রাখাইনে যৌন সহিংসতার কথা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে তোলা হচ্ছে

১৩ নভেম্বর,২০১৭

বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ৬ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
নিউ ইয়র্ক: মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে প্রধানত-মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সামরিক বাহিনীর চালানো যৌন সহিংসতা ঘটনা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে অবহিত করবেন জাতিসংঘের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

যুদ্ধকালীন যৌন সহিংসতা সম্পর্কে জাতিসংঘের মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি প্রমীলা প্যাটেন অভিযোগ করেছেন, মায়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী একটি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতাকে একটি পরিকল্পিত ত্রাস ছড়ানোর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। খবর বিবিসির।

তিনি আরো বলেন, এর লক্ষ্য হচ্ছে রোহিঙ্গাদের নিশ্চিহ্ন করা। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাদের শরণার্ধী শিবিরগুলোতে সফর করে বিভিন্ন বয়েসের নারীদের সঙ্গে কথা বলেন প্রমীলা প্যাটেন।

এর পর তিনি বলেন, গণহত্যার সময় ধর্ষণকে একটা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়াটাই সমাধান: মার্কিন মন্ত্রী সাইমন হেনশ
এর আগে মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় শিবির পরিদর্শন করার পর মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়াই হবে এই সঙ্কটের সর্বোত্তম সমাধান এবং মায়ানমারের সরকারকেই এর দায়িত্ব নিতে হবে।

শনিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে সফররত মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতা ভারপ্রাপ্ত সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইমন হেনশ বলেন, মার্কিন প্রশাসনের সবোর্চ্চ স্তরে এখন রোহিঙ্গা ইস্যুটি গুরুত্ব পাচ্ছে।

অন্যদিকে মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতনের অবসান ঘটাতে দেশটির সামরিক বাহিনীর ওপর আরো কঠোর অবরোধ আরোপের একটি প্রস্তাব এনেছেন আমেরিকার ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান ও বিরোধী ডেমোক্র্যাট দলের সিনেটরদের একটি গ্রুপ। সেই সাথে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে রাখাইন রাজ্যে ফেরার জন্য সামরিক বাহিনীকে সুষ্ঠু পরিবেশে নিশ্চিত করতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

চলমান রোহিঙ্গা সঙ্কটের প্রেক্ষাপটে মার্কিন একটি প্রতিনিধি দল মায়ানমার সফর শেষ করে বাংলাদেশের কক্সবাজারে গিয়েছিল সেখানে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে। এই মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতা মার্কিন জনসংখ্যা-শরণার্থী ও অভিবাসন ব্যুরোর সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইমন হেনশ ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে শনিবার বলেন, যে পরিস্থিতি তিনি দেখেছেন তা ‘অত্যন্ত বেদনাদায়ক’।

তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দায়িত্ব নিতে হবে মায়ানমারকেই। হেনশ বলেন, সর্বপ্রথম এটা তাদের দায়িত্ব রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, দ্বিতীয়ত নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনা ও খবরের তদন্ত করা ও জবাবদিহিতার আওতায় আনা তাদের দায়িত্ব, তৃতীয়ত, রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের অবশ্যই তাদের বাসস্থান ও জমিতে ফিরতে দিতে হবে। এজন্য দ্রুত তাদের বাড়ি ও গ্রাম পুনর্গঠনের ব্যবস্তা নিতে হবে । সর্বশেষ যেটি গুরুত্বপূর্ণ - রোহিঙ্গাদের সফলভাবে প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইনে বিবদমান গ্রুপগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন।

ঢাকায় আমেরিকান ক্লাবে মার্কিন সহকারী মন্ত্রী এই বক্তব্য দিলেন এমন এক সময় যখন আমেরিকার কংগ্রেসে আরো কঠোর অবরোধের দাবি তুলেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান এবং বিরোধী ডেমোক্রেট দলের সদস্যদের পক্ষ থেকে মায়ানমারের সামরিক সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য মায়ানমার সরকারের সাথে সহযোগিতা বন্ধ করে দেয়ার জন্য বিল উপস্থাপন করা হয় শুক্রবার। যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে এটাকেই এ যাবৎকালের সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

