বড়পুকুরিয়ায় ক্ষতিগ্রস্তদের আমরণ অনশন অব্যাহত
|
 |
 |
 |
|
Thu 11 Mar 2010 12:27 PM BdST
|
দিনাজপুর, ১১ মার্চ (আরটিএনএন ডটনেট)-- দিনাজপুরের পার্বতীপুর বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী কয়লাখনির প্রধান ফটকের সামনে আমরন গণ অনশন অব্যাহত রেখেছে। গতকাল বুধবার শুরু হওয়া এ গণ অনশনে হাজার হাজার নারী পুরুষ অংশ নিচ্ছে। খনি এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ।
গণ অনশনে অংশগ্রহনকারী জীবন ও সম্পদ রক্ষা কমিটির আহবায়ক ইব্রাহীম খলিল আরটিএনএন ডটনেটকে জানান, ‘দাবি আদায়ে ১১ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাব না। তবে আমরা ভূ-গর্ভস্থ খনি থেকে কয়লা উত্তোলনে কোন বাধা সৃষ্ঠি করতে চাই না। আমরা সুষ্ঠু সমাধান চাই। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমরণ অনশন কর্মসুচি পালন করব। তবে বাধা এলে, জনগন ফুঁসে উঠলে কিংবা কোন দুর্ঘটনা ঘটলে তা সরকার এবং খনি কর্তৃপক্ষই দায়ি থাকবে।’
তিনি বলেন, বড়পুকুরিয়া এলাকার ১১টি গ্রামের মধ্যে বড়পুকুরিয়া বাজার, কালুপাড়া, বলরামপুর, গোপালপাড়া, মৌপুকুর, পাতিগ্রাম, পাতরাপাড়া, জিগাগাড়ী, বাঁশপুকুর, আমড়া পুকুর ও বৈদ্যনাথপুর সহ ১১টি গ্রামের বাড়ী ঘর আবাদী জমি কয়লা তোলার ফলে ১ থেকে ৫ ফিট দেবে যায়। গত দু’বছর ধরে তারা আন্দোলন করে আসলেও খনি কর্তৃপক্ষ এলাকার ১১টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার জনসাধারণের দাবি পুরণ না করে টাল-বাহানা শুরু করেছে।
জীবনের ঝুকি নিয়ে ১১টি গ্রামের মানুষ রাত কাটাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত বছর মে মাসে পেট্রোবাংলার পদ মর্যাদার একজন কর্মকর্তার সঙ্গে জীবন সম্পদ রক্ষা কমিটির ১০ দফা সম্বলিত একটি দ্বি-পাক্ষিক সমঝোতার স্বাক্ষর হয়। এতে উপযুক্ত ক্ষতিপুরণ ও দ্রুত পুর্নবাসনের দাবি জানানো হয়। কিন্তু অদ্যাবধি পেট্রোবাংলা ও বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কর্তৃপক্ষের আশ্বাস ছাড়া এখনও সমঝোতা চুক্তির কোন অগ্রগতি হয়নি।
উল্লেখ্য, খনিতে ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে কয়লা তোলার কারণে কালুপাড়া, বলরামপুর, মৌপুকুরসহ ১০টি গ্রামে বাড়িঘর ও আবাদি জমিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভূকম্পনের কারণে বিভিন্ন বাড়িতে ফাটল ধরেছে। অনেক বাড়ি দেবে যাচ্ছে। এলাকাবাসী খনি কর্তৃপক্ষের কাছে দীর্ঘকাল ধরে এসব ক্ষয়ক্ষতি পূরণের দাবি জানিয়ে আসছে।
আরটিএনএন ডটনেট/প্রতিনিধি/এমএম_১২২৪ ঘ.
|
|