সুনীল আকাশ

বেলাল চৌধুরী ২৪ অক্টোবর,২০১২
বেলাল চৌধুরী

বাংলা ভাষার প্রতিটি অক্ষরের ওপর যাঁর নিয়ন্ত্রণ-দক্ষতা ছিল প্রশ্নাতীত, সেই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সম্পর্কে এই মুহূর্তে কিছু লিখতে যাওয়া অত্যন্ত দুরূহ। বাংলা সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই, যেখানে তাঁর হাতের ছোঁয়ায় সোনা ফলেনি। তবে কবিতাই ছিল তাঁর প্রথম প্রেম। গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, সন্দর্ভ, নিবন্ধ—প্রতিটির ওপরই তিনি ছিলেন অখণ্ড কর্তৃত্বের অধিকারী। সাহিত্যে তাঁর অসামান্য কীর্তির জন্য পেয়েছেন ভারতের সর্বোচ্চ আকাদেমি, বঙ্কিম পুরস্কারসহ আরও ঢের পুরস্কার।

আসলে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে পুরস্কার-টুরস্কার মোটেই তেমন কিছু ছিল না। সবচেয়ে বড় পুরস্কার তিনি পেয়েছিলেন তাঁর বৃহত্তর পাঠকসমাজের কাছ থেকে। পুরোনো দিনে বোধ হয় এঁদেরই বলা হতো ‘বাণীর বরপুত্র’।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের রচনার প্রকৃত অনুরাগীর সংখ্যা নিরূপণ করার চেয়ে হিমালয় পর্বতের চূড়ায় আরোহণ করা ঢের বেশি সহজ। সম্ভবত পরিসংখ্যানবিদেরও এ ব্যাপারে সঠিক কোনো তথ্য দিতে অপারগ হবেন। অনেককে বলতে শুনেছি, সুনীলের লেখা তো উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীদের মাথা চিবানোর জন্য। এ রকম মনভোলানো চটকদার লেখা লিখে যে কেউই সমান জনপ্রিয় হতে পারেন সাময়িকভাবে, তবে কখনোই স্থায়ী ও মূল্যবান সাহিত্য হিসেবে নয়। এই শ্রেণীর লোকদের অজ্ঞতা ও মূর্খতা কোন পর্যায়ে গেলে এ ধরনের অর্বাচীন উক্তি সম্ভব, তা আমাদের জানা নেই। জানার ইচ্ছাও হয় না। তবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, রবীন্দ্রনাথের পর একমাত্র সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ই সেই বহুপ্রজ লেখক, যাঁর যেকোনো লেখাই যেকোনো বয়সের পাঠকের কাছে সমানভাবে প্রাঞ্জল, আদৃত ও আকর্ষণীয়।

সুনীলের রচনার রহস্য রসায়নটা কী? কীভাবে সুনীল তাঁর পাঠককে মন্ত্রমুগ্ধের মতো আকৃষ্ট করে রাখার বিরল ক্ষমতা অর্জন করলেন? প্রশ্নটির জবাব সুনীলের লেখার মতোই সরল আর সোজা। অর্থাৎ, সুনীলের অসামান্য প্রাঞ্জলতা। কি বিষয়বস্তু, কি বলার ভঙ্গি, কি ভাষার নির্বাচন; সুনীল আমাদের নিত্যদিনের ব্যবহার্য মুখের ভাষার মতো অনবদ্য ভাষার কথকতা দিয়ে যে সাহিত্য রচনা করেছেন, তা যেকোনো মানুষকে সম্মোহিত করার জন্য যথেষ্ট।

সেই ষাটের দশকের শুরুতে আমার ভাসমান জীবনে যখন আমি কলকাতায়, তখন থেকে একধরনের পত্রপত্রিকা বেরোনোর চল হয়েছিল, যেগুলো পরিচয়, চতুরঙ্গ বা নতুন সাহিত্য-এর মতো বড় কাগজ না হলেও একঝাঁক তরুণের লেখা নিয়ে বেরোচ্ছে ইদানীং, ইঙ্গিত, মনের মতো কাগজ, রমাপদ চৌধুরীর পত্রিকার মতো মাসিক আবার একটু রাজনীতির ছোঁয়ালাগা চতুষ্কোণ, অগ্রণী। এদেরই কোনো একটাতে সম্ভবত সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম গল্প নাকি কে জানে বাঘ পড়েছিলাম। এরপর তাঁর কবিতা ছাড়া গদ্য রচনা তেমন না পড়লেও কৃত্তিবাস-এর কল্যাণে তাঁর নামটি বহুল উচ্চারিত এবং পরিচিত হয়ে উঠেছিল আমাদের কাছে।

