ব্রেকিং সংবাদ: |
  • ওসির গুলিতে বিএনপি নেতা মাহাবুব উদ্দিন খোকন গুরুতর আহত

চীনে মসজিদ ভাঙ্গার বিরুদ্ধে  দাঁড়িয়েছে মুসলিমরা

১১ আগস্ট,২০১৮

চীনে মসজিদ ভাঙ্গার বিরুদ্ধে  দাঁড়িয়েছে মুসলিমরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
বেইজিং: চীনের পশ্চিমাঞ্চলে একটি মসজিদকে ভেঙ্গে দেবার হাত থেকে রক্ষা করতে শতশত মুসলমান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন নিংজিয়া এলাকায় নবনির্মিত ওয়েইজু গ্র্যান্ড মসজিদ তৈরির সময় যথাযথ অনুমোদন নেয়া হয়নি।

কিন্তু কর্তৃপক্ষের এ ধরণের বক্তব্যে মুসল্লিরা পিছু হটতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। একজন মুসল্লি বলেন, তারা সরকারকে এ মসজিদ স্পর্শ করতে দেবেন না। খবর বিবিসির।

চীনে দুই কোটি ৩০ লাখ মুসলমানের বসবাস এবং পশ্চিমাঞ্চলের নিংজিয়া প্রদেশে গত কয়েকশ বছর ধরে মুসলিমরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বসবাস করছে। কিন্তু মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, চীনে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সরকারের বিদ্বেষ ক্রমেই বাড়ছে। যে মসজিদটি সরকার গুড়িয়ে দেবার উদ্যোগ নিয়েছে সেটি মধ্যপ্রাচ্যের মসজিদগুলোর আদলে মিনার এবং গম্বুজ দিয়ে তৈরি।

কিভাবে বিক্ষোভ শুরু হলো?
আগস্ট মাসের তিন তারিখে সরকার একটি নোটিশ জারি করে। সেখানে বলা হয়েছে যে এ মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা এবং নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয়নি। সেজন্য এ মসজিদ ভেঙ্গে দেয়া হবে বলে জানানো হয় সে নোটিশে। সরকারের সে নোটিশটি হুই মুসলিমরা নিজেদের মধ্যে অনলাইনে শেয়ার করে।

হংকং ভিত্তিক সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট পত্রিকা বলেছে অনেকে প্রশ্ন তোলেন, দুই বছর ধরে মসজিদটি তৈরি করার সময় কর্তৃপক্ষ কেন প্রশ্ন তোলেনি? বৃহস্পতিবার মসজিদের বাইরে মুসলমানরা বিক্ষোভ করেছে এবং সে বিক্ষোভ শুক্রবারও চলেছে।

চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে বড় সাদা ভবনের বাইরে বহু মানুষ জড়ো হয়েছে। একজন বাসিন্দা জানিয়েছেন হুই মুসলিম এবং সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যকার আলোচনা কোন সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট পত্রিকায় দেয়া সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেছেন, ‘ আমরা এখন অচলাবস্থার মধ্যে আছি। সরকারকে এ মসজিদ স্পর্শ করতে দেবে না মানুষজন। কিন্তু সরকারও পিছু হটছে না’।

তবে শুক্রবার এ মসজিদ ভেঙ্গে দেবার কাজ শুরু হবে নাকি কোন সমঝোতা হয়েছে সেটি এখনো পরিষ্কার নয়। স্থানীয় ইসলামিক এসোসিয়েশনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন পুরো মসজিদ ভেঙ্গে দেয়া হবে না।

তিনি রয়টার্সকে বলেছেন মসজিদের আকার কমিয়ে আনার জন্য এক কাঠামো সংস্কার করতে চেয়েছে সরকার। চীনে স্বাধীনভাবে ধর্ম চর্চা করা যায়? চীনের সংবিধান অনুযায়ী সেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে।

কিন্তু বাস্তবে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড সরকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। হুই মুসলিমরা নৃতাত্ত্বিকভাবে চীনা এবং তারা মান্দারিন ভাষায় কথা বলে।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, চীনের চার্চগুলো থেকে ক্রুশ চিহ্ন সরিয়ে নিতে বাধ্য করেছে সরকার। সরকার বলেছে এ চিহ্ন পরিকল্পনার নিয়ম ভেঙ্গেছে। চীনের কমিউনিস্ট সরকার সে দেশে বিদেশী ধর্মের প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। এমন অবস্থায় তারা ধর্মের একটি চীন বৈশিষ্ট্য তৈরি করার চেষ্টা করছে।

হুই মুসলিমরা যদিও তাদের ধর্ম চর্চার ক্ষেত্রে স্বাধীন কিন্তু পশ্চিমাঞ্চলের জিনজিয়াং এলাকায় উইঘুর মুসলিমরা সরকারের দিক থেকে বেশ চাপের মধ্যে আছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন পশ্চিমাঞ্চলে জিনজিয়াং-এ সরকারের কড়া নজরদারি রয়েছে এবং জনসমাগমের এলাকায় মুসলিম মহিলাদের নেকাব ব্যবহারে কারণে অনেকে শাস্তির মুখোমুখি হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, হাজার-হাজার উইঘুর মুসলিমকে চীন সরকার জোর করে ‘শিক্ষা কেন্দ্রে’ পাঠিয়েছে। সেখানে আটককৃতদের নিজের ধর্ম ত্যাগ করতেও বাধ্য করা হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, নিংজিয়া এলাকায় মসজিদ গুড়িয়ে দেবার যে উদ্যোগ চীন সরকার নিয়েছে তাতে মনে হচ্ছে এখন তারা সেদিকে নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে চাইছে।

গবেষক প্যাট্রিক পুন বলেছেন, ‘এটা পরিষ্কার যে মুসলিমদের প্রতি চীন সরকারের যে বিদ্বেষ সেটি শুধু উইঘুরদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়’।

মন্তব্য

মতামত দিন

এশিয়া পাতার আরো খবর

জাপান উপকূলে মার্কিন বিমানের সংঘর্ষ, নিখোঁজ ৫ মেরিন সেনা

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনটকিও: জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে আমেরিকার দুটি বিমানের সংঘর্ষে অন্তত ৫ মেরিন সেনা নিখোঁজ হয়েছ . . . বিস্তারিত

বাবরি মসজিদ ধ্বংসে তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী কতটা দায়ী?

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএননয়াদিল্লি: ১৯৯২ সালের ৬ই ডিসেম্বর ছিল রবিবার। রবিবার বলেই একটু দেরী করে সেদিন ঘুম থেকে উঠেছিলে . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com