আফগানিস্তানে ‘জয়সূচক পরিস্থিতি’ নেই: র‌্যান্ড পল

১৪ সেপ্টেম্বর,২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আরটিএনএন

ওয়াশিংটন: আফগানিস্তানে ‘জয়সূচক পরিস্থিতি’ নেই বলে জানিয়েছেন রিপাবলিকান সিনেটর র‌্যান্ড পল। তিনি এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সামরিক বাহিনীর সামর্থ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।


তিনি বলেন, ‘সবারই প্রয়োজন একটি বড় প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা। প্রেসিডেন্ট ওবামা যখন যুদ্ধ জয় করতে পারেননি কিংবা এক লাখ সেনা নিয়েও যুদ্ধ শেষ করতে পারেননি, তখন আমরা অতিরিক্ত তিন হাজার সেনা নিয়ে কী করতে যাচ্ছি? জয়সূচক কোনো পরিস্থিতি সেখানে নেই। আফগানিস্তানে সামরিক বিজয়ের সাক্ষাত পাওয়া যাবে না। এই বিতর্কই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত।’


র‌্যান্ড পল বলেন, ‘২০০১ সালে আমি এখানে থাকলে ৯/১১-এ আমাদের ওপর হামলাকারীদের শায়েস্তা করার প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিতাম। কিন্তু এখন আমি মনে করি না যে আরেকটি প্রজন্মকে যুদ্ধের মধ্যে বেঁধে ফেলা উচিত।’


তিনি যুদ্ধ চলবে, না বন্ধ হবে তা নিয়ে প্রত্যক্ষ ভোটাভুটির আয়োজনের জন্য কংগ্রেসকে বলেছেন। তিনি দাবি করেন, ফেডারেল সরকার কয়েক দশক ধরে সেনা প্রত্যাহারের ইস্যুটি নিয়ে চুপ করে আছে।


তিনি বলেন, আজ হবে আমাদের প্রথম ভোটাভুটি, আমার মতানুযায়ী যুদ্ধগুলো অনিবার্যভাবে বন্ধ করা নিয়ে নয়, বরং যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে না বন্ধ হবে তা নিয়ে আমরা ভোট দিতে পারি কিনা সে বিষয়ে। গত কয়েক বছর বা কয়েক দশক ধরে কংগ্রেস এই ইস্যুতে বিতর্ক এড়িয়ে যাচ্ছে।


ফলে আমি সেগুলো উত্থাপনের জন্য জোর দিচ্ছি। আমাদেরকে অবশ্যই ভোট দিতে হবে। কাজটা কঠিন। তবে আমরা আজ সকালে ভোট দিতে পারব।


তিনি বলেন, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের মিশনকে শুধুমাত্র জাতি গঠন হিসেবে অভিহিত করা যায়, এর চেয়ে বেশি কিছু নয়। তিনি আরো বলেন, ‘এটা জাতি গঠন। ১৫ বছর পর জাতি গঠন ছাড়া আর কিছু বলা যায় না।’


পল বলেন, তিনি চান আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার। তিনি আরো বলেন, এ ব্যাপারে যেকোনো আপসমূলক কাজের শুরুতেই গ্রামগুলো থেকে সামরিক টহল অবসান করা উচিত।


র‌্যান্ড পলের মতে, কাজটা যত তাড়াতাড়ি হয়, ততই ভালো। ১০ বছর আগে আমাদের দরকার ছিল শহর ও গ্রামে টহল দেয়া। লোকজনকে বলপ্রয়োগ করা না হলে তারা উঠে দাঁড়াতে ও নিজেদের রক্ষা করতে পারত না। আফগান সেনাবাহিনীকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দেয়া হয়েছে। আমরা সেখানে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার দিয়েছি। তারা যদি তাদের দেশের জন্য যুদ্ধ করতে ইচ্ছুক না থাকে, তবে আমি বুঝতে পারছি না, আমরা কেন তাদের দেশের জন্য লড়াই করা অব্যাহত রাখব।


পল হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দখলদারিত্ব বাড়ানো হলে সন্ত্রাসী শাখার প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে তা কাজ করতে পারে। প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র কোনো কিছু বদলাতে পারবে বলে যে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, সে ব্যাপারে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।


তিনি বলেন, লোকজন মনে করে, স্থায়ী দখলদারিত্বের মাধ্যমেই কেবল কাজটি করা যাবে। কিন্তু স্থায়ী দখলদারিত্বের বিপদও রয়েছে। এই প্রতিক্রিয়া হলো স্থায়ী সন্ত্রাসও।


পল বলেন, ‘আমার মনে হয় না আফগানিস্তানকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে গণতন্ত্র ফলপ্রসূ হবে।’

মন্তব্য

মতামত দিন

আমেরিকা পাতার আরো খবর

জাতিসংঘে মায়ানমারের মিথ্যাচারিতা, ‘৫ সেপ্টেম্বর থেকে কোনো সহিংসতা হয়নি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আরটিএনএননিউইয়র্ক: এবার জাতিসংঘে অং সান সু চির বক্তব্যেরই পুনরাবৃত্তি করলেন মায়ানমারের প্রতিনিধি। জাতিস . . . বিস্তারিত

মেক্সিকোতে ভূমিকম্প: ধ্বংসস্তুপের ওপরও টিকে আছে উঁচু ভবন, এর কারণ কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আরটিএনএনমেক্সিকো সিটি: ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প যখন মেক্সিকো সিটিতে আঘাত হানে তখন সেখানকার উঁচু ভবনগ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com