দমকা বাতাস, বৃষ্টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হেনেছে হারিকেন ফ্লোরেন্স

১৪ সেপ্টেম্বর,২০১৮

দমকা বাতাস, বৃষ্টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হেনেছে হারিকেন ফ্লোরেন্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
ওয়াশিংটন ডিসি: হারিকেন ফ্লোরেন্সের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের অনেক এলাকায় দমকা বাতাস ও বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম। আবহাওয়া অধিদপ্তর হারিকেনটির মাত্রা ১ এ নামিয়ে আনলেও ‘জীবন-সংহারী’ এ ঝড় নর্থ ও সাউথ ক্যারোলাইনা এবং ভার্জিনিয়াকে লন্ডভন্ড করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে তিনটি রাজ্যের উপকূলরেখার ১০ লাখেরও বেশি বাসিন্দাকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

নর্থ ও সাউথ ক্যারোলাইনায় আছড়ে পড়ার পর ঝড়টি ঘণ্টায় দেড়শ কিলোমিটার বেগের বাতাস নিয়ে উপকূল থেকে ভেতরের দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন।

বৃহস্পতিবার মার্কিন পূর্ব উপকূলে দমকা বাতাসের ঝাপটা ক্রমাগতভাবে বেড়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করায় এরই মধ্যে এক লাখেরও বেশি বাড়িঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

ঝড়ের কারণে যে ‘ভয়াবহ’ বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে, তা ব্যাপক প্রাণহানি ঘটাতে পারে বলেও অনুমান জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তাদের। বিভিন্ন ছবিতে আশ্রয় কেন্দ্রের বারান্দায় কম্বল, বাতাসে ফুলানো যায় এমন ম্যাট্রেস ও বিছানা নিয়ে মানুষজনকে ভিড় করতে দেখা গেছে।

নর্থ ক্যারোলাইনার কিছু এলাকায় কয়েক ঘণ্টায় এক ফুটের মতো বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে বলেও বিবিসি জানিয়েছে। সমুদ্রের পানির উচ্চতার সঙ্গে সঙ্গে উপকূলে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের তীব্রতাও বাড়ছে।

বাতাসের বেগ আগের তুলনায় কিছুটা কমে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার ঘূর্ণিঝড় ফ্লোরেন্সের তীব্রতার মাত্রা ১ এ নামিয়ে আনলেও তুমুল বৃষ্টি ও ঝড়ের তীব্রতার কারণে ফ্লোরেন্স এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী বলেও হুঁশিয়ার করেছে তারা।

ঝড়টির আওতায় থাকা এলাকাগুলোর নদী ও এর আশপাশ এবং নিচু এলাকার লোকজনের ঝুঁকিই এখন সবচেয়ে বেশি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রশাসক ব্রুক লং।

ঝড়ের কারণে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত পূর্ব উপকূলে দমকা বাতাস ও বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানিয়েছে মার্কিন আবহাওয়া অধিদপ্তর। কিছু কিছু এলাকার নদীর পানির উচ্চতা ৪ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে; অনেক নদীর পানি ‘উল্টোদিকে’ প্রবাহিত হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

ঝড়ের হাত থেকে বাঁচতে উপকূলবর্তী বিমানবন্দরগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় এরই মধ্যে প্রায় দেড় হাজার ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে বলে জানিয়েছে ফ্লাইট এওয়ার ডটকম।

হারিকেন ফ্লোরেন্স মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য এলাকা থেকে জরুরি বিভাগের কর্মীদের পূর্ব উপকূলের রাজ্যগুলোতে নিয়ে আসা হয়েছে। জলাবদ্ধ নাগরিকদের উদ্ধারে প্রস্তুত রয়েছে কোস্ট গার্ডের শ্যালো-ওয়াটার রেসপন্স বোট।

ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতা নিয়ে আগেই সতর্ক করা নর্থ ক্যারোলাইনার গভর্নর রয় কুপার বৃহস্পতিবার বলেছেন, 'ঝড়ের হুমকি এখন বাস্তব।'

সাউথ ক্যারোলাইনার মার্টল বিচ এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত ৭টা থেকে সান্ধ্য আইন জারি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। পেট্রল স্টেশনগুলোতে দেখা দিয়েছে জ্বালানির স্বল্পতা।

ঝড়ের ফলে ১০ থেকে ৩০ লাখ বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ কাটা পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংযোগ পুনঃস্থাপনে কোথাও কোথাও সপ্তাহখানেকও লেগে যেতে পারে, বলছেন কর্মকর্তারা।

মন্তব্য

মতামত দিন

আমেরিকা পাতার আরো খবর

যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম অভিবাসীদের এক বিজয়গাঁথা রোমাঞ্চকর গল্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনওয়াশিংটন: বছর দুয়েক আগে এক শীতের মধ্যেই স্থানীয় উদ্বাস্তুদের সম্পর্কে নির্বাচিত গণ-প্রতিনিধি এব . . . বিস্তারিত

ইসলাম বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল আদর্শ, কেন এমনটি হচ্ছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনসান ফ্রান্সিস্কো: ইসলাম হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল একটি ধর্ম বা আদর্শ। কেন এমন . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com