চীনের পরে খালেদার দিল্লি সফর এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

সিরাজুর রহমান ২৬ অক্টোবর,২০১২
সিরাজুর রহমান

বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চীন সফর ষোলো আনা সফল হয়েছে বলেই মনে হয়। তার আট দিনের মাথায় বেগম জিয়া আগামী পরশু রোববার পাঁচ দিনের ভারত সফরে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থানে গভীর আগ্রহী আরো একটি দেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এই তিন বড় শক্তির সাথে সুসম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির চাবিকাঠি। সে হিসেবে চীনের পরে ভারত সফর এবং তারপর ওয়াশিংটনের সাথে লেনদেন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হতে বাধ্য।

প্রায় ধরেই নেয়া যায় যে, গণচীনের পরবর্তী নেতা হবেন বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জি জিনপিন। গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হলে যেমন জিয়ার সাথে বৈঠকে তিনি অনেক সৌহার্দ্য আর বন্ধুত্বের কথা বলেছেন। সেটা অবশ্যই প্রত্যাশিত ছিল। চীনের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের স্থপতি ছিলেন বেগম জিয়ার স্বামী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়াউর রহমান। জি জিনপিন সে ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ করেন এবং শহীদ জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। খালেদা জিয়ার বিজ্ঞ নেতৃত্বে দুই দেশের সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে সর্বশেষ স্বীকৃতি দেয় গণচীন, ১৯৭৫ সালের শেষার্ধে। স্বাধীনতার পরেও কয়ক মাস (১৯৭২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত) ভারতীয় সৈন্যরা বাংলাদেশে মোতায়েন ছিল। তার পরও চীন স্বীকৃতি দিতে আপত্তি করেছে বাংলাদেশ ভারতের দখলে আছে, এই অজুহাত দিয়ে।

রক্ষীবাহিনী ভারতীয় সেনাবাহিনীর অনুরূপ ইউনিফরম পরত এবং ভারতীয় জিপে চলাচল করত সম্ভবত সে কারণে। প্রকৃত কারণ এই ছিল যে, স্নায়ুযুদ্ধের সে তুঙ্গের যুগে চীনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ব্যাপারে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বস্তুত ১৯৭৯ সালের আগে গণচীনের সাথে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়নি। আলাপ-আলোচনার সে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়ে চীন পাকিস্তানকে অখুশি করতে চায়নি।

গ্রেট হলের বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জি জিনপিন বিএনপির সাথে তার দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন এবং বলেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরো উন্নত হবে। খুলে না বললেও চীনা নেতা অবশ্যই জানেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচন হলে বিএনপি আবারো ক্ষমতায় আসবে এবং খালেদা জিয়া চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হবেন। অবশ্য সে কারণে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কমিউনিস্ট পার্টির নেতারাও গুরুত্বসহকারে বেগম জিয়ার সাথে আলোচনা করেছেন।

বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশের উন্নয়নে চীনের ভূমিকা সবিশেষ উল্লেখযোগ্য এ কারণে যে, চীনের সাহায্য ছিল পুরোপুরি শর্তবিহীন। বুড়িগঙ্গার ওপর দু’টি মৈত্রী সেতুসহ সারা দেশে অনেক সেতু নির্মাণ করে চীন ইতোমধ্যে বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। রাজধানী ঢাকায় চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রটিও বাংলাদেশের জন্য চীনের উপহার। অবশ্য শেখ হাসিনা তার নামবদল অভিযানের অংশ হিসেবে এ কেন্দ্রটির কপালেও নিজের বাপের নাম লিখে দিয়েছেন।

খালেদা জিয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট জি জিনপিনকে বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ সব সময় চীনকে বিশেষ বন্ধু মনে করে। তিনি আশা করেন, বাংলাদেশের অবকাঠামোগত ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

