দ. চীন সাগরে মহাকামান ব্যবহারের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র!

২৬ জানুয়ারি,২০১৯

দ. চীন সাগরে মহাকামান ব্যবহারের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র!

নিউজ ডেস্ক
আরটিএনএন
ওয়াশিংটন: মার্কিন সেনাবাহিনী ১০০০ মাইল পাল্লার মহাকামান তৈরির কাজ করছে। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সঙ্গে চলমান টানাপড়েন যুদ্ধে রূপ নিলে চীনা যুদ্ধ জাহাজ ডুবিয়ে দিতে এমন মহাকামান ব্যবহার করা সম্ভব হবে বলে মার্কিন সেনাকর্মকর্তারা ধারণা করছেন।

মার্কিন সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকে এ তথ্য দিয়েছেন আমেরিকার সামরিকমন্ত্রী মার্ক এস্পার। খবর পার্স টুডের।

তিনি বলেন, সম্প্রসারিত-পাল্লার কামান বা ইআরসিএ নিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। পদাতিক বাহিনীকে সমর্থন যোগানোর জন্য মহাকামান দিয়ে কৌশলগত হামলা চালানো যাবে।

প্রাচীনকালের যুদ্ধে বর্শা কেন ব্যবহৃত হতো তার ব্যাখ্যা দিতে যেয়ে তিনি বলেন, অপরপক্ষের হাতে তরবারি আছে বলেই বর্শা ব্যবহার হতো। তরবারির পাল্লাকে সীমিত করে দিয়েছিলো বর্শা আর সে কারণেই তখন দূর থেকে নিক্ষেপযোগ্য গুলতি জাতীয় অস্ত্রের উদ্ভব ঘটেছিল বলে জানান তিনি।

নিজে আক্রান্ত না হয়ে শত্রুর ওপর হামলার কথাই যুদ্ধের সময়ে ভাবা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, আর এখানেই মহাকামানের মতো গোলন্দাজ বাহিনীর ভূমিকার কথা এসে যায়।

মহাকামান কোথায় ব্যবহার হবে তার উদাহরণ তুলে ধরতে যেয়ে তিনি বলেন, গোলযোগপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের গতিরোধ করছে চীনা রণতরি; এমন পরিস্থিতিতে এ কামান ব্যবহার করা হতে পারে।

হাইপারসনিক বা শব্দের চেয়ে ১০গুণ বেশি গতির অস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি নিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর আগ্রহের কারণেই চলছে মহাকামান তৈরির তৎপরতা। গত বছর অক্টোবরে এ কামানের কথা প্রথম প্রকাশ করেছিল আমেরিকা।

সামরিক বিষয়ক এক সম্মেলনে মার্কিন দূরপাল্লার কৌশলগত অস্ত্রের আধুনিকায়ন বিষয়ক পরিচালক কর্নেল জন রেফারটি সাংবাদিকদের কাছে এ অস্ত্র নিয়ে কথা বলেছিলেন।

এরআগে, গত ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে চীনা সামরিক একাডেমির উপ প্রধান অ্যাডমিরাল লু ইউয়ান মন্তব্য বলেছেন, যদি চীনা নৌ বাহিনী দক্ষিণ চীন সাগরে দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিতে পারে তবে সহজেই আমেরিকার সঙ্গে চলমান উত্তেজনার অবসান হয়ে যাবে।

এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, আমেরিকা সবচেয়ে যে বিষয়ে ভীত তা হচ্ছে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি।

লু ইউয়ান বলেন, ‘আমেরিকার একটি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিলে ৫,০০০ সেনা মারা যাবে; দুটি ডোবালে দ্বিগুণ সেনা মারা যাবে।’

অ্যাডমিরাল ইউয়ান বলেন, ‘বেইজিংয়ের উচিত হবে অপ্রতিসম পাল্টা আঘাত হানা যার অর্থ হলো শত্রুর দুর্বল জায়গা চিহ্নিত করে সেখানে আমাদেরকে আঘাত করতে হবে। শত্রুরা যাকে ভয় পায় সেখানেই আঘাত করতে হবে; যেখানে শত্রুর স্পর্শকাতরতা আছে সেটাকে আমাদের ব্যবহার করতে হবে।’

দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতির কারণে বেইজিং এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে গত কয়েক বছর ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় পুরো এলাকাকে চীন নিজের বলে দাবি করছে কিন্তু আমেরিকা তা মানতে রাজি নয়। আমেরিকা সেখানে নিজের নৌবাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি বজায় রেখেছে এবং মাঝেমধ্যেই দু দেশের সেনারা সংঘর্ষের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে বলে খবর বের হয়।

মন্তব্য

মতামত দিন

আমেরিকা পাতার আরো খবর

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম মুসলিম নারী মেয়র হয়ে ইতিহাস গড়লেন ড. সাদাফ জাফর, সাক্ষাৎকারে যা বলছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন অঞ্চলের উত্তরের শহর মন্টগোমেরির প্রথম মুসলিম নারী মেয়র হিসেব . . . বিস্তারিত

যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিমদের মধ্যে কৃষ্ণাঙ্গরাই সবচেয়ে বর্ণিল, অর্ধেকই ধর্মান্তরিত

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনওয়াশিংটন: এমনকি বিংশ শতাব্দীতেও যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ অঞ্চলে যখন ইসলামের উপস্থিতি একেবারেই কম . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com