ব্রেকিং সংবাদ: |
  • আমি নিজ থেকে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে পারি না: মাহাথির
  • বিএনপি নির্বাচন বয়কট করেছে বলে গণতন্ত্র বন্ধ থাকেনি: কাদের
  • মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আসুন ঐক্যবদ্ধ হই: ফখরুল

আকস্মিক ট্রাম্প-কিম উন অলিম্পিকে একসাথে!

১২ ফেব্রুয়ারি,২০১৮

ট্রাম্প-কিম উন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
ওয়াশিংটন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের মধ্যকার সম্পর্ক কেমন তা হয়তো নতুন করে বলার অবকাশ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিম উনকে উন্মাদ বলে কেবলই দাঁড়িয়েছেন। ওপাশ থেকে তা শুনে সঙ্গে সঙ্গেই এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্পকে পাগল বলে ঘোষণা দিলেন কিম জং উন।

একজনের হুঙ্কার, তা শুনে আরেকজনের ‘ডাবল স্ট্রেন্থ’ হুঙ্কার। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে মোটামুটি এভাবেই চলছে দুই প্রেসিডেন্টের নেতাগিরি।

দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠানরত শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনী আসরে মিডিয়াস্থলে হঠাৎ হাজির হলেন দুজন! সেটা আবার কোলাকুলি অবস্থায়। ক্যামেরা হাতে সেখানে তখন উপস্থিত শত শত সাংবাদিক। তারাও অবাক। প্রাথমিক বিস্ময়ের ধাক্কা সামলে সচল হলো সবার হাতে থাকা ক্যামেরা।

দা-কুমড়ো সম্পর্কের দুই নেতাকে একসঙ্গে অলিম্পিক আসরে দেখে উপস্থিত দর্শকরা তো অবাক। কেমনে কী! ঘোর কাটার আগেই করতালিতে ভরে গেল। দৌড়ে এলো নিরাপত্তারক্ষীরা। তারা কিম জং উন আর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে ধরে সরিয়ে নিতে থাকলো দূরে।

হ্যাঁ, এরাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর উত্তর কোরীয় প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের অবিকল চেহারা ও আকৃতির মানুষ। ইংরেজিতে যাকে বলে লুক অ্যালাইক।

চেহারা, গায়ের রঙ, উচ্চতা, পোশাক-আশাক, চলনভঙ্গি আর চাহনি সবই ট্রাম্প আর কিমের হুবহু অনুরূপ। পরে অবশ্য ‘ট্রাম-কিম’ দুজনই গিয়ে বসলেন দর্শকসারিতে। কারণ আগেভাগেই টিকেট কেটে নিয়েছিলেন তারা। তবে তাদের সঙ্গে সেলফি তুলতে ভুল করেননি উপস্থিত দর্শকরা। খবর এনডিটিভি।

কিম জং উনের সঙ্গেও আমার সম্পর্ক বেশ ভাল: ট্রাম্প
দু’দিন আগে পর্যন্ত তার দেশকে উড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছিলেন। তাকে ‘রকেট ম্যান’ বলে বহুবার ব্যঙ্গ-বিদ্রুপও করেছেন। কিন্তু এ বার কিছুটা হলেও সুর নরম করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্টের গদিতে বসার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি মার্কিন দৈনিককে কালই একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ট্রাম্প। আর সেখানেই তিনি জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উনের সঙ্গে তার নাকি দারুণ সম্পর্ক।

ট্রাম্প স্পষ্টই বলেছেন, ‘অনেকের সঙ্গেই আমার সম্পর্ক দারুণ। শুনলে হয়তো আপনারা চমকে যাবেন। কিম জং উনের সঙ্গেও আমার সম্পর্ক বেশ ভাল।’

খোদ ট্রাম্পের মুখ থেকে এমন কথা শুনে গোটা বিশ্বে জল্পনা শুরু হয়েছে তবে কি দীর্ঘ কয়েক দশকের খরা কাটিয়ে উত্তর কোরিয়ার শাসকের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের? ট্রাম্প খোলসা করে কিছুই বলেননি অবশ্য। তবে তার এই মন্তব্যের পরে দু’দেশের সম্পর্কের টানাপড়েন কিছুটা হলেও কমবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।