গভীর সমুদ্রবন্দর এবং সড়ক ও রেল যোগাযোগ
বেগম জিয়ার পূর্ববর্তী সরকারের আমলেও গণচীন চট্টগ্রামে একটা গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিল। তা ছাড়া বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে মিয়ানমার হয়ে সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপন নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। বিগত পৌনে চার বছর শেখ হাসিনার সরকারের একদেশদর্শী ভারতনির্ভর নীতির কারণে সে প্রস্তাব ও মতৈক্যগুলো হয়েছে অবহেলিত।

খালেদা জিয়া বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন, এ সম্ভাবনায় চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কোন্নয়ন এবং দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থা সম্বন্ধে নতুন করে আশাবাদ দেখা দিয়েছে। আরো একটা সুফল হয়েছে বেগম জিয়ার বেইজিং সফরে। তার বিগত সরকারের আমলে কোনো কোনো আমলার অতি-উৎসাহের কারণে বাংলাদেশে তাইওয়ানের বিনিয়োগের প্রসঙ্গ ওঠে। ফলে দুই দেশের উষ্ণ সম্পর্কে কিছুটা ভাটা পড়েছিল বলে আশঙ্কা হচ্ছিল। এখন মনে হচ্ছে, সে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে।

চীনের নেতাদের সাথে খালেদা জিয়ার আলাপ-আলোচনার বিভিন্ন দিক সম্বন্ধে দিল্লির নেতারা অবশ্যই গভীর আগ্রহী। মুখে তারা যতই বলুন, চীনের সাথে ভারতের সম্পর্ক আদর্শস্থানীয় নয়। এশিয়ায় আধিপত্য নিয়ে তাদের প্রতিযোগিতা পুরনো ও স্বাভাবিক।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চল্লিশ আর পঞ্চাশের দশকে সোভিয়েত কমিউনিস্ট সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে সামরিক বলয় সৃষ্টির লক্ষ্যে পাকিস্তানের ওপর ভিত্তি করে তাদের রণকৌশল গড়ে তুলেছিল। বর্তমান সময়ে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রভাবের বিরুদ্ধে ভারতের ওপর ভিত্তি করে অনুরূপ একটা বলয় সৃষ্টি ওয়াশিংটনের লক্ষ্য বলে মনে হয়। সে প্রয়াস অবশ্যই চীনের কাম্য নয়।

হিমালয়ের ওপর উত্তর পূর্ব ভারতের অরুণাচলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে ভারত-চীন বিরোধ পুরনো। ১৯৬২ সালের নভেম্বরে সেখানে প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়। তখন যুদ্ধবিরতি হলেও সীমান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। বস্তুত ভারতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে আরো একটি যুদ্ধ আসন্ন এবং উভয় দেশই সেখানে সমরশক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে। তা ছাড়া ভারত মহাসাগরে আধিপত্য নিয়ে চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটা ত্রিমুখী প্রতিযোগিতা আছে। দিল্লি কিংবা ওয়াশিংটন সে কারণে বেইজিংয়ের সাথে বাংলাদেশের বেশি মাখামাখি চাইবে না।

খালেদা জিয়াকে সযত্নে এ কথা ভারতীয় নেতাদের বোঝাতে হবে যে, চীনের সাথে সৌহার্দ্যরে অর্থ ভারতের স্বার্থের বিরোধিতা নয়। বিগত তিন দশকে বাংলাদেশের সব সরকারই বলছে, ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়’ এটাই হচ্ছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমল থেকে বিএনপি এই নীতিতেই বিশ্বাস করে আসছে। বস্তুত রাষ্ট্রপতি জিয়ার উদ্যোগ ও আগ্রহে সার্ক সংস্থাটিও গঠিত হয়েছিল এ উদ্দেশে।