এই বিলে মায়ানমারের ওপর আমদানি ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে কড়াকড়ি নবায়নের দাবি তোলা হয়। ওই প্রস্তাবের পর বিবৃতিতে বলা হয়, বার্মায় নিরপরাধ শিশু নারী ও পুরুষকে হত্যা এবং ভূমিহীন করার জন্য দায়ী সামরিক কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে এবং এধরনের অত্যাচার নির্যাতনের ঘটনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই তাদের পাশে দাঁড়াবে না।

এদিকে মায়ানমারে রাখাইনে নির্যাতন ও হত্যা প্রশ্নে ঢাকায় মার্কিন সহকারী মন্ত্রীও এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, পুর্নাঙ্গ তদন্ত শেষে দোষীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।

সাইমন হেনশ বলেন, আমরা নিয়মিতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং কংগ্রেস আমাদেরকে এ সংক্রান্ত বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহ করেছে। ভয়াবহ নির্যাতনের বিভিন্ন ধরনের খবর রয়েছে এবং সেসব রিপোর্টের পূর্ণ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছি। যারা এজন্য দোষী বলে চিহ্নিত হবে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আসতে হবে।

মার্কিন কংগ্রেসে মায়ানমারের ওপর কঠোর অবরোধ বিষয়ে সর্বশেষ বিলটি আনা হলো এমন এক সময় যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘ এক এশিয়া সফরের উদ্দেশ্য দেশ ছেড়েছেন।

ট্রাম্প প্রশাসন এ মুহুর্তে রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রদপ্তরের মুখপাত্র হিদার নুয়ার্ট। মায়ানমারে নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর গত ২৫ আগস্টের পর থেকে মাত্র দুইমাসে ৬ লাখের বেশি মানুষ পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

তাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে মায়ানমারের ওপর চাপ তৈরির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কি ধরনের ভূমিকা নিতে পারে- সেই প্রশ্ন করেছিলাম মিস্টার হেনশ’কে। তিনি জবাবে বলেন, ‘এক্ষেত্রে ‘চাপ’ শব্দটি ব্যবহার করা ঠিক হবে কিনা আমি নিশ্চিত নই । আমরা সবসময় তাদের উৎসাহিত করছি যত দ্রুত সম্ভব শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যাতে স্বেচ্ছায় রোহিঙ্গারা ফিরতে পারে। সেজন্য আমরা কূটনৈতিক এবং অন্যান্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবো। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার দায়িত্ব মায়ানমারের। তাদেরকে নিরাপদ এলাকা নিশ্চিত করতে হবে।’

মন্ত্রী হেনশ বলেন, ‘এই সমস্যার শুরু মায়ানমারে সেখানেই এর সমাধান। আর প্রত্যাবাসন প্রকিয়ার দায়িত্ব নিতে হবে মায়ানমারকে।’ মায়ানমার সফরকালে মার্কিন প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে মায়ানমারের রাখাইনে সংবাদ মাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রবেশাধিকার চাওয়া হয়েছে।

তবে মার্কিন কতৃপক্ষ বারবারই মায়ানমারের সামরিক সরকারের উদ্দেশ্যে তাদের কঠোর বক্তব্য উল্লেখ করলেও সরাসরি অং সান সুচির সরকারকে দোষারোপ করছেনা।

অন্যদিকে মার্কিন সিনেটরদের প্রস্তাবের মাধ্যমে মায়ানমারের সামরিক এবং বেসামরিক সরকারকে সুনির্দিষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছেন কংগ্রেস সদস্যরা। যেখানে তারা বলেছেন, সংঘাত বন্ধ করতে হবে, অপরাধীদের জবাবদিহি করতে হবে এবং সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর বেসামরিক সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

মন্তব্য

মতামত দিন

আমেরিকা পাতার আরো খবর

জোট নিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হলে জার্মানিতে আবার নির্বাচন

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনবার্লিন: জার্মানিতে তথাকথিত জামাইকা কোয়ালিশন আগামী জোট সরকার গঠনের আলোচনা শুরু করতে পারবে কিনা, . . . বিস্তারিত

ইয়েমেন থেকে সৌদি অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জাতিসংঘের

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএননিউইয়র্ক: দারিদ্রপীড়িত ইয়েমেনের ওপর থেকে সৌদি অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com