কলাম

adv

ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: ০১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: info@rtnn.n[email protected]