অশালীন হস্তক্ষেপ
খালেদা জিয়া এমন সময়ে ভারত সফরে যাচ্ছেন, যখন বাংলাদেশের ব্যাপারে ভারতীয় মিডিয়া, এমনকি ভারত সরকারের আচরণও সৎ প্রতিবেশীসুলভ বলা যাবে না। বাংলাদেশে একটা প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার অর্জনের লক্ষ্যে দেশের সব মানুষ নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য আপসবিমুখ হয়ে উঠেছে।

এমতাবস্থায় ভারত সরকার এ ধারণা সৃষ্টি হতে দিচ্ছে যে, তারা যেকোনো মূল্যে শেখ হাসিনার জনসমর্থনবিহীন সরকারকেই গদিতে রাখতে চায়। নির্বাচন হলে হাসিনার নেতৃত্বাধীন দল পরাজিত হতে পারে বলে একশ্রেণীর ভারতীয় মিডিয়ার বিলাপ অশালীন এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে অন্যায় হস্তক্ষেপ বলে বিবেচিত হতে পারে। এ দিকটার প্রতি ভারতীয় নেতাদের দৃষ্টি বিশেষভাবে আকর্ষণ করতে হবে বেগম জিয়াকে।

বাংলাদেশ সৃষ্টির আগে ভারতের, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের জনসাধারণের সাথে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্বের, যদিও ভারত সরকারের সাথে পাকিস্তান সরকারের সম্পর্ক বলতে গেলে কখনোই বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল না। বর্তমান সময়ে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিপরীত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারতের সাথে শেখ হাসিনার সরকারের সম্পর্ক অতিমাত্রিক বন্ধুত্বের, বলতে গেলে নতজানু। দুই হাজার দশ সালের জানুয়ারি মাসে দিল্লি সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতকে কী কী দিতে সম্মত হয়ে এসেছেন, বাংলাদেশের মানুষ এখনো জানে না। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সড়ক, রেল ও নদীপথে ভারতকে করিডোর ও ট্রানজিটদানের এবং চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর দু’টির ব্যবহার ভারতের জন্য উন্মুক্ত করার আয়োজন অনেকখানি এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশের মানুষ সেটাকে তাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক এলাকা ও সম্পদ ভারতের হাতে তুলে দেয়ার শামিল বলেই বিবেচনা করে।

অন্য দিকে দেখা যাচ্ছে, ১৯৭৪ সাল থেকে শুরু করে দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলো পালনের ব্যাপারে ভারত পুরোপুরি আগ্রহী নয়। সংবিধান সংশোধন করে শেখ মুজিবুর রহমান বেরুবাড়ী ছিটমহল ভারতের হাতে তুলে দেন, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী তিনবিঘা ছিটমহলটি ভারত আজো বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করেনি। অন্যান্য ছিটমহল এবং সীমান্ত সহজীকরণের লক্ষ্যে ভূমি বিনিময় চুক্তিগুলোও ভারত কার্যকর করছে না।

ভারতের দিক থেকে বলা হচ্ছে, ভারতীয় সংসদের অনুমোদনে বিলম্বের কারণেই দিল্লির সরকার দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলো কার্যকর করতে পারছে না। একই যুক্তিতে এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তির দোহাই দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তিস্তাচুক্তিতে স্বাক্ষর না করেই বাংলাদেশ থেকে চলে গিয়েছিলেন। খালেদা জিয়াকে স্পষ্টভাবে বলে দিতে হবে, ২০১০ সালের রহস্যঘেরা চুক্তিগুলোসহ সব দ্বিপক্ষীয় চুক্তি কার্যকর করা বাংলাদেশ সংসদের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।

জীবন-মরণের বিষয়
অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য অংশ বাংলাদেশের জন্য জীবন-মরণের ব্যাপার। ভারত একের পর এক নদীতে বাঁধ তৈরি করে বাংলাদেশকে শুকিয়ে মারার আয়োজন করেছে। সর্বসাম্প্রতিক বিরোধের বিষয়, বরাক নদীতে ভারতের টিপাইমুখ বাঁধ তৈরির কাজ। এ বাঁধটি নির্মাণ অবিলম্বে বন্ধ করার জোর দাবি বেগম জিয়াকে দিল্লিতে জানিয়ে আসতে হবে। ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে হাসিনা-দেবগৌড়া চুক্তি অনুযায়ী গঙ্গার নির্ধারিত পরিমাণ পানি বাংলাদেশকে দেয়ার দাবিও জানাতে হবে তাকে।

