মালদ্বীপে টিভি চ্যানেল বন্ধ, সাংবাদিকতায় কঠোর বিধি নিষেধ,

১২ ফেব্রুয়ারি,২০১৮

মালদ্বীপে টিভি চ্যানেল বন্ধ, সাংবাদিকতায় কঠোর বিধি নিষেধ,

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
মালে: মালদ্বীপের ক্ষমতাসীন আবদুল্লাহ ইয়ামিন আবদুল গাইয়ুম সরকার দমন-পীড়নের মাত্রা আরো এক দফা বাড়িয়েছে। জরুরি অবস্থা জারি ও বিচার বিভাগের কণ্ঠরোধের পর এবার তারা সংবাদ মাধ্যমের এপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। টিভি চ্যানেল ‘রাজ্যে টিভি’র সব সম্প্রচার বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো জানায়, সোমবার থেকে সংবাদ মাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধের মাত্রা আরো বাড়ানো হয়েছে। এদিন দেশটির পুলিশ বিভাগ মিডিয়াকে‘ ভালোভাবে যাচাই না করে’ সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ জারি করেছে। পাশাপাশি তারা একথাও জানিয়ে দিয়েছে, পুলিশের কাছ থেকে ছাড়পত্র না নিয়ে কোনো সংবাদ প্রচার বা প্রকাশ করা যাবে না।

পুলিশের কাছ থেকে সত্যতা যাচাই ও পুলিশি ছাড়পত্র না নিয়ে সংবাদ প্রকাশ বা প্রচার করা হলে তা দেশটিতে কথিত সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তদন্তে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।এমনটি করা হলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এহেন 'ষড়যন্ত্র ঠেকাতেই সরকারকে বাধ্য হয়ে জরুরি অবস্থা জারি করতে হয়েছে' বলেও উল্লেখ করে পুলিশ বিভাগ।

সোমবার জারি করা পুলিশের একটি বিবৃতির ভাষা ছিল এরকম: ‘মালদ্বীপের পুলিশ সার্ভিস সংবাদমাধ্যমকে এই মর্মে অনুরোধ জানাচ্ছে যে, তারা যেন ভুয়া তথ্য না ছড়ান, পুলিশের কাছ থেকে সত্যতা যাচাই না করে কোনো তথ্য বা সংবাদ যেন প্রচার ও প্রকাশ না করেন।

টিভি চ্যানেল ‘রাজ্যে টিভি’ (Raajje TV) অভিযোগ করেছে, সশস্ত্র বাহিনীর লোকেরা এসে মালদ্বীপের ব্রডকাস্টিং কমিশনের অফিস দখল করে নিয়েছে। তারা ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে’ সংবাদ মাধ্যমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট গাইয়ুম, প্রধান বিচারপতিসহ আটক দুই বিচারপতি এবং বিরোধী দলীয় নেতাদের এখনো জেলে অন্তরীণ রাখা হয়েছে। তাদের নামে দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণসহ নানা ফৌজদারি অভিযোগে মামলা দেওয়া অব্যাহত আছে।

মালদ্বীপ সঙ্কট নিয়ে মোদী-ট্রাম্প ফোনালাপে রোহিঙ্গা ইস্যু
মালদ্বীপের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিয়ে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এসময় তাদের আলোচনায় মায়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা প্রসঙ্গটিও ওঠে আসে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের তরফ থেকে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মালদ্বীপের রাজনৈতিক সঙ্কট এবং অন্যান্য ইস্যু নিয়ে ফোনে আলাপ করেছেন এই দুই নেতা। তারা ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা এবং সমৃদ্ধি বৃদ্ধি করতে একত্রে কাজ করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, বৌদ্ধ অধ্যুষিত মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ছয় লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনের বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুই নেতা। রোহিঙ্গারা এরই মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটা হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ও মায়ানমারের মধ্যকার রোডম্যাপ নিয়েও কথা বলেন তারা।

তবে হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে জানানো হয়, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্যে এটা ‘সঠিক সময় নয়’ বলে বিশ্বাস করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

সম্প্রতি মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদসহ নয় রাজবন্দীর মুক্তির নির্দেশ দেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু ওই রাজবন্দীদের মুক্তির আদেশ প্রত্যাখ্যান করেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন। তিনি দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন। ফলে দেশে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা শুরু হয়।

জরুরি অবস্থা জারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান বিচারপতিসহ দুই জ্যেষ্ঠ বিচারক এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আব্দুল গাইয়ুমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের গ্রেপ্তারের ঘটনার পর বিরোধী দলীয় ৯ রাজবন্দীর মুক্তির আদেশ এবং বরখাস্ত হওয়া বিরোধীদলের ১২ সংসদ সদস্যকেও পুনর্বহালের আদেশ দিয়ে জারি করা রুলটি মঙ্গলবার প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের ৫ বিচারপতির বেঞ্চের বাকি ৩ বিচারপতি।

ফোনালাপে মালদ্বীপের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মোদী এবং ট্রাম্প। এমন পরিস্থিতিতে সেখানে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতি জোর দিয়েছেন তারা।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের প্রতি সেখানে সেনা পাঠানোর আহ্বান জানান। বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় নির্বাসনে থাকা নাশিদ ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে বন্দিদের মুক্ত করতে মালদ্বীপকে অর্থনৈতিক চাপে ফেলার আহ্বানও জানান। যদিও মালদ্বীপে বিপুল বিনিয়োগ থাকা চীনের সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম সেখানে ভারতের সেনা হস্তক্ষেপের ব্যাপারে চূড়ান্ত সতর্ক করে দিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এ অবস্থায় দেশটির গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের ওপর জোর দেন।

মন্তব্য

মতামত দিন

এশিয়া পাতার আরো খবর

এই মুহূর্তে মন্ত্রীসভার কোনো পদ দখলের ইচ্ছা আমার নেই: আনোয়ার ইব্রাহীম

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনকুয়ালালামপুর: মালয়েশিয়ার অন্যতম রাজনৈতিক দল পিকেআরের জনপ্রিয় নেতা এবং পোর্ট-ডিকসনের উপনির্বাচনে . . . বিস্তারিত

মায়ানমারে এলে হাতে অস্ত্র নেব: বৌদ্ধ বিন লাদেন

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএননেপিদ: সংগৃহীতযেদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) মায়ানমারে প্রবেশ করবে, সেদিনই অস্ত্র হাতে . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com