কলকাতার কলেজ স্ট্রিট কফি হাউসের সুবাদে সুনীলের অনুপস্থিতিতে তখন দোর্দণ্ড প্রতাপে বিচরণ করছেন শ্মশ্রুল শক্তি চট্টোপাধ্যায়। অগণিত তাঁর ভক্ত। শক্তি তখন কিংবদন্তিতে পরিণত হওয়ার মুখে বড় বড় পা ফেলে এগিয়ে চলেছেন। সুনীল-শক্তি বন্ধু হলেও অভিন্ন হূদয় কি না, বোঝা মুশকিল।

শক্তি তখন লিরিক দিয়ে গোটা বাংলা কবিতাকে মাতিয়ে রাখছেন। আর তাঁর সেই দোভাষায় লেখা কুয়োতলা বাংলা গদ্যে এক নতুন স্বাদ এনে দিয়েছে। শক্তিকে কৃত্তিবাস গোষ্ঠীভুক্ত বলা হলেও তিনি ছিলেন শ্রী আংটির মতো। যখন যার হাতে, তখন তার। হাতে অসম্ভব ক্ষমতা। ছন্দে দারুণ দক্ষ। উদ্দাম জীবনযাপন। আমার সঙ্গে জমে যেতে বেশি দেরি হলো না। যখন যেখানে খুশি চলে যাচ্ছি, যা খুশি করছি। যেকোনো সমাজেই চেনা নেই জানা নেই, হঠাৎ একজন বাইরের লোক এসে যা খুশি তা-ই করবে, সেটা অনেকে মেনে নিতে পারছিল না বলে একসময় আইডেনটিটি ক্রাইসিসে পড়ে প্রথমে কলম হাতে তুলে নিতে হয়েছিল আমাকে। ছোটবেলা থেকে নির্বিচারে অজস্র পড়াশোনা করলেও নিজে কখনো লিখব বা কলম ধরব, তেমনটা মাথায় আসেইনি। তবে আমার আম্মা লিখতেন বলে ভেতরে ভেতরে লেখালেখির একটা সুপ্ত ব্যাপার যে ছিল না, তা-ও বলতে পারি না।

রাজশাহীর ছেলে শান্তি লাহিড়ীর বাংলা কবিতা কাগজটি তখন খুব পরিপাটি হয়ে বেরোচ্ছে। শক্তিদার অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছেসহ গুচ্ছ গুচ্ছ কবিতা বেরোচ্ছে। সবার দেখাদেখি শান্তির অনুরোধে আমিও তাদের সূচিপত্রে শুধু স্থানই পেলাম না, দু-একজনের প্রশংসাও কুড়োলাম, যাদের মধ্যে চৈত্রে রচিত কবিতার উৎপলকুমার বসুর ‘তারিফ’ আমাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছিল। এর মধ্যে সঞ্জয় ভট্টাচার্যের পূর্বাশাতেও একটি কবিতা ছাপা হলো। এভাবে মোটামুটি কফি হাউসে অসংখ্য লিটল ম্যাগাজিনের তরুণ কবির দলে শামিল হয়ে গিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বাঁচলাম।

ভাসমান জীবনের ভাসমান মানুষের একটা বড় সুবিধা হলো, কখন যে কোন ঘাটে গিয়ে ঠেকবে, তা সে নিজেও জানে না। ক্রমেই পরিধি বাড়তে বাড়তে একসময় কলকাতার মতো শহরকেও মনে হতে লাগল ছোট, অন্তত আমার জন্য। কলকাতার একটা বড় মজা, সম্ভবত সাহিত্যের রাজধানী হওয়ার জন্যই সব সময় কিছু না কিছু একটা লেগেই আছে। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিবিষয়ক কর্মকাণ্ডে না জড়িয়ে পারা যায় না।

