রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বল প্রয়োগ নয়: জাতিসংঘ

০৭ ডিসেম্বর,২০১৭

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বল প্রয়োগ নয়: জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
নিউইয়র্ক: বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদে নিজ দেশ মায়ানমারে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কোনো ধরনের বল প্রয়োগ না করার বিষয়ে জোর দিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলছে, রাখাইনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ফেরত যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফানি ডুজারিক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।

রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিজ দেশে তাদের (রোহিঙ্গা) ফেরত যাওয়া উচিত। যখনই ফেরত যাওয়াকে নিরাপদ মনে হয় তখনই রোহিঙ্গাদের কোনো ধরনের বল প্রয়োগ ছাড়াই নিজেদের বাড়িতে ফিরতে দেওয়া উচিত।

‘আমি মনে করি বাংলাদেশ ও মায়ানমার দুই দেশেই রোহিঙ্গাদের দুর্দশাপূর্ণ অবস্থা নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব অত্যন্ত সরব ভূমিকা পালন করছেন,’ বলেন স্টিফানি।

এর আগে ওইদিনই জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের একটি বিশেষ সেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সংস্থাটির প্রধান জেইদ রাদ আল হুসেনও ‘তাড়াহুড়া করে’ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে পুলিশ ও দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার ঘটনায় সেখানে ‘জাতিগত নিধন’ শুরু করা হয়।

জাতিসংঘ বলছে, নির্যাতনে রোহিঙ্গা নারী-শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। নির্যাতন-নিপীড়ন ছাড়াও ধর্ষণ ও বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী; এ নিধনযজ্ঞে তাদের সহযোগিতা করছে স্থানীয় মগরা।

এরপর থেকেই বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢল নামে। নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে গত সাড়ে তিন মাসে এ পর্যন্ত ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

এখনও প্রতিদিনই কোনো না কোনা রোহিঙ্গা নর-নারী নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে বলে জানা গেছে।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মাত্র ৩৪ শতাংশ অর্থ সংগ্রহ!
রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থের মাত্র ৩৪ শতাংশ এখন পর্যন্ত সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ।

শরণার্থী সংকটের শততম দিনে সার্বিক অবস্থা বিষয়ে একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তাকারী সংগঠনগুলোর জোট ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। খবর বিবিসির

শরণার্থীদের জায়গা দেয়া স্থানীয় বাসিন্দাসহ মোট ১২ লাখ মানুষকে সহায়তা দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৪৩৪ মিলিয়ন পাউন্ডের মাত্র ৩৪ শতাংশ অর্থ এখন পর্যন্ত সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।

কক্সবাজারে ৮ লাখ ৩০ হাজারের বেশী রোহিঙ্গা রয়েছে, যাদের ৬ লাখ ২৫ হাজার ২৫শে আগস্টের পর বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। শরণার্থীরা দশটি আলাদা ক্যাম্পে ও সেখানকার স্থানীয়দের শরণার্থী হিসেবে থাকছেন।

এর মধ্যে একটি ক্যাম্প পৃথিবীর বৃহত্তম ও সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা শরণার্থী শিবিরে পরিণত হয়েছে, যেখানে অল্প জায়গায় গাদাগাদি করে প্রায় ৫ লাখ মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্য বা চিকিৎসাসেবা ছাড়া থাকছেন।

২৫শে আগস্ট থেকে ৩১শে অক্টোবর পর্যন্ত নেয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরী করা হয়েছে প্রতিবেদনটি।

শরণার্থী ও তাদের জায়গা দেয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় মানবাধিকার সংস্থাগুলো ও বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে।

সেখানে বলা হয় সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে এমন ১২ লাখ মানুষের অর্ধেকের কাছ পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে সহায়তা।

প্রতিবেদনে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার নানা সমস্যাও তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পো বলছেন, ‘মানবাধিকার সংস্থাগুলো দিনরাত কাজ করছে। কিন্তু বাস্তবতা হল, জরুরি ভিত্তিতে ব্যাপক ত্রাণ কার্যক্রম চালানো প্রয়োজন আর প্রতিবন্ধকতাও অনেক। আরো অর্থায়ন প্রয়োজন। বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর একটি, কিন্তু জনাকীর্ণ ক্যাম্পগুলোর অবস্থার উন্নতি করতে হলে আরও জায়গা প্রয়োজন।’

ক্যাম্পে সংক্রামক রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা ব্যাপক। মারাত্মক হতে পারে অতিবৃষ্টি বা সাইক্লোনের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব।

ক্যাম্পে থাকা শরণার্থীদের জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যে কিছু সুপারিশও করা হয় প্রতিবেদনে। যার মধ্যে রয়েছে খাদ্যে পুষ্টিমান উন্নয়ন, রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা, নতুন ক্যাম্পের জন্য পর্যাপ্ত পরিকল্পনা ও সবগুলো সমস্যা সমাধানে সতর্কতা বৃদ্ধি।

মন্তব্য

মতামত দিন

এশিয়া পাতার আরো খবর

‘মোদি আমাকেই বিয়ে করেছেন’

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএননয়াদিল্লি: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাকি ব্যাচেলর। সম্প্রতি এমনই দাবি করেছিলেন মধ্যপ্ . . . বিস্তারিত

নেপাল কি ভারতীয় প্রভাবের বাইরে চলে যাচ্ছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনকাঠমান্ডু: নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এখন পাঁচ দিনের চীন সফরে রয়েছেন। চীনের গণমাধ্যম . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com