জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বসন্ত উৎসব উদযাপন

১৩ ফেব্রুয়ারি,২০১৮

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বসন্ত উৎসব উদযাপন

নিজস্ব প্রতিনিধি
আরটিএনএন
জবি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করে নিয়েছে শিক্ষাথীরা।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ভাষা শহীদ রফিক ভবন প্রাঙ্গণে বাংলা বিভাগের উদ্যোগে ‘বসন্ত বরণ-১৪২৪’ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় নৃত্য, সঙ্গীত ও আবৃত্তি পরিবেশন করা হয়।

বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আরজুমন্দ আরা বানু-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সেলিম ভূঁইয়া ও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলা বিভাগের সাংস্কৃতিক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. পারভীন আক্তার জেমী। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

এসময় উপাচার্য বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মূল কর্মকাণ্ড জ্ঞান অর্জন ও জ্ঞান অন্বেষণ হলেও মানবিক সুকুমার বৃত্তি জাগ্রত করতে সাংস্কৃতিক চর্চার বিকল্প নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম সুযোগ হয়ে ওঠে এধরনের উৎসবের মাধ্যম। প্রকৃতিগতভাবেও বসন্ত উৎসব অন্যতম।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রতি বছর বাংলা বিভাগের নেতৃত্ব সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণে বসন্তবরণের উদ্যাগ গ্রহণ করা হবে। এজন্য আগামী বছর হতে আরও বড় পরিসরে বসন্ত উৎসব উদযাপনের জন্য আলাদা করে বাজেট বরাদ্দ দেয়া হবে।’

বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতাকে জবি পূজা কমিটির সম্পাদক করায় ক্ষোভ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)’র বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা সুজন দাস অর্ককে জবি কেন্দ্রীয় পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ কমিটির অন্য নেতারা।

গত বছরের ২৯ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জবির ফিন্যান্স বিভাগের নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুজন দাস অর্ককে বহিষ্কার করা হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রশাসনের পাশাপাশি ছাত্রলীগও বহিষ্কার করে সুজন দাস অর্ককে। জবি টিএসসিতে দোকান বসিয়ে চাঁদা আদায় এবং সেই টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় তাবে বহিষ্কার করা হয়। অথচ এবার সেই অর্ককে জবি কেন্দ্রীয় পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

এরপর গত বছরের ১৪ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়, জবি টিএসসিতে মহিউদ্দীন নামের এক ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা চাওয়া, তাকে মারধর, পরে শিক্ষক লাউঞ্জের দরজা ক্ষতিগ্রস্ত করা, দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচ শিক্ষার্থীকে আহত করার ঘটনায় চার শিক্ষার্থীকে জবি থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এই চারজনের মধ্যে ফিন্যান্স বিভাগের নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুজন দাস অর্ক ছিলেন।

পূজা কমিটির বর্তমান সদস্যদের কয়েকজন অভিযোগ করেন, চাঁদার টাকা ভাগাভাগির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত কাউকে জবি কেন্দ্রীয় পূজা কমিটির মত সংগঠনে সাধারণ সম্পাদক করা ঠিক হয়নি।

এবিষয়ে জবির ‘ছাত্র-ছাত্রী সমন্বয়ে গঠিত পূজা কমিটি’র সভাপতি ঋতিক রায় বলেন, ‘সুজন দাসকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে কর্তৃপক্ষ তা তুলে নিয়েছে।’

ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জবি কেন্দ্রীয় পূজা কমিটির সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনো সম্পর্ক নেই। সেখানে কেউ বহিষ্কার থাকলেও পূজা কমিটিতে পদ পেতে তার কোনো সমস্যা নেই।’

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি স্বীকার করে সুজন দাস অর্ক বলেন, ‘আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারাদেশ দিয়েছিল। তবে পরে তারা তা উঠিয়ে নিয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সংঘর্ষের সেই ঘটনায় আমি ৭২ ঘণ্টা আইসিইউতে ছিলাম। আমি ভিকটিম থাকায় তারা তা তুলে নিয়েছে।’

জবির কেন্দ্রীয় পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. অরুণ কুমার গোস্মামী বলেন, ‘কিছু শিক্ষার্থী এসে একটি কমিটি থাকার কথা বললে আমি তাতে স্বাক্ষর করেছি। কিন্তু, কার নাম ছিল তা আমার জানা নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘সুজন দাস অর্ক প্রসঙ্গে আমার জানা ছিল না। প্রশাসন থেকে আমাকে জানানো হয়নি। তবে এ রকম কিছু ঘটে থাকলে মিনিমাইজ করব।’

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৯ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বহিস্কারের এই তথ্য জানানো হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিসাদুল ইসলাম রিসাদ, কর্মী সুজন দাস অর্ক (ফিন্যান্স বিভাগ) ও রাজিব বিশ্বাস (সমাজবিজ্ঞান বিভাগ)।

জানা যায়, ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের টিএসসির সামনে শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রিসাদুল ইসলাম রিসাদ একটি দোকান বসান। শনিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে সুজন দাস অর্ক নামে ছাত্রলীগের এক কর্মী সেই দোকানে চাঁদা চাইতে যায়। এ সংবাদ পেয়ে রিসাদ তার কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে অর্ককে মারধর করেন।

দুপুরের পরে অর্ক দলবল নিয়ে রিসাদের গ্রুপের কর্মীদের মারধর করে। সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ ছাত্রলীগ কর্মী গুরুতর আহত হয়।

এবিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বলেন, ছাত্রলীগে চাঁদাবাজদের কোনো স্থান নেই। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তিনজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মন্তব্য

মতামত দিন

সংস্কৃতি পাতার আরো খবর

পিএইচপি কুরআনের আলোয় প্রথম নেত্রকোনার সিবগাতুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: পিএইচপি কুরআনের আলো হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ২০১৮ তে বিজয়ী হয়েছে নেত্রকোনার প্রতিযোগী . . . বিস্তারিত

এ বছর ফিতরা সর্বনিম্ন ৭০, সর্বোচ্চ ২৩১০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: পবিত্র ঈদুর ফিতর উপলক্ষে এ বছর জনপ্রতি ফিতরা সর্বনিম্ন ৭০ টাকা ও সর্বোচ্চ দুই হাজার তিনশ ১ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com