ইমরান খানের শপথ আগামী সপ্তাহে, মন্ত্রীসভায় থাকছেন যারা

০৯ আগস্ট,২০১৮

ইমরান খানের শপথ আগামী সপ্তাহে, মন্ত্রীসভায় থাকছেন যারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
ইসলামাবাদ: অনেক জল্পনা-কল্পনা শেষে আগামী সপ্তাহেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন ইমরান খান। তবে এখনো দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। তবে শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরেই।

শপথ আগামী সপ্তাহের যেদিনই হোক না কেন তা নিয়ে আর কোনো অস্পষ্টতা নেই। তবে ইমরানের মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, এখন আলোচনা তা নিয়েই।

২৫ জুলাই পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে জয়ী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টি (পিটিআই) এর মন্ত্রিসভায় সৎ ও দেশপ্রেমিকদেরকেই বেছে নিচ্ছেন ইমরান খান।

জিও নিউজ ও দ্য নিউজের খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টি (পিটিআই) ইমরান খানের মন্ত্রিসভা হবে ছোট। এরা সবাই তার ঘনিষ্ঠ হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। কোনো কোনো গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ১৫-২০ জনের মন্ত্রী থাকবেন ইমরানের মন্ত্রিসভায়। তারা হলেন পিটিআইয়ের নেতা আসাদ উমর, পারভেজ খাট্টার, চৌধুরী মোহাম্মদ সারওয়ার, জারতাজ গুল, আরিফ আলভি, ফাওয়াদ চৌধুরী, শিরিন মাজারি। পিটিআইয়ে জোটসঙ্গী মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট, পিএমএল কিউ এবং বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টি থেকেও কয়েকজন মন্ত্রী সভায় থাকবেন।

তবে আসাদ উমর, পারভেজ খাট্টার, শিরিন মাজারি, জাহাঙ্গীর খান তারিন ও শাহ মাহমুদ কুরেশী যে ইমরানের সঙ্গে মন্ত্রিসভায় থাকছেন, তা অনেকটাই নিশ্চিত।

ভারতের হিন্দুস্তান টাইমসের এক খবরে বলা হয়েছে, পিটিআই নেতা শিরিন মাজারিকে নতুন সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী করা হতে পারে। যিনি একসময় ভারতের জনবহুল স্থানে পরমাণু অস্ত্র হামলার পক্ষে ছিলেন। শিরিন মাজারি ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া ইমরান খানেরও ঘনিষ্ঠ। তিনি এর আগে একটি ইংরেজি দৈনিকের সম্পাদক ছিলেন।

১৯৯৯ সালের অক্টোবরে একটি প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাময়িকীতে শিরিন ভারতের জনবহুল এলাকায় পরমাণু অস্ত্র হামলার পক্ষে সায় দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধের পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদের উচিত দিল্লি এবং মুম্বাইয়ের কাছাকাছি থাকা পরমাণু অস্ত্রভান্ডারগুলো ধ্বংস করে দেওয়া। এগুলো ভারতের জনবহুল স্থানের কাছাকাছি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিরিন মাজারির মতো আগ্রাসী মনোভাবাপন্ন একজন ব্যক্তি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হলে ভারতসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে পাকিস্তান সম্পর্কে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

আসাদ উমর: ইসলামাবাদ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত আসাদ উমর। সিতারা ইমতিয়াজ পাওয়া আসাদ উমর এনগ্রো পাকিস্তান নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ছিলেন। তিনি দেশটির সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া সিইওদের মধ্য অন্যতম। সেনাবাহিনীতে কাজ করা বাবার ষষ্ঠ সন্তান আসাদ। এমবিএ করা আসাদ উমর ইমরানের জোট সরকারের অর্থমন্ত্রী হতে পারেন। এইচএসবিসি ব্যাংকে ছয় বছর কাজ করা আসাদ ১৯৮৫ সালে কানাডার এক্সন কেমিক্যালে যোগ দেন। তখন তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে একমাত্র পাকিস্তানি ছিলেন। সেখান থেকে এনগ্রোতে যোগ দেন তিনি। ২০১২ সালে এনগ্রো পাকিস্তান ছেড়ে দিয়ে রাজনীতির মাঠে নামেন, যোগ দেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টিতে (পিটিআই)। পিটিআই থেকে ২০১৩ সালের নির্বাচনে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২৫ জুলাই নির্বাচনেও জয় পান তিনি।

জাহাঙ্গীর খান তারিন: পারভেজ মোশাররফ সরকারের সাবেক শিল্পমন্ত্রী ছিলেন জাহাঙ্গীর খান তারিন। বাংলাদেশের কুমিল্লায় জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিবিদের জন্ম ১৯৫৩ সালে। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করা এই ধনবান ব্যক্তি একজন ব্যবসায়ী। ২০০২ সাল থেকে পার্লামেন্ট সদস্য। গত বছরের ডিসেম্বরে পর্যন্ত পিটিআইয়ের জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন। একসময়ের লেকচারার, পরে ব্যাংকার হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০১০ সালে তারিন এডুকেশন ফাউন্ডেশন গঠন করেন। সেখান থেকে প্রতিবছর হাজারো শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়। ২০১১ সালে পিটিআইতে যোগ দেন জাহাঙ্গীর খান তারিন। এরপর দলটির প্ল্যানিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইমরানের মন্ত্রিসভায় তাঁর থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

পারভেজ খাট্টার: পারভেজ খাট্টার ইমারনের অন্যতম রাজনৈতিক সহযোগী। খাইবার পাখতুন খাওয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই প্রদেশে ইমরানের দল পিটিআইয়ের বেশ প্রভাব রয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে এ প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পারভেজ খাট্টার এবার কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। জাহাঙ্গীর খান তারিনের পর পারভেজ খাট্টার পিটিআইয়ের জেনারেল সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছেন। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে দুবার ওই প্রদেশের মন্ত্রী ছিলেন খাট্টার। ইমরানের মন্ত্রিসভায় তিনি থাকছেন।

শাহ মাহমুদ কোরেশী: শাহ মাহমুদ কোরেশী এখন পিটিআইয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০২ সাল থেকে পার্লামেন্ট সদস্য। ২০০৮ থেকে ২০১১ পর্যন্ত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কেমব্রিজে পড়াশোনা করা শাহ মাহমুদ কোরেশী একসময়ের নওয়াজ শরিফের দল পিএমএম-এনের নেতা ছিলেন। দেশটির প্রাদেশিক সরকারের এই মন্ত্রী এবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অথবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারেন।

মন্তব্য

মতামত দিন

এশিয়া পাতার আরো খবর

এম জে আকবর: ‘মি-টু’ আন্দলনের প্রথম বলি

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনদিল্লি: ভারতের পররাষ্ট্র দফতরের জুনিয়র মন্ত্রী এম জে আকবর তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু যৌন হয়রানির অ . . . বিস্তারিত

যৌন হয়রানির অভিযোগে পদত্যাগ করলেন ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএননয়াদিল্লি: মি টু আন্দোলনে অন্যতম অভিযুক্ত ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর পদত্যাগ করল . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com