রোহিঙ্গাদের জমিতেই সেনাঘাটি বানাচ্ছে মায়ানমার

১২ মার্চ,২০১৮

রোহিঙ্গাদের জমিতেই সেনাঘাটি বানাচ্ছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
নাইপিদো: মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে সেনা নির্যাতনে রোহিঙ্গারা পালিয়ে যাওয়ার পর তাদের ফেলে আসা গ্রাম ও জমিজমায় ঘাটি তৈরি করছে মায়ানমারের সেনাবাহিনী।

নতুন এক গবেষণার পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে তারা স্যাটেলাইট থেকে ধারণ করা ছবি ও প্রত্যক্ষ দর্শীদের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানতে পেরেছেন।

যেসব গ্রাম থেকে মায়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনে রোহিঙ্গারা পালিয়ে গেছেন সেসব গ্রামেই ঐ রোহিঙ্গাদের ফেলে আসা জমি ও ভিটে-বাড়ির উপর ঘাটি তৈরি করছে সেনাবাহিনী।

এই জানুয়ারি মাসে রোহিঙ্গাদের গ্রামে বহু বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে বলে অ্যামনেস্টির বলছে।

নতুন করে সারি সারি ঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে বলেও জানাচ্ছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

এর আগে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচও একই ধরনের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের একজন মুখপাত্র এটিকে সেনাবাহিনী দ্বারা ভূমি গ্রাস বলে উল্লেখ করেছেন।

মায়ানমারের সরকার অ্যামনেস্টির অভিযোগ সম্পর্কে কোন মন্তব্য করে নি।

উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্ট মাসের ২৫ তারিখ থেকে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর অভিযানে নির্যাতন শুরুর পর থেকে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন খুব শিগগিরই হচ্ছে না: এইচটি ইমাম
ঢাকা: বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া সাত লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর নিজে দেশে ফেরা খুব শিগগিরই হচ্ছে না বলে স্বীকার করেছেন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলছেন, বাংলাদেশে এসব শরণার্থীর দীর্ঘমেয়াদী অবস্থানের কথা বিবেচনা করে সরকার এখন এদের বাসস্থান এবং ভরণপোষণের জন্য তৈরি হচ্ছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট দীর্ঘায়িত হতে পারে, এমন আশংকায় জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো প্রায় ১০০ কোটি ডলারের সাহায্যের আবেদন জানাতে যাচ্ছে।

বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমাম জানান, রোহিঙ্গাদের নিয়ে জাতিসংঘের পরিকল্পনাটির একটি খসড়া সরকারকে দেখানো হয়েছে এবং এতে মোটামুটিভাবে সরকারের সায় রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘নিশ্চই তারা মনে করছে (পুরো প্রক্রিয়াটি) আরও দীর্ঘায়িত হবে। অবস্থাদৃষ্টে আমারও তাই মনে হয়। পররাষ্ট্র সচিবও সেটি আমাকে জানিয়েছেন।’

ইমাম ব্যাখ্যা করেন, মায়ানমার সীমান্ত এলাকায় যেভাবে কাঁটাতারের বেড়া, পরিখা ইত্যাদি নির্মাণ করছে তাতে তাদের মনে হচ্ছে মায়ানমার শরণার্থীদের দেশে ফেরত যাওয়ার পথগুলো বন্ধ করে দিতে চাইছে।

‘এগুলো আমি আক্রমণাত্মক পদক্ষেপই বলবো,’ তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে এতে অন্য কারও ইন্ধন রয়েছে, যাতে তারা (মায়ানমার) আরও বেশি উৎসাহিত হয়ে উঠছে।’

তাহলে রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেয়ার প্রশ্নে সরকারের চিন্তাভাবনা কী হবে এই বিষয়ে এইচটি ইমাম জানান, বাংলাদেশ বিষয়টিকে আর আন্তর্জাতিকীকরণ করতে চাইছে না।

তারা প্রতিকারের জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের দ্বারস্থ হতে চাইছে না। ‘এর আগে আমরা চারবার নিরাপত্তা পরিষদে গেছি। প্রায় সব দেশই আমাদের সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু চীন প্রতিবারই আমাদের বাধা দিয়েছে।’

বাংলাদেশ মায়ানমারের সাথে দ্বিপাক্ষিকভাবে সমস্যা সমাধানের আলোচনা করতে চায় এবং এই কাজে চীনের সমর্থন নেয়ার চেষ্টা করবে বলে তিনি জানান।

ভাসান চর তৈরিতে ব্রিটিশ ও চীনা প্রতিষ্ঠান
রোহিঙ্গা সঙ্কট যে দীর্ঘায়িত হতে পারে এধরনের একটি আশঙ্কা আগেই করেছেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
সে কথা মাথায় রেখেই তিনি সম্প্রতি বলেছেন যে রোহিঙ্গাদের জন্য আগামী বাজেটি অর্থ সংস্থান করা হবে।

বাজেট বরাদ্দের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমামও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, শরণার্থীদের একাংশকে ভাসান চরে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া পুরো উদ্যমে চলছে।

সার্বিকভাবে এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে।
দ্বীপ সংরক্ষণ, মাটি ভরাট ইত্যাদির কাজ একটি ব্রিটিশ এবং একটি চীনা প্রতিষ্ঠান করছে বলে তিনি জানান।

জোয়ারের সময় দ্বীপটি যাতে জলমগ্ন না হয়, তার জন্যই এই দুটি প্রতিষ্ঠান সেখানে অবকাঠামো নির্মাণ করছে বলে মি. ইমাম বলেন।

মন্তব্য

মতামত দিন

এশিয়া পাতার আরো খবর

ভারতে পথ নাটক করতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার ৫ নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএননয়াদিল্লি: রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়খণ্ড রাজ্যের এমন একটি জায়গায় যেখান থেকে নারী পাচার হয় ব . . . বিস্তারিত

মাকে তালাবন্দি রেখে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে তিন দিনেও খোঁজ নেই ছেলে-পুত্রবধূর!

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনকলকাতা: জন্মদাত্রী মায়ের অবস্থান বাঙালি সংস্কৃতিতে স্রষ্টার সম্মানের পরেই। মায়ের সন্তুষ্টিতে আল . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com