জামাল খাসোগি: সৌদি সাংবাদিক, যিনি কনস্যুলেটে ঢুকে হারিয়ে গেছেন

১০ অক্টোবর,২০১৮

জামাল খাসোগি: সৌদি সাংবাদিক, যিনি কনস্যুলেটে ঢুকে হারিয়ে গেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
রিয়াদ: বিবাহ বিচ্ছেদের একটি সনদ নেয়ার জন্য ২ অক্টোবর নিজ দেশ, সৌদি আরবের ইস্তানবুল কনস্যুলেটে প্রবেশ করেছিলেন সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি। তুরস্কের পুলিশ বলছে, তিনি এরপর আর সেখান থেকে বেরিয়ে আসেননি।

ইস্তানবুলের পুলিশ মনে করছে, কনস্যুলেটের ভেতরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে, কিন্তু সৌদি সরকারের দাবি যে, তিনি বেরিয়ে গেছেন।

সৌদি আরবের রাজ পরিবারের একসময়কার উপদেষ্টা হঠাৎ করেই তাদের অনুগ্রহ হারিয়ে গত বছর থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসনে রয়েছেন। কিন্তু কে এই জামাল খাসোগি? কিভাবে তার উত্থান হয়েছিল? তার নিখোঁজের পেছনে কি ভূমিকা রেখেছে? খবর বিবিসির।

জন্ম ও পেশা

মদিনায় ১৯৫৮ সালে জন্মগ্রহণকারী জামাল খাসোগি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে পড়াশোনা করেন।

এরপর সৌদি আরবে ফিরে আশির দশকে তিনি সাংবাদিক হিসাবে পেশাজীবন শুরু করেন। আঞ্চলিক একটি সংবাদপত্রের হয়ে তিনি আফগানিস্তানে সোভিয়েত অভিযান কাভার করেন।

তখন তিনি ওসামা বিন লাদেনের উত্থানের বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে দেখতে পান। আশি এবং নব্বইয়ের দশকে বর্তমানে আল-কায়েদার এই নিহত নেতার বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকার নিয়েছেন।

সাংবাদিক হিসাবে বিখ্যাত হয়ে ওঠা

এরপর তার পেশাজীবনে আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ যোগ হয়। যার মধ্যে কুয়েতের প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধ রয়েছে।

নব্বইয়ের দশকে তিনি স্থায়ীভাবে সৌদি আরবে ফিরে আসেন। ১৯৯৯ সালে তিনি ইংলিশ ভাষার আরব সংবাদপত্র আরব নিউজে উপ-সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

২০০৩ সালে আল ওয়াতান সংবাদপত্রের সম্পাদক নিযুক্ত হন, কিন্তু সৌদি ধর্মযাজকদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় দুই মাসের মধ্যে বহিষ্কৃত হন।

এরপর তিনি লন্ডনে এবং ওয়াশিংটনে সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রিন্স তুর্কি বিন-ফয়সালের মিডিয়া উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেন, যে প্রিন্স একসময় সৌদি আরবের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ছিলেন।

২০০৭ সালে আল ওয়াতানে তিনি আবার ফিরে আসেন, কিন্তু তিন বছর পর নতুন করে আরেক বিতর্কের মুখে তাকে চলে যেতে হয়।

২০১১ সালের আরব বসন্তের সময় তিনি ইসলামপন্থী গ্রুপগুলোর প্রতি সমর্থন জানান, যারা বেশ কয়েকটি আরব দেশে ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে।

২০১২ তিনি সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট আরব নিউজ চ্যানেলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যেটি কাতারের চ্যানেল আল জাজিরার প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছিল।

কিন্তু বাহরাইনের একজন নামী বিরোধী নেতাকে বক্তব্য দেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানোয় প্রচারের ২৪ ঘণ্টা পরেই বাহরাইন ভিত্তিক এই চ্যানেলটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

সৌদি আরব সম্পর্কিত বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কণ্ঠ হিসাবে বিবেচিত মি. খাসোগি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমেও নিয়মিত প্রদায়ক হিসাবে কাজ করতেন।

২০১৭ সালের গ্রীষ্মে সৌদি আরব ত্যাগ করেন সাংবাদিক জামাল খাসোগি। ওয়াশিংটন পোস্টে তার প্রথম লেখায় তিনি লেখেন, তিনি এবং আরো কয়েকজন স্বেচ্ছা নির্বাসনে এসেছেন, কারণ তাদের ভয়, তাদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

তিনি বলেছেন, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সংস্কার বিষয়ে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরোধিতা করায় অসংখ্য মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, আল-হায়াত সংবাদপত্রে তার কলাম বাতিলের জন্য চাপ দিয়েছে সৌদি সরকার এবং তখনকার মার্কিন হবু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সৌদি আরবের অতিরিক্ত প্রীতি নিয়ে টুইট না করার জন্যও সতর্ক করে দেয়া হয়।

‘আমি বাড়ি ছেড়েছি, আবার পরিবার আর চাকরি হারিয়েছি এবং আমার কণ্ঠ তুলে ধরেছি। এটা না করলে যারা কারাগারে রয়েছে, তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে। যখন অনেকেই কোন কথা বলতে পারছে না, তখন আমি বলছি। আমি সবাইকে জানাতে চাই, সৌদি আরব কখনোই এমন ছিল না, যা এখন হচ্ছে। সৌদিদের আরো ভালো কিছু প্রাপ্য।’

তার কলামে সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, নানা অভিযানের মাধ্যমে আসলে চরমপন্থীদের সরকার উৎসাহিত করছে। যুবরাজকে তিনি রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

মঙ্গলবার ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর থেকে জামাল খাসোগিকে আর দেখা যায়নি। স্ত্রীকে ডিভোর্সের সনদ আনার জন্য তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।

তার বান্ধবী হাতিস চেঙ্গিস বলছেন, তিনি কনস্যুলেটের বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন, কিন্তু তাকে দেখতে পাননি।

তুরস্কের কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের বিশ্বাস, কনস্যুলেটের ভেতরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং তারা ভেতরে প্রবেশাধিকার চেয়েছেন। কিন্তু সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব অভিযোগের ভিত্তি নেই।

মন্তব্য

মতামত দিন

এশিয়া পাতার আরো খবর

মায়ানমারে এলে হাতে অস্ত্র নেব: বৌদ্ধ বিন লাদেন

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএননেপিদ: সংগৃহীতযেদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) মায়ানমারে প্রবেশ করবে, সেদিনই অস্ত্র হাতে . . . বিস্তারিত

‘মি-টু’ বিতর্ক: মানহানির মামলা করলেন মন্ত্রী আকবর

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএননয়াদিল্লি: ভারতে সাবেক পত্রিকা সম্পাদক এবং বর্তমানে বিজেপি সরকারের জুনিয়র মন্ত্রী এম জে আকবর - . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com