ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞ তদন্তে জাতিসংঘের প্রস্তাব আটকালো যুক্তরাষ্ট্র

১৫ মে,২০১৮

ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞ তদন্তে জাতিসংঘের প্রস্তাব আটকালো যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
গাজা: গাজা সীমান্তে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভকারীদের ওপর ইসরাইলি বাহিনীর রক্তক্ষয়ী সহিসংতা ও হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতি আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

নিরাপত্তা পরিষদের খসড়া বিবৃতিটি পাঠ করেছে এএফপি। এতে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার পালনকারী ফিলিস্তিনি নাগরিকদের হত্যাকাণ্ডে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করছে নিরাপত্তা কাউন্সিল।

বিবৃতিতে সব পক্ষকে ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়ে আরো বলা হয়েছিল, ‘জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার স্বার্থে নিরাপত্তা কাউন্সিল একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছে।’

তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরকে ইঙ্গিত করে নিরাপত্তা পরিষদের খসড়া ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, পবিত্র শহর জেরুজালেমের অবস্থান ও ভৌগলিক পরিবর্তনের আইনগত কোনও প্রভাব নেই।

জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের প্রতিবাদে সোমবার সীমান্ত এলাকার ওই বিক্ষোভে অংশ নেন লাখো মুক্তিকামী ফিলিস্তিনি। তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ৫৮ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইসরাইলি সৈন্যরা।

১৯৬৭ সালে জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরাইল। এরপর থেকে তারা জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তার বৈধতা দেয়নি। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি নেতারা দাবি করে আসছেন পূর্ব জেরুজালেম তাদের রাজধানী হবে।

গত বছরের ৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের একক রাজধানীর স্বীকৃতি দেন। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফিলিস্তিনসহ বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে। এরপর জেরুজালেম বিষয়ে যেকোনও সিদ্ধান্ত অকার্যকর ঘোষণা করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদেও প্রস্তাব পাস হয়।

এদিকে, গাজা সীমান্তে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর বর্বর হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত তুর্কি রাষ্ট্রদূতদের প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে আঙ্কারা। এছাড়াও, ৫৮ ফিলিস্তিনি হত্যার নিন্দা জানিয়ে দেশটি তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।

সোমবার তুর্কি উপ-প্রধানমন্ত্রী বেকির বোজদাগ এসব তথ্য জানান।

এদিকে, মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরেরকে প্রতিবাদে আঙ্কারায় হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেছে। এই বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় তুরস্ক।

তুর্কি বিক্ষোভকারীরা এসময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পতাকা পুড়িয়ে দিয়ে এবং ইসরাইল-গাজা সীমান্তে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ করেন।

বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন। এসব ব্যানারে লেখা ছিল: ‘আল কুদুস মুসলমানদের’। তারা পবিত্র যুদ্ধ এবং শহীদ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্লোগান দেয়।

একজন প্রতিবাদকারী আমেরিকানদের ‘কুকুর’ বলে সম্বোধন করে বলেন, ‘জেরুজালেম আমাদের, এটা আমাদের হবে।’ সূত্র: এএফপি, মিডল ইস্ট মনিটর, আল জাজিরা

মন্তব্য

মতামত দিন

আমেরিকা পাতার আরো খবর

‘মি-টু’ আন্দোলনের পর এবার ‘হিম-টু’!

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনওয়াশিংটন: হ্যাশট্যাগ মি-টুর কথা এখন সবাই জানেন। যৌন নিপীড়নের শিকার মেয়েদের না-বলা কাহিনি প্রক . . . বিস্তারিত

ইসলামকে ধর্ম হিসেবে অস্বীকার বিশ্বের সকল ধর্মের জন্য হুমকি: ইহুদি নোয়াম

রাব্বি নোয়াম মারান্স: বিশ্বের কোনো প্রান্তে কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে হুমকি দেয়া অনেকটা পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা উক্ত ধর্মের অন . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com