রোহিঙ্গদের ওপর মায়ানমারের নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞে গভীর ঘুমে ওয়াশিংটন  

১২ সেপ্টেম্বর,২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
ওয়াশিংটন: মায়ানমারের মুসলিম রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়ে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ব্যাপক শরণার্থী সঙ্কটের সৃষ্টি করেছে। তবে, এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে খুব সামান্যই প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, দেশটির আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বৌদ্ধ চরমপন্থীদের নিষ্ঠুর নির্যাতনে তিন লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা প্রতিবেশি বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে এসেছে।

এতে লাখ লাখ মানুষ কেবল উদ্বাস্তুই হচ্ছে না, বার্মিজ সেনাদের অমানবিক নির্যাতনে হাজার হাজার মানুষ মারাও যাচ্ছে।

রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে ‘নিষ্ঠুর সামরিক অভিযান’ চালানোর জন্য মায়ানমারকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন জাতিসংঘের শীর্ষ মানবাধিকার কর্মকর্তা জেইদ রা’দ আল হুসেইন। তিন এই পাশবিকতার ঘটনাকে পাঠ্যপুস্তকের জন্য ‘জাতিগত নির্মূলের’ একটি উদাহরণ বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা নির্যাতনের একাধিক রিপোর্ট আমাদের কাছে রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় বৌদ্ধ মিলিশিয়া কর্তৃত রোহিঙ্গা গ্রাম পুড়িয়ে দেয়ার স্যাটেলাইট চিত্রও আমাদের কাছে রয়েছে। পলায়নরত বেসামরিক লোকজনকে গুলিসহ বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিক বিবরণ এসব রির্পোটে ওঠে এসেছে।’

গত সপ্তাহে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান এই ঘটনাকে ‘জাতিগত নিধন’ ও ‘গণহত্যা’ বলে অভিহিত করে মায়ানমারের প্রতি কঠোর সমালোচনা করেন।

এই অবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ অনেকটা ঘুমিয়ে থাকার মতোই। তারা মায়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে একটি কূটনৈতিক পথে হাঁটছে। নাইপেদোর সঙ্গে তার সম্পর্কে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিপীড়নে ভারসাম্যমূলক সমালোচনা করার চেষ্টা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ক্রমবর্ধমান এই মানবিক সঙ্কটে কেবল বিবৃতি দিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করেছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা পরারাষ্ট্র মন্ত্রী রেক্স টিলারসনের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে মায়ানমার সরকারের এই কর্মকাণ্ডকে নিন্দা জানানো হয়নি।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব সারা হাকাবি স্যান্ডার্স সোমবার বলেছেন, বার্মার চলমান সঙ্কটে হোয়াইট হাউস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর ফিল রবার্টসন বলেন, ‘হোয়াইট হাউজ যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তখন স্টেট ডিপার্টমেন্ট গতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।’

দক্ষিণপূর্ব এশিয়া বিষয়ক রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিক মুরফি রয়টার্সকে বলেন, মায়ানমারের ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কৌশলগত অগ্রাধিকার হল তার গণতান্ত্রিক রূপান্তর। রাখাইনে সহায়তা কর্মীদের প্রবেশের অনুমতি দিতে ও গণমাধ্যমকে পুনরায় চালু করতে যুক্তরাষ্ট্র স্বল্পমেয়াদে মায়ানমারকে চাপ দিচ্ছে।

১৯৬২ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সামরিক জান্তা দেশটি শাসন করে।২০১০ সালে সীমিত আকারে রাজনৈতিক উদারীকরণের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত  মায়ানমার ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন দেশগুলোর একটি।

মায়ানমারের নিরাপদ স্বীকৃতি এবং হাই প্রোফাইল সফরের পদক্ষেপ গ্রহণ করে বারাক ওবামার প্রশাসন। ২০১১ সালে তৎকালীন সেক্রেটারি অব স্টেট হিলারি ক্লিনটনকে শুভেচ্ছা মিশনে দেশটি সফর করেন। এরপর  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মায়ানমারের ‘গণতন্ত্রকে উন্নীত করার জন্য যথেষ্ট অগ্রগতির’ স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৬ সালে দেশটির ওপর অবশিষ্ট অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।

মরফি বলেন, মায়ানমারের গণতন্ত্র নিয়ে এখনো অস্থির সঙ্কট থাকা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন দেশটির সরকারের সঙ্গে দৃঢ় অংশীদারিত্ব তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, ‘এর অর্থ এই নয় যে আমরা আমাদের উদ্বেগ এবং আমাদের সমালোচনা আটকিয়ে রাখব এবং প্রকৃতপক্ষে এখন আমরা সহিংসতা এবং উত্তেজনা অবসানের জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।’

মায়ানমার বাহিনীর অবরোধের মুখে গত ২৪ আগস্ট মধ্যরাতের পর রোহিঙ্গা যোদ্ধারা অন্তত ২৫টি পুলিশ স্টেশনে হামলা ও একটি সেনাক্যাম্পে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এতে মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়।

এরপর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে অভিযান শুরু করে মায়ানমারের সেনাবাহিনী। তাদের সঙ্গ যোগ দেয় দেশটির বৌদ্ধ চরমপন্থীরাও। অভিযানে হেলিকপ্টার গানশিপেরও ব্যাপক ব্যবহার করে মায়ানমার সেনাবাহিনী। সীমান্তে পুঁতে রাখায় হয় স্থলমাইন।

মায়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা, কুপিয়ে হত্যা, নারীদের গণর্ষণের অভিযোগ উঠে। তারা রোহিঙ্গাদের হাজার হাজার ঘরবাড়ি এবং একের পর এক রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়। তাদের হত্যাযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি বয়োবৃদ্ধ নারী এবং শিশুরাও। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই সহিংসতায় প্রায় ৩ হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছে।

জেনেভায় সংবাদ সম্মেলন করে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) মুখপাত্র ভিভিয়ান জানান, মিয়ানমারের রাখাইনে কমপক্ষে এক হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। জাতিগত নিধনযজ্ঞের মুখে প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে।

সূত্র: ফরেনপলিসি ডটকম

মন্তব্য

মতামত দিন

আমেরিকা পাতার আরো খবর

নিখোঁজ সাবমেরিন থেকে মিললো স্যাটেলাইট

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনবুয়েস আইরেস: আটলান্টিক মহাসাগরে ৪৪ জন ক্রু নিয়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া আর্জেন্টাইন সাবমেরিন থেকে . . . বিস্তারিত

বিশ্বের অন্যতম ভারী নারী ইসাবেল্লা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আরটিএনএনঢাকা: বিশ্বের অন্যতম ভারী নারী ইসাবেল্লা আমারাল। অনেকদিন ধরে ঘরে বসেই দিন কাটাচ্ছিলেন। তবে চিক . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com