ওই সময় মার্কাস স্কোয়ারে ঐতিহ্যবাহী বঙ্গ সংস্কৃতির মেলা বসল দিন পনেরোর জন্য। আমেরিকা থেকে সদ্য ফেরা পূর্ণ চাঁদমুখো বহুশ্রুত সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে সেই আমার প্রথম দেখা, ওই ষাটের দশকেই। তার পর থেকে রুদ্ধশ্বাস জীবনে পেছনে ফিরে তাকানোর অবকাশ কোথায়? সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় যেন এলেন, দেখলেন, জয় করলেন—এমন একটা ব্যাপার। তাঁর অবর্তমানে কৃত্তিবাস-এর ভার নিয়েছিলেন কবি শরৎকুমার মুখোপাধ্যায় এবং তাঁর সঙ্গে প্রণবকুমার মুখোপাধ্যায়। কখন যে আমিও কৃত্তিবাস দলভুক্ত হয়ে গেছি, তা আমি নিজেও জানি না। কৃত্তিবাস নিয়ে কত হইচই, হুল্লোড়।

একটা জিনিস লক্ষ করলাম, কবি হয়েও যোগ্য দলপতি হওয়ার সব গুণই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মধ্যে বর্তমান। আমেরিকা ফেরতা সুনীলকে একদিন দেখলাম হরিশ মুখার্জি রোডে শীত-গোধূলির ভারী হয়ে আসা আলো-আঁধারিতে এক সঙ্গিনীর কোমর জড়িয়ে হাঁটতে হাঁটতে এগিয়ে যাচ্ছেন ময়দানের দিকে। প্রেম যদি হয়, সেটা ছিল ঘোরতর ইয়াঙ্কি কায়দার।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ক্রমেই হয়ে উঠলেন সুনীল গাঙ্গুলি থেকে ছেলে-বুড়ো সবারই সুনীলদা। এমনকি স্ত্রী স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়েরও। সুনীলদা প্রেমে পড়লেন, সে-ও এক কাহিনি। একবার বহরমপুরে গিয়েছি কিংবদন্তিসম মনীশ ঘটকের সঙ্গে। বিরাট দল। উপলক্ষ কবি সম্মেলন।
সুনীল, শক্তি, অলোকরঞ্জন, উৎপল, শংকর চট্টোপাধ্যায় এবং আরও অনেকে। তখন স্বাতী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে চলছে সুনীলের তুমুল প্রণয়পর্ব। এক দিনের বিরহও সইবার নয়। সারা দিনের হইহুল্লোড়ের মধ্যেও সে যে কী জিনিস, অভিজ্ঞতা না থাকলে বোঝা অসম্ভব। একটা সময় দেখলাম, সুনীলদা বাজারের এক কোণে চায়ের দোকানে বসে খসখস করে কী যেন লিখে চলেছেন। তখন গদ্যকার সুনীল কোথায়? বরণীয় মানুষ স্মরণীয় বিচার ফিচার হিসেবে কাগজে বেরোলেও বই হয়ে বের হওয়া দূর কল্পনা। তারপর খামে এঁটে মাঝ রাত্তিরের দিকে এক ফাঁকে কিছুটা উঁচু হয়ে প্রায় লাফিয়ে বাজারের ঝুরিনামা বটগাছের গায়ে লাগানো জংধরা মেটে লাল রঙের ডাকবাক্সে ফেলে দিতে শংকরদার সে কী দমফাটা হাসি। সুনীল, তুই এ কী করলি? এ যে গাছের খোড়ল, হাঃ হাঃ হাঃ। প্রবল হাসির দমকে গলা আটকে যাওয়ার দশা। পরে স্বাতীদিকে কখনো জিজ্ঞেস করা হয়নি, বহরমপুর থেকে প্রেমিক সুনীলের কোনো চিঠি পেয়েছিলেন কি না। তবে সুনীলের যে দায়িত্বজ্ঞান এবং খাটুনির শক্তি, তা দেখে বাকরোধ হওয়া ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না—প্রত্যক্ষ করে বুঝেছি সুনীল ম্যাজিকের রহস্যটা কী? খাটুনি আর খাটুনি। আমরা অনেকেই আলেকজান্ডারের প্রবল সুরাসক্তির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠি, কিন্তু কখনোই তার বীরত্ব ও নিষ্ঠার নয়।