গত বছর জুড়ে একের পর এক পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে আমেরিকার ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলেছেন উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম। পিয়ংইয়ং থেকে সরাসরি আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকিও দিয়ে রেখেছিলেন তিনি।

চুপ করে থাকেননি ট্রাম্পও। গত বছর সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চ থেকে সরাসরি উত্তর কোরিয়াকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ না করার জন্য পিয়ংইয়ংয়ের উপর চেপেছে একাধিক আর্থিক নিষেধাজ্ঞাও। উত্তর কোরিয়ার দীর্ঘ দিনের বন্ধু চীনও শেষ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার প্রশ্নে আমেরিকার পাশেই দাঁড়িয়েছিল।

কিমকে ঠেকাতে কোরীয় উপসাগরে দক্ষিণ কোরিয়া আর জাপানকে নিয়ে একের পর এক মহড়াও সেরেছে মার্কিন বাহিনী। কার পরমাণু অস্ত্রের বোতাম কত বড়, সে নিয়েও তরজা চলেছে বিস্তর। তবে কিম জানিয়ে রেখেছিলেন, আমেরিকা আগে থেকে আক্রমণ না করলে তিনি হামলা চালানোর কথা ভাববেন না।

গত বছরের শেষ থেকে সুর নরমও করেন কিম। আমেরিকার পক্ষ নেওয়ার পর থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গেও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল। কিন্তু হঠাৎই দক্ষিণ কোরিয়ায় শীতকালীন অলিম্পিকে তার দেশ অংশ নেবে বলে ইচ্ছেপ্রকাশ করেন কিম। দু’বছরের শৈত্য কাটিয়ে ৯ তারিখ আলোচনার টেবিলে বসেন দুই কোরিয়ার প্রতিনিধিরা।

সম্ভবত সেটা দেখেই দু’দিন আগে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্পও। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, দক্ষিণের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয়ে কি আমেরিকার সঙ্গে তাদের দূরত্ব বাড়াতে চাইছেন কিম? ট্রাম্প সাফ বলেছেন, ‘আমি হলেও তা-ই করতাম। তবে সবাই তো আর প্রেসিডেন্ট হয় না। প্রেসিডেন্ট এক জনই, সেটা আমি।’

কিমের প্রশংসা শোনা গিয়েছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখেও। রাশিয়াও দীর্ঘদিনের বন্ধু উত্তর কোরিয়ার। পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নেয়া একাধিক নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও করতে দেখা গিয়েছে ক্রেমলিনকে। কাল পুতিন বলেন, ‘কিম যে ভাবে এগোচ্ছেন, তাতে এক অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মতো কোরীয় উপসাগরের অস্থিরতা কাটাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছেন।’

পাকিস্তান নিয়েও আজ কিছুটা সুর নরম করেছেন ট্রাম্প। তার কথায়, ‘আমরা আশাবাদী, পাকিস্তান তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জঙ্গিদের আমাদের হাতে তুলে দেবে।’ জঙ্গি দমনে যে অনুদান বন্ধ রেখেছে আমেরিকা, সে সম্পর্কে ট্রাম্পের মন্তব্য, ‘আমরা তো সেই টাকা অন্য খাতে খরচ করিনি। দরকারে পাকিস্তানকে আবার দেওয়া যেতেই পারে।’ সূত্র: সিএনএন

মন্তব্য

মতামত দিন

এশিয়া পাতার আরো খবর

ভারতের উত্তর প্রদেশে বিষাক্ত মদ খেয়ে ১৩ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনকানপুর: ভারতের উত্তর প্রদেশে বিষাক্ত মদ খেয়ে দুই দিনে ১৩ জনের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে। সোমবার কান . . . বিস্তারিত

ভয়ঙ্কর ৪০টি যুদ্ধবিমান পাচ্ছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনদিল্লি: ভারতের হাতে থাকা বর্তমান যুদ্ধবিমানের মধ্যে সর্বাধুনিক বিমান হচ্ছে সুখোই জেট। ভারতের হা . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com