উত্তেজনাপূর্ণ ও অপ্রমাণিত দলিলে যেভাবে সঙ্কটে ডোনাল্ড ট্রাম্প

১২ জানুয়ারি,২০১৭

আরটিএনএন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ওয়াশিংটন: রাশিয়ার সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বন্ধনের উপর একটি ফাইল তৈরি করার জন্য গত সাত মাস আগে ক্রিস্টোফার স্টিল নামে সাবেক একজন ব্রিটিশ গুপ্তচরের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। গত সপ্তাহে এ ফাইলের বিস্ফোরক বিবরণ প্রকাশ করা হয়।


আমেরিকার টপ সিক্রেট গোয়েন্দা রিপোর্টের পরিশিষ্টে ওঠে এসেছে- রাশিয়ার হোটেলে বেশ্যাদের সঙ্গে ট্রাম্পের কৌতুকোচ্ছলের অপ্রমাণিত কাহিনী, রিয়েল এস্টেট চুক্তি; যার উদ্দেশ্য ছিল ঘুষ এবং ডেমোক্র্যাটদের হ্যাকিংয়ে রাশিয়ান গোয়েন্দাদের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা।


এ রির্পোটের পরিণতি ধারণাতীত এবং দীর্ঘায়িত হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। রিপোর্টের সারসংক্ষেপ ইতোমধ্যে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং কংগ্রেসের নেতাদেরকে দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সিএনএন রিপোর্টটি ফাঁস করে এবং এ নিয়ে সব মিডিয়ায় চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ করা হচ্ছে।


তবে অপ্রমাণিত এসব দাবিকে ‘জালিয়াতি’ বলে বুধবার এর নিন্দা জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি এটিকে ‘অসুস্থ মানুষ’ কর্তৃক নাৎসি-স্ট্যাইল ‘বানোয়াট গল্প’ বলে অভিহিত করেন। এ প্রতিবেদন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ককে আরো ক্ষুণ্ণ করেছে এবং এর মধ্যে দিয়ে নতুন প্রশাসনের উপর একটি খারাপ ছায়া নিক্ষেপ করা হয়েছে।


বুধবার রাতে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার পর জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক জেমস আর ক্ল্যাপার জুনিয়র এসম্পর্কে তথ্য ফাঁসের সমালোচনা করে একটি বিবৃতি দেন। এতে বলা হয়, ‘ক্রিস্টোফার স্টিলের দলিলগুচ্ছ ‘নির্ভরযোগ্য’ কিনা সে সম্পর্কে গোয়েন্দা সংস্থা ‘কোনো তথ্য’ যাচাই করেনি। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তবুও এটা নীতি-নির্ধারকদের মাঝে শেয়ার করেছেন; যা জাতীয় নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে।’


২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর গল্পের শুরু। ওই সময় একজন ধনী রিপাবলিকান ‘দাতা’ যিনি দৃঢ়ভাবে ট্রাম্পের মনোনয়নের বিরোধিতা করেন। রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ট্রাম্পের অতীত কেলেঙ্কারি এবং তার দুর্বলতা সম্পর্কে একটি দলিলগুচ্ছ তৈরি করার জন্য তিনি সাবেক সাংবাদিক ফিউশন জিপিএস পরিচালিত ওয়াশিংটনের গবেষণা ফার্মকে ভাড়া করেন।


এই প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত একজন ব্যক্তি নাম না প্রকাশের শর্তে এটিকে বিরোধী গবেষণার কাজ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি গল্পের চরিত্রকে অস্থিতিশীল বলে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে আইনি বিরোধের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান। তবে ওই দাতার পরিচয় এখনো স্পষ্ট নয়।


ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাবেক সাংবাদিক ফিউশন জিপিএস তার জেদি প্রতিবেদনের জন্য পরিচিত। এছাড়াও, গ্লেন সিম্পসন প্রায়শই ব্যবসায়ী ক্লায়েন্টদের জন্য কাজ করে থাকেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় বিরোধী রাজনৈতিক প্রার্থীদের গবেষণার কাজে প্রার্থী, পার্টি সংগঠন বা দাতা কর্তৃক ফার্মটিকে ভাড়া করা হয়ে থাকে।


এটা তাদের রুটিনমাফিক কাজ এবং সচরাচর পাবলিক তথ্য অনুসন্ধানযোগ্য বড় বড় ডেটাবেস তৈরির কাজে ফার্মটি জড়িত। এর মধ্যে রয়েছে অতীত সংবাদ প্রতিবেদন, মামলার নথি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য নিয়ে কাজ করা। ফিউশন জিপিএস কয়েক মাস ধরে ট্রাম্প সম্পর্কিত নথি জড়ো করেন এবং ট্রাম্পের অতীত ব্যবসা এবং বিনোদন নিয়ে একসঙ্গে একটি ফাইল তৈরি করেন।


পরে ট্রাম্প নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হলে রিপাবলিকান ওই দাতার প্রচেষ্টার পরিসমাপ্তি ঘটে। কিন্তু এ ব্যাপারে হিলারি ক্লিনটনের সমর্থকরা খুবই আগ্রহী ছিল এবং ফিউশন জিপিএস ঠিক একই কাজটি করেন কিন্তু তা নতুন ক্লায়েন্টের পক্ষে।


