বিতর্কের মধ্যেই মানসিক মেডিক্যাল চেক-আপ, ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফর বাতিল!

১৩ জানুয়ারি,২০১৮

বিতর্কের মধ্যেই মানসিক মেডিক্যাল চেক-আপ, ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফর বাতিল!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
ওয়াশিংটন: মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ওভাল অফিসে শুক্রবার প্রথমবারের মতো মেডিক্যাল চেক-আপ করান ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই ধরনের চেক-আপ করালেন। খবর বিবিসি’র

এদিকে যুক্তরাজ্য সফর বাতিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। লন্ডনে নতুন মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধনের জন্য আগামী মাসে যুক্তরাজ্য সফরে যাওয়ার কথা ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। লন্ডনে আসলে তাকে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়তে হতে পারে এমন আশঙ্কা এবং এই সফরকে পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় সফরের মর্যাদা দেওয়া হবে না এমন বিবেচনাতেই তিনি এই সফর বাতিল করেছেন বলে মনে করছেন অনেকে। তবে প্রেসিডেন্ট সেই ধারণা নাকচ করে দিয়েছেন।

অভিবাসীদের নিয়ে ট্রাম্পের নোংরা মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। যদিও ট্রাম্প ওই ধরনের মন্তব্য করেননি বলে দাবি করেছেন। ট্রাম্প হাইতি, এল সালভেদর ও আফ্রিকার দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীদের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, আমরা কেন নোংরা দেশগুলো থেকে আসা এই লোকদের থাকতে দিচ্ছি? এদের বের করে দেন। জাতিসংঘের মুখপাত্র এ মন্তব্যকে লজ্জাজনক ও বর্ণবাদী বলে আখ্যা দিয়েছেন। মার্কিন আইনপ্রণেতারাও ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প টুইট বার্তায় দাবি করেন, লন্ডনে মার্কিন দূতাবাস যেভাবে নতুন জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে সেটা তিনি পছন্দ করেননি। সেজন্যেই তিনি এই দূতাবাস উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন না। তিনি বলেছেন, লন্ডনের সবচেয়ে দামী একটি এলাকা থেকে ভক্সহলে যেখানে মার্কিন দূতাবাস নেওয়া হয়েছে, সেখানে গিয়ে তিনি ফিতা কেটে এটি উদ্বোধন করবেন, তার প্রশ্নই উঠে না।

লন্ডনে মার্কিন দূতাবাস ছিল নগরীর একেবারে কেন্দ্রস্থলে অভিজাত এলাকা মেফেয়ারে, ট্রাফালগার স্কোয়ারের অদূরে। সেখান থেকে মার্কিন দূতাবাস এখন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে দক্ষিণ লন্ডনে টেমস নদীর ধারে এক বিশাল নতুন ভবনে, যেটি নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় একশ’ কোটি ডলার। ট্রাম্প তার পূর্বসূরি বারাক ওবামাকে দোষারোপ করে বলেছেন, দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার এই পরিকল্পনাটি ছিল খুবই বাজে। যদিও এই দূতাবাস সরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশের আমলে। ট্রাম্পের পরিবর্তে এখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন দূতাবাস উদ্বোধন করতে যাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প টুইটার বার্তায় যে দাবিই করুন, তার সফর বাতিলের পেছনে অন্য কারণ আছে বলে সন্দেহ করেন অনেকে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী যখন তাকে রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, তখন থেকেই তীব্র সমালোচনা হচ্ছিল যুক্তরাজ্যে। দেশটির বামপন্থী দল এবং গোষ্ঠীগুলো হুমকি দিয়েছিল যে তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় সফরের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভের আয়োজন করবে এবং পুরো লন্ডন অচল করে দেবে।

লন্ডনের মেয়র সাদিক খান থেকে শুরু করে এমনকি ক্ষমতাসীন কনজারাভেটিভ পার্টিরও কোনো কোনো এমপি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এভাবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানোর বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ এবং অস্বস্তির কথা জানিয়েছিলেন। সাদিক খান বলেছেন, ট্রাম্পের নীতি যে লন্ডনবাসী পছন্দ করছে না এটা তিনি বুঝতে পেরেছেন। থেরেসা মে যখন ব্রিটিশ রাণীর পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, তখন থেকেই এটি প্রত্যাহারের জন্য তার ওপর চাপ বাড়ছিল। এই আমন্ত্রণ প্রত্যাহারের জন্য অনলাইনে একটি দরখাস্তে এ পর্যন্ত ১৮ লাখ মানুষ সই করেছেন। তবে যুক্তরাজ্যে মার্কিন রাষ্ট্রদূত উডি জনসন গত মাসে বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৮ সালেই লন্ডন সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্তব্য

মতামত দিন

আমেরিকা পাতার আরো খবর

গাঁজা ও জাস্টিন ট্রুডোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনঅটোয়া: বুধবার মধ্যরাত থেকে কানাডার বাজারে গাঁজা বিক্রি এবং ব্যবহার উন্মুক্ত করে দিয়েছে। স্বাস্ . . . বিস্তারিত

মায়ানমারের নৃশংসতা বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে শুনানির অনুরোধ

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনযুক্তরাষ্ট্র: যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য আটটি দেশ মায়ানমারের নৃশংসতা বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে স . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com