রোহিঙ্গা ‘জাতিগত নিধন’ পাঠ্যপুস্তকে উদাহরণ হয়ে থাকবে: জাতিসংঘ

১১ সেপ্টেম্বর,২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আরটিএনএন

জেনেভা: রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে ‘নিষ্ঠুর সামরিক অভিযান’ চালানোর জন্য মায়ানমারকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন জাতিসংঘের শীর্ষ মানবাধিকার কর্মকর্তা জেইদ রা’দ আল হুসেইন। এই পাশবিকতার ঘটনা পাঠ্যপুস্তকের জন্য ‘জাতিগত নির্মূলের’ একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।


সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে দেয়া ভাষনে এসব কথা বলেন মানবাধিকার কমিশনের শীর্ষ এই কর্তা।


তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা নির্যাতনের একাধিক রিপোর্ট আমাদের কাছে রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় বৌদ্ধ মিলিশিয়া কর্তৃত রোহিঙ্গা গ্রাম পুড়িয়ে দেয়ার স্যাটেলাইট চিত্রও আমাদের কাছে রয়েছে। পলায়নরত বেসামরিক লোকজনকে গুলিসহ বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিক বিবরণ এসব রির্পোটে ওঠে এসেছে।’


জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের শীর্ষ এই কর্তা বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যেসব লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে তার জবাবদিহিতা প্রদানসহ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চলমান নিষ্ঠুর সামরিক অপারেশন শেষ করার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের বৈষম্যের কঠোরতা এবং ব্যাপক বৈষম্যের ধরন পাল্টানোর জন্য মায়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’


ইদ রা’দ আল হুসেইন বলেন, জাতিসংঘের তদন্তকারীদের রাখাইন রাজ্যে ঢুকতে না দেয়ায় সেখানকার পরিস্থিতি পুরোপুরি নির্ণয় করা যাচ্ছে না। কিন্তু যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে এটি পাঠ্যপুস্তকের জন্য ‘জাতিগত নিধনের’ একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।’


মায়ানমার বাহিনীর অবরোধের মুখে গত ২৪ আগস্ট মধ্যরাতের পর রোহিঙ্গা যোদ্ধারা অন্তত ২৫টি পুলিশ স্টেশনে হামলা ও একটি সেনাক্যাম্পে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এতে মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়।


এরপর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে অভিযান শুরু করে মায়ানমারের সেনাবাহিনী। তাদের সঙ্গ যোগ দেয় দেশটির বৌদ্ধ চরমপন্থীরাও। অভিযানে হেলিকপ্টার গানশিপেরও ব্যাপক ব্যবহার করে মায়ানমার সেনাবাহিনী। সীমান্তে পুঁতে রাখায় হয় স্থলমাইন।


মায়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা, কুপিয়ে হত্যা, নারীদের গণর্ষণের অভিযোগ উঠে। তারা রোহিঙ্গাদের হাজার হাজার ঘরবাড়ি এবং একের পর এক রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়। তাদের হত্যাযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি বয়োবৃদ্ধ নারী এবং শিশুরাও। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই সহিংসতায় প্রায় ৩ হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছে।


জেনেভায় সংবাদ সম্মেলন করে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) মুখপাত্র ভিভিয়ান জানান, মিয়ানমারের রাখাইনে কমপক্ষে এক হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। জাতিগত নিধনযজ্ঞের মুখে প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে।


সূত্র: রয়টার্স

মন্তব্য

মতামত দিন

আমেরিকা পাতার আরো খবর

জাতিসংঘে মায়ানমারের মিথ্যাচারিতা, ‘৫ সেপ্টেম্বর থেকে কোনো সহিংসতা হয়নি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আরটিএনএননিউইয়র্ক: এবার জাতিসংঘে অং সান সু চির বক্তব্যেরই পুনরাবৃত্তি করলেন মায়ানমারের প্রতিনিধি। জাতিস . . . বিস্তারিত

মেক্সিকোতে ভূমিকম্প: ধ্বংসস্তুপের ওপরও টিকে আছে উঁচু ভবন, এর কারণ কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আরটিএনএনমেক্সিকো সিটি: ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প যখন মেক্সিকো সিটিতে আঘাত হানে তখন সেখানকার উঁচু ভবনগ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com