গত জুন মাসে হঠাৎ প্রচেষ্টার মর্ম পরিবর্তন হয়। ওয়াশিংটন পোস্টের একটি রিপোর্টে বলা হয়, দৃশ্যত রাশিয়ান সরকারের এজেন্ট কর্তৃক ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির তথ্য হ্যাক করা হয়েছিল।


সাবেক ব্রিটিশ গোয়েন্দা অফিসার স্টিলকে ভাড়া করে ছিলেন সিম্পসন। সিম্পসন তার সঙ্গে এর আগেও কাজ করেছিলেন। একজন সাবেক গুপ্তচর হিসেবে স্টিল রাশিয়ার ভিতরে এর আগেও গুপ্তচরবৃত্তি চালিয়েছেন। যে কারণে রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের সংযোগ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে স্টিলের মস্কো প্রবেশ করার মতো কোন অবস্থানেই ছিলেন না।


রাশিয়া থেকে তথ্য পেতে এর পরিবর্তে তিনি একজন নেটিভ রাশিয়ান ভাষাভাষীকে ভাড়া করেন এবং সেইসঙ্গে তিনি ওই ব্যক্তির সঙ্গে গোপন যোগাযোগ তৈরি করেন।


স্টিল তার ধারাবাহিক দলিলে লিখেছেন, তিনি জুন মাস থেকে ফিউশন জিপিএসকে এসব তথ্য ডেলিভারি দিতে শুরু করেন এবং ডিসেম্বর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। ততদিনে অবশ্য নির্বাচন শেষ হয়ে গেছে এবং স্টিল কিংবা সিম্পসনের কাউকেই তখনো পর্যন্ত ক্লায়েন্ট কর্তৃক কোনো অর্থ দেয়া হচ্ছিল না। কিন্তু তারা তাদের কাজ বন্ধ রাখেন নি। যেটিকে তারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে বলে বিশ্বাস করেছিলেন। (সিম্পসন এই নিবন্ধটির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং এ ব্যাপারে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হলে স্টিল তাৎক্ষণিক কোনো উত্তর দেন নি)।


দলিলে দুটি ভিন্ন রাশিয়ান অপারেশনের কথা বর্ণিত হয়েছে। প্রথমটি সম্ভবত ট্রাম্পকে প্রভাবিত করতে রাশিয়ার বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে তথ্য খুঁজে বের করার বছরব্যাপী একটি প্রচেষ্টা ছিল। কারণ তিনি (ট্রাম্প) ওই সময় রাশিয়ান গোষ্ঠীশাসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। যাদের বিষয়ে পুতিন ট্র্যাক রাখতে চেয়েছিলেন।  


স্টিলের দলিল মতে, একটি পরিচিত কৌশল ব্যবহার করে মস্কোর একটি হোটেলে পতিতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের কথিত টেপ রেকর্ড এবং ট্রাম্পকে আকর্ষণীয় ব্যবসার প্রস্তাবের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।


রাশিয়ান অপারেশনের দ্বিতীয়টি হচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ের। আর সেটি হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ রক্ষা করা। এসময় হিলারি ক্লিনটনের নির্বাচনী প্রচারণার চেয়ারম্যান জন ডি পোদেস্টা ও ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির হ্যাকিং নিয়ে আলোচনা করার জন্য ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ করা হতো।


স্টিলের সূত্র মতে, এটা অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে জড়িত ছিল। ট্রাম্পের আইনজীবী মাইকেল কোহেন ও রাশিয়ান একজন কর্মকর্তার মধ্যে গত গ্রীষ্মে রাশিয়ার প্রাগে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যার লক্ষ্য ছিল বিদেশে রাশিয়ার স্বার্থ প্রচার করা এবং এরই অংশ হিসেবে রাশিয়ান গোয়েন্দারা হিলারি ক্লিনটনের ক্ষতি করার জন্য জটিল হ্যাকিং অপারেশন চালান।


সর্বশেষ তথ্য হচ্ছে, মার্কিন নির্বাচনের ইতিহাসে সবচেয়ে কলহপ্রিয় এ নির্বাচনের পর আমেরিকানরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন এবং আসন্ন প্রেসিডেন্টের বিশ্বাস ও মতবাদ সম্পর্কে বিভ্রান্তিতে ভোগছেন। এই গোয়েন্দা প্রতিবেদন বিষয়টিকে আরো জটিল করে তুলেছে।


নিউইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে মো. রাহুল আমীন

মন্তব্য

মতামত দিন

আমেরিকা পাতার আরো খবর

মার্কিন স্বাস্থ্য বিলের আড়ালে ৮০০ বিলিয়ন চিকিৎসা সহায়তা হ্রাস

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনওয়াশিংটন: ওবামাকেয়ারের পরিবর্তে রিপাবলিকান স্বাস্থ্য বিল হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ৫২ বছরের পুরোনো . . . বিস্তারিত

সিরিয়ার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আরটিএনএন নিউইয়র্ক: সিরিয়ার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সাম্প্রতিক ইসরাইলের সম্পর্ক বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com