নির্মম নিয়তি কেড়ে নিল সম্ভাবনাময় চিকিৎসকদের

১২ মার্চ,২০১৮

নির্মম নিয়তি কেড়ে নিল সম্ভাবনাময় চিকিৎসকদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
কাঠমন্ডু:পড়াশোনা করতেন সিলেটের জালালাবাদ রাগিব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। গত ১০ মার্চ তাদের এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষা শেষ করে রওয়ানা দিয়েছিলেন নিজেদের দেশ নেপালের পথে। তারা পৌছলেন তবে জীবিত নয় মৃত হয়ে। হাজার সম্ভাবনাকে অন্ধকারে রেখে পাড়ি জমালেন অজানার পথে।

সঞ্জয় পাউডেল, সানজিয়া মহার্জন, নিগা মহার্জন, আনজিনা শ্রেষ্ঠা, পূর্ণিমা লোহানী, শ্বেতা তাপা, মিলি মহার্জন, সারুনা শ্রেষ্ঠা, আনজিনা বাড়াল, চারু বাড়াল, আসমা শেফায়া, প্রিন্সিধামী ও সামিরা তারা সবাই নেপালের নাগরিক। সিলেটে এসেছিলেন চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। পড়াশোনা করতেন সিলেটের জালালাবাদ রাগিব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। গত ১০ মার্চ তাদের এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়। পরীক্ষার পর তারা ছুটি কাটাতে রওয়ানা দিয়েছিলেন নিজেদের দেশ নেপালের পথে। কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশি বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় সিলেট থেকে যাওয়া এই ১৩ জন দুর্ঘটনাকবলিত হয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

সেখানে ছুটি কাটিয়ে চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার কথা ছিল তাদের। কথা ছিল নিজেদের নিয়োজিত করবেন মানবসেবায়। কিন্তু সে স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল। তার আগে নির্মম নিয়তি কেড়ে নিয়েছে তরতাজা ১৩ হবু চিকিৎসককে; এমনটি আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সিলেটের বেসরকারী মেডিকেলটির উপ-পরিচালক ডা. আরমান আহমদ শিপলু ও কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর আবেদ হোসেন সন্ধ্যায় বলেছেন, আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে নিশ্চিত হতে পেরেছি আমাদের কলেজের ১৩ শিক্ষার্থীই দুর্ঘটনা কবলিত বিমানের যাত্রী ছিলেন। তন্মধ্যে ৪ জনের মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেছে তাদের পারিবারিক সূত্রে। অন্য ৯ জনের এখনও খোঁজ মিলছে না। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে যে তথ্য পাওয়া যায় সেটি থেকে ধারণা করা হচ্ছে তাদের কেউই বেঁচে নেই।

অধ্যক্ষ আবেদ হোসেন জানান, রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের নিহত সবাই ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তারা। তাদের মধ্যে ১১ জন মেয়ে এবং ২ জন ছেলে রয়েছেন। গত ১০ মার্চ ইয়ারলি ফাইনাল পরীক্ষা শেষ করে সোমবার ইউএস এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে করে তারা সবাই নেপালে তাদের নিজ দেশে বেড়াতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়।

আবেদ হোসেন জানান, নিহতরা সবাই এমবিবিএস ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা শেষ করে নিজেদের দেশ নেপালে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন। নেপাল পৌঁছার পরই এ দুর্ঘটনার স্বীকার হলেন তারা।

এদিকে নিজেদের কলেজের ১৩ জন শিক্ষার্থী দুর্ঘটনা কবলিত হওয়ার সংবাদে ও ৪ জনের মৃত্যুর খবরে জালালাবাদ রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ঘোষণা করা হয়েছে তিন দিনের কর্মসূচি। সেটি মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে।

নামার সাথে সাথে বিমানটি কাঁপছিলো: প্রত্যক্ষদর্শী

নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ বাংলাদেশী একজন যাত্রী বলেছেন, বিমানটি রানওয়েতে নামতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসময় তিনি বলেন, ‘আমার চোখের সামনেই সবকিছু হলো। বোর্ডিং পাস হাতে নিয়ে আমি অপেক্ষা করছিলাম। এসময় এই দুর্ঘটনা ঘটে’।

দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর তিনি বলেন, অবতরণ করার সাথে সাথেই বিমানটি কাঁপছিলো। তারপরই তিনি দেখতে পান, তার ভাষায়, হঠাৎ একসময় তাতে আগুন ধরে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী বাংলাদেশী ছাত্র আশীষ কুমার সরকার বলেছেন, তিনি বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন বাংলাদেশে ফেরার জন্যে। ইউ-এস বাংলার এই বিমানে করেই তার ঢাকায় ফেরার কথা ছিলো।

সরকার বলেন, ‘এসময় আমি মোবাইল ফোন দিয়ে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ছবি তুলছিলাম। আমি দেখলাম ল্যান্ড করার সাথে সাথে বিমানটি কাঁপছিলো। মনে হচ্ছিলো যে ওটা মনে হয় ঠিক মতো ল্যান্ড করতে পারছিলো না। তারপর দেখলাম যে হঠাৎ করে বিমানে আগুন ধরে গেছে।’

আশীষ সরকার জানান, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই এসব ঘটলো। কিন্তু শুরুতে কেউই যেন বুঝতে পারছিলো না যে আসলে কি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সেসময় যেসব বিমান অবতরণ করার জন্যে রানওয়ের কাছাকাছি চলে এসেছিলো এরকম কয়েকটা বিমানকে তিনি অবতরণ করতে দেখেছেন। কিন্তু এর কয়েক মিনিট পর থেকে তিনি আর কোন বিমানকে উড়তে বা নামতে দেখেন নি।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই তিনি কোনো উদ্ধার তৎপরতা দেখতে পান নি। আশীষ সরকার নেপালে বেড়াতে গিয়েছিলেন। দুর্ঘটনার তিন ঘণ্টা পর তিনি জানান যে ইউএস-বাংলার কোনো কর্মকর্তা তখনও পর্যন্ত অপেক্ষমাণ যাত্রীদের সাথে যোগাযোগ করেনি। তাদের কাউন্টারও বন্ধ ছিলো বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বাংলাদেশী একটি বিমান বিধ্বস্ত হলে কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ঢাকা থেকে ৭১ জন আরোহী নিয়ে বিমানটি রানওয়েতে অবতরণ করার পরপরই এই দুর্ঘটনা ঘটে। তখন বিমানটিতে আগুন ধরে যায়।

নেপালের পুলিশ জানিয়েছে, ৩১ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। আরো ৯ জন পরে হাসাপাতালে মারা গেছেন। এখনও আটজন নিখোঁজ রয়েছে। বাকিদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই গুরুতর।

বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের একজন নেপালের একটি সংবাদপত্রকে বলেছেন, বিধ্বস্ত বিমানটির জানালা দিয়ে তিনি বের হয়ে আসেন। এবং তিনি নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করছেন। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায় নি।

মন্তব্য

মতামত দিন

এশিয়া পাতার আরো খবর

ভারতে পথ নাটক করতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার ৫ নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএননয়াদিল্লি: রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়খণ্ড রাজ্যের এমন একটি জায়গায় যেখান থেকে নারী পাচার হয় ব . . . বিস্তারিত

মাকে তালাবন্দি রেখে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে তিন দিনেও খোঁজ নেই ছেলে-পুত্রবধূর!

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনকলকাতা: জন্মদাত্রী মায়ের অবস্থান বাঙালি সংস্কৃতিতে স্রষ্টার সম্মানের পরেই। মায়ের সন্তুষ্টিতে আল . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com