জিন্নাকে প্রধানমন্ত্রীর পদে চেয়েছিলেন গান্ধী: দালাই লামা

০৯ আগস্ট,২০১৮

জিন্নাকে প্রধানমন্ত্রীর পদে চেয়েছিলেন গান্ধী: দলাই লামা

আর্ন্তাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
কলকাতা: মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চেয়েছিলেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। কিন্তু সেই প্রস্তাবে আপত্তি তোলেন জওহরলাল নেহরু।

তার এই সিদ্ধান্ত আত্মকেন্দ্রিকতা ফুটে উঠেছিল— দেশভাগ ও এই উপমহাদেশের রাজনীতিকদের শাসন ক্ষমতায় বসা নিয়ে বলতে গিয়ে আজ এই দাবি করেছেন ৮৩ বছর বয়সি তিব্বতি ধর্মগুরু দালাই লামা।

তার এই বক্তব্যকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে প্রশ্নও উঠে গিয়েছে। গোয়া ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের এক অনুষ্ঠানে দালাই লামা এ দিন আরও দাবি করেছেন, ‘নেহরু সে দিন যদি গান্ধী প্রস্তাব মেনে নিতেন, তা হলে হয়তো দেশভাগ হত না’।

সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রসঙ্গে এক ছাত্রের প্রশ্নের জবাবে তিব্বতি ধর্মগুরু বলেন, ‘সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার তুলনায় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অনেক বেশি কার্যকরী। কারণ, সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা মুষ্টিমেয় কয়েক জনের হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেয়। যা খুবই বিপজ্জনক’।

এই প্রসঙ্গে তিনি টেনে আনেন জিন্নাকে প্রধানমন্ত্রী করতে গান্ধী ইচ্ছা আর সেই প্রস্তাবে নেহরুর আপত্তির কথা। দালাই লামার মন্তব্য, ‘আমার মনে হয়, নেহরু নিজেই প্রধানমন্ত্রী হতে চাইছেন, এটা তার তরফে কিছুটা আত্মকেন্দ্রিক ভাবনা। গান্ধী ভাবনা যদি বাস্তবায়িত হত, তাহলে ভারত-পাকিস্তান এক হয়ে থাকতে পারত’।

তবে দালাই লামার মতে, নেহরু ‘অনেক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, তীক্ষ্ণ বুদ্ধির রাজনীতিক ছিলেন। ‘কখনও কখনও অবশ্য ভুল হয়েই যায়’— মন্তব্য করেন তিনি। তবে নেহরু প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে যে ভাবে চীনের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে এই ধর্মগুরুকে ভারতে আশ্রয় দিয়েছিলেন— সেই প্রসঙ্গও আজ তুলেছেন অনেকে। কারও কারও মতে, নেহরু সে দিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী না থাকলে হয়তো চীনের জেলে ঠাঁই হত দালাই লামার।

পানাজির অনুষ্ঠানে তিব্বত ছেড়ে তার পালিয়ে আসার অভিজ্ঞতার কথাও এ দিন শুনিয়েছেন দালাই লামা।

জীবনের সব চেয়ে ভয়াবহ দিনগুলির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘১৯৫৬ সালেই সঙ্কট তৈরি হয়েছিল। তিব্বতের মানুষের উপর ভয়াবহ অত্যাচার শুরু করেছিল চীনা শাসকেরা। তার পরে ১৯৫৯ সালের ১৭ মার্চের রাতে দেশ থেকে পালিয়ে আসি’।

তার কথায়, ‘পরের দিনটা দেখতে পাব কিনা, সব সময়ে সেই ভাবনাই গ্রাস করেছিল। আর যে পথে পালিয়েছি, সেখানেও পদে পদে ছিল চীনা সেনার হাতে বন্দি হওয়ার আশঙ্কা’।

তিব্বতি ধর্মগুরু বলেন, ‘চীনের শক্তি শুধু তাদের অস্ত্রে। কিন্তু আমাদের শক্তি লুকিয়ে রয়েছে সত্যে। অস্ত্র দিয়ে হয়তো তাৎক্ষণিক লাভ হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ সময়ের প্রেক্ষিতে দেখা যায়, সত্যের জোর বন্দুকের থেকে অনেক বেশি’।

মন্তব্য

মতামত দিন

এশিয়া পাতার আরো খবর

পাক জেনারেলকে জড়িয়ে ধরে আক্রমণের মুখে সিধু

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএননয়াদিল্লি: পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে গিয়ে সে দেশের সেনাপ্ . . . বিস্তারিত

ইমরান খানের ২১ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনইসলামাবাদ: পাকিস্তানের ২২তম হিসেবে শপথ নেয়ার একদিন পরই ছোট আকারের মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন ইমরান খ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com