সর্বশেষ সংবাদ: |
  • নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে: মাহবুব তালুকদার
  • সাতদিন আগে থেকেই নির্বাচনি মাঠে সেনাবাহিনী থাকবে: ইসি
  • শেষ টেস্ট জিতে সিরিজ ড্র করল টাইগাররা

হারিকেন ফ্লোরেন্সের উপকূলে আঘাত, সরিয়ে নেয়া হয়েছে ক্যারোলিনার ১৭ লাখ মানুষ

১৪ সেপ্টেম্বর,২০১৮

হারিকেন ফ্লোরেন্স: কারাগার থেকে বন্দীদের কেন আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হয়নি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
ওয়াশিংটন: আটলান্টিক মহাসাগরে সৃষ্ট হারিকেন ফ্লোরেন্স ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকুলে আঘাত হানতে শুরু করেছে, আর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ঘুর্ণিঝড়টি স্থলভাগ স্পর্শ করবে। উপকূলীয় উত্তর এবং দক্ষিণ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্য দুটির ১৭ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

জলোচ্ছাস আর বৃষ্টির ফলে নিউ বার্ন নামে একটি উপকুলীয় শহরের কিছু অংশ এর মধ্যেই ৯ ফুট পানির নিচে চলে গেছে। অন্তত দু'লাখ লোকের বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। ঘন্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিবেগের এই ঝড়ে অনেক মানুষের মৃত্যুর আশংকা করা হচ্ছে। খবর বিবিসির

এই এলাকাগুলো থেকে লোকজনের নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, কিন্তু দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় কমপক্ষে দু'টি কারাগারের বন্দীদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হয়নি।

সেখানকার কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন যে, কারাবন্দীদের অন্য কোনো জায়গায় নেয়া হবে না। দক্ষিণ ক্যারোলাইনার কারেকশন বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে তারা মনে করছেন, অন্য কোথাও নেয়ার চেয়ে বন্দীরা কারাগারেই নিরাপদ থাকবে।

তবে উত্তর ক্যারোলাইনা এবং ভার্জিনিয়ার কিছু কারাগার থেকে বন্দীদের ইতিমধ্যেই নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে। দক্ষিণ ক্যারোলাইনার কারগার থেকে বন্দীদের নিরাপদ আশ্রয়ে না নেয়ার বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় এসেছে।

২০০৫ সালে ভযাবহ ক্যাটরিনা যখন আঘাত হেনেছিল, তখন কারাগারগুলোতে হাজার হাজার কয়েদী চরম বিপদে পড়েছিল। কমপক্ষে ১ হাজার বন্দীর মৃত্যু হয়েছিল।

এই তথ্য একজন পিএইচডি'র শিক্ষার্থী টুইট করলে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। ফেসবুকেও তা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা।

ক্যাটরিনার আঘাতে কী ঘটেছিল বন্দীদের কপালে?
হারিকেন ক্যাটরিনা ২০০৫ সালে আঘাত হেনেছিল যুক্তরাষ্ট্রে। তখন ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। এরসাথে বন্যায় ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হয়েছিল। কমপক্ষে ২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

হারিকেন ক্যাটরিনার আঘাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল নিউ অরলিন্স শহরে। বন্দীরা কারাগারের সেলের ভিতরে বন্ধ অবস্থায় ছিলেন। বন্দীদের বেশিরভাগই ছিলেন বিভিন্ন অভিযোগে বিচারের অপেক্ষায় অর্থ্যাৎ তারা তখনও অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হননি।

ঝড়ের আঘাতের সাথে সাথে বিদ্যৎ চলে যায়। কারাগারের জেনারটরগুলোও বন্ধ হয়ে যায়। সেই পরিস্থিতিতে কারাগারের সেলগুলোতে বন্ধ রাখা বৈদ্যুতিক দরজাগুলোও কাজ করছিল না।বন্দীরা পরিত্যক্ত একটি কারাগারে বন্যার পানির ভিতরে ছিলেন এবং ভুগছিলেন খাবারের সংকটে। শেষপর্যন্ত ঝড়ে আঘাত হানার চারদিন পর অরলিন্স শহরের কারাগার থেকে বন্দীদের অন্য জায়গায় সরানো হয়েছিল।

সে সময় বন্দীদের অনেকে বলেছিলেন, তারা কারাগারের ভিতরে বহু বন্দীর মৃতদেহ দেখেছেন।মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ দাবি করেছিল যে ৫১৭জন বন্দী নিখোঁজ হয়েছে।

বন্দীদের কেন কারাগারেই রাখা হয়?
১৯৯৯ সালেও যখন হারিকেন আঘাত হেনেছিল, তখনও দক্ষিণ ক্যারোলাইনার কারগার থেকে বন্দীদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হয়নি।স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে এমন খবর প্রকাশ হয়েছে।

দক্ষিণ ক্যারোলাইনার কারাগারের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বন্দীদের অন্য কোনো জায়গায় সরিয়ে নেয়াটা ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এছাড়া বন্দীদের সরিয়ে নিতে অনেক লোকবল প্রয়োজন, দুর্যোগের সময় সেই লোকবল পাওয়াও কঠিন।

বন্দীদের পরিবহন করাও অনেক জটিল বলে কর্তৃপক্ষ মনে করে। বন্দীদের কারাগার থেকে না সরানোর ব্যাপারে এসব যুক্তি দিয়েছে দক্ষিণ ক্যারোলাইনার কর্তৃপক্ষ।

মন্তব্য

মতামত দিন

আমেরিকা পাতার আরো খবর

‘তারা শুধু শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধেই নয়, বর্ণবাদ ও ইসলামভীতির বিরুদ্ধেও যুদ্ধে জয়ী’

জেনিফার চৌধুরী: চলতি বছরের শুরুতে আমি ‘সালাম সিস্টার’ নামক হিজাব পরিহিত পুতুলের বিষয়ে অনেক অনুচ্ছেদ পড়েছি। আ . . . বিস্তারিত

মুহাম্মদ আলী বক্সার না হলে একজন ইমাম হতেন: বড় মেয়ে মারিয়াম আলী

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনওয়াশিংটন: বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় মরহুম বক্সার মুহাম্মদ আলীর মেয়ে মারিয়াম আলী বলেছেন, তার পিতা জীবি . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com