মানুষটি যদি হন একমেবাদ্বিতীয়ম কেউ, তাঁর নিজেরই ভাষ্যে শুনুন, ‘আমি সামান্য কবি—একদা পূর্ববঙ্গবাসী, অধুনা ভ্রাম্যমাণ—গঙ্গোপাধ্যায় বংশীয় সুনীল আমার নাম। যদিও ব্রাহ্মণকুলে জন্ম, কিন্তু জ্ঞানের অভিমানের বদলে ভালোবাসার শক্তিতেই আমার বেশি বিশ্বাস। তাই ভালোবাসার এই অমরগাথা শোনাতে চেয়েছি। আমার বাকশক্তি সীমিত, আমার ভাষাজ্ঞান সীমিত, আমি জানি না শব্দের ঝংকার, জানি না বর্ণনার ছটা! আপনারা গুণীজন, আপনারা বহুদর্শী, রসজ্ঞ সহূদয়—আপনাদের সভায় ভরসা করে এ গান শোনালাম। এ গান শুনলে, যে দুর্বল সে আবার শক্তি ফিরে পায়। ভালোবাসায় যার অবিশ্বাস এসেছে, সে আবার ভালোবাসায় বেঁচে ওঠে। যার জীবনে কখনো ভালোবাসা জাগেনি, এ গান শুনলে সেই পাথরের বুক ভেদ করে বেরিয়ে আসে ঝরনা। এই ভালোবাসার গান শুনলে মানুষ মরতে ভয় পায় না। ভালোবাসা ছাড়া জীবন হয় না, যেমন দুঃখ ছাড়া ভালোবাসা হয় না। ভালোবাসার জাত নেই, গোত্র নেই, ধর্ম নেই।’

উদ্ধৃতাংশটুকু ১৩৭২ বাংলা সালে প্রকাশিত প্রথম জীবনে তরুণ বয়সের সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের, যখন তিনি আজকের সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় হননি, সে সময়কার সোনালি দুঃখ থেকে নেওয়া।

সেই শুরু থেকেই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন প্রকৃত কবিদের মতোই দানশৌণ্ড, যিনি সূর্যাস্তের পর সুরাচার্যে অভিষিক্ত হয়েও অবলীলায় বাংলা সাহিত্যকে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ আর সুধাসিক্ত করে গিয়েছেন।
বাংলাদেশের মাদারীপুরের পূর্ব মাইজপাড়ায় জন্মালেও দেশভাগের বহু আগে শিক্ষক পিতার কর্মসূত্রে গোটা পরিবারই কলকাতায় চলে গিয়েছিল। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় জাপানি আগ্রাসনের আতঙ্কে বাবা কলকাতায় থেকে গেলেও গোটা পরিবারকে মাদারীপুরের গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। তখন এক বছরের মতো তাঁদের গ্রামের বীরমোহন স্কুলে পড়াশোনায় চমকপ্রদ বিবরণী সুনীল নিজেই লিখে গেছেন তাঁর অননুকরণীয় ভাষায়। অবশ্য পরবর্তীকালে দেশে আসার প্রচুর সাদর আমন্ত্রণ সত্ত্বেও তিনি তাঁর ছেলেবেলার স্মৃতি বিনষ্ট হওয়ার সম্ভাব্য কারণে কখনো সেখানে ফিরে যেতে রাজি হননি। পরে পূর্বপশ্চিম লেখার সময় কানাডায় তাঁর ফেলে আসা গ্রামের এক ছেলে, যাকে তিনি পরবর্তীকালে শুধু জন্মসহোদর বলে সম্বোধন করেই ক্ষান্ত হননি, তাঁর আতিশয্যে সপরিবারে অর্থাৎ স্ত্রী স্বাতী, ভাই অশোক ও বোন কণাকে নিয়ে ঘুরে গেছেন।

দেখা গেছে, তিনি তাঁর বাল্যকালের সামান্যতম স্মৃতিভ্রষ্ট হননি।
বাংলাদেশের প্রতি ছিল তাঁর এক অপত্য টান। বারবার বাংলাদেশের লেখকদের লেখা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেছেন, ‘ঢাকাই একদিন বাংলা সাহিত্যের রাজধানী হবে।’ তাঁর এই ভবিষ্যদ্বাণী যে অক্ষরে অক্ষরে ফলবে, তিনি তা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন।

বাংলাদেশের ব্যাপারে তাঁর যে দুর্বলতা, সেটা দেখা গিয়েছিল যখন তাঁর বইগুলো এখানে একটার পর একটা পাইরেসি হচ্ছিল তখন। সেটা তিনি হাসিমুখেই মেনে নিয়েছিলেন।

বেলাল চৌধুরী: কবি।

সূত্র: প্রথম আলো. ২৪ অক্টোবর ২০১২

অন্যান্য কলাম

adv

ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: ০১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: [email protected]