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ক্ষমতা পাওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই বিডিআর বিদ্রোহ হয়েছিল। এ বিদ্রোহের পেছনে কাদের উসকানি ছিল এবং রুমাল-পরা ঘাতকেরাই বা কোথায় গেল, সেসব রহস্য এখনো উদ্ঘাটিত হয়নি। সে বিদ্রোহে ৫৭ জন পদস্থ সেনা কর্মকর্তার হত্যার ফলে সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ডে বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি হয়। তার জের ধরে বিডিআরকে ভেঙে দেয়া হয়ছে।

দেখা যাচ্ছে, তার পর থেকে সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যা ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ‘রিক্রিয়েশনে’ পরিণত হয়েছে। দিল্লির সরকার বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও হত্যাকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না। বিডিআরের অস্তিত্ব যত দিন বজায় ছিল, এ ধরনের ঘটনার কথা চিন্তা করাও যেত না। খালেদা জিয়াকে দিল্লিতে বলে আসতে হবে যে, এ হত্যালীলা অবিলম্বে বন্ধ না হলে ক্ষমতায় এসে বিএনপি সরকার আবার বিডিআর এর ঐতিহ্য ও ভাবমর্যাদা ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি। যিনিই এ নির্বাচনে জয়ী হন না কেন, তিনি শপথ নেবেন জানুয়ারি মাসে। এ রকম সময় খালেদা জিয়ার যুক্তরাষ্ট্র সফর স্বাভাবিক হবে না। কিন্তু মার্কিন প্রশাসন অবশ্যই তার চীন ও ভারত সফর সম্বন্ধে জানতে আগ্রহী হবে। দিল্লি থেকে ফিরে এসে বিএনপি নেত্রীর উচিত হবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের উভয় সফর সম্বন্ধে সবিস্তার ব্রিফ করা।

দিল্লিতে এবং মার্কিন কূটনীতিকদের সাথে ব্রিফিংয়ে একটা বিষয় পরিষ্কার বলে দেয়া প্রয়োজন। ‘ইসলামী সন্ত্রাস’ দমনের নামে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার রাজনীতি থেকে টুপি ও দাড়ি পরিহিতদের নিধন করার যে পন্থা বেছে নিয়েছে, সেটা দিল্লি কিংবা ওয়াশিংটনের স্বার্থের অনুকূল হবে না।

ধর্মীয় রাজনীতি ভারতে খুবই প্রবল। বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী এখনো গদি পাওয়ার আশা করতে পারে না। কিন্তু কট্টর হিন্দু দলগুলো দিল্লিতে ও বিভিন্ন রাজ্যে বারবার ক্ষমতায় এসেছে এবং ভবিষ্যতেও আসবে বলে আশা করে। তথাকথিত বাইবেল বেল্ট মার্কিন রাজনীতিতেও একটা সক্রিয় শক্তি।

সাময়িক রাজনৈতিক সুবিধার ভ্রান্ত আশায় শেখ হাসিনার সরকার ধর্মীয় রাজনীতিকে নির্যাতনের যে পথ ধরেছে, তাতে ধর্মীয় রাজনীতি এবং তাদের ছাতার আড়ালে চরম পন্থাও ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ চলে যাবে এবং ভারতের বহু রাজ্যের চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর মতো বেসামাল হয়ে উঠবে।

সিরাজুর রহমান: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
সূত্র: নয়াদিগন্ত, ২৬ অক্টোবর, ২০১২

অন্যান্য কলাম

adv

ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: ০১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: [email protected]