ভারত-মায়ানমার-চীনের সম্পর্ক পাল্টে দিচ্ছে রোহিঙ্গা সমস্যা

০৭ ডিসেম্বর,২০১৭

ভারত-মায়ানমার-চীনের সম্পর্ক পাল্টে দিচ্ছে রোহিঙ্গা সমস্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
ঢাকা: মায়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ ও ভারতে আশ্রয় নেয়াকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ায় যে মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে, তাতে চীনা কূটনীতি ভারতের চেয়ে অনেক এগিয়ে গেছে।

চীন যেখানে একটা সুস্পষ্ট এবং ইতিবাচক কূটনীতির দিকে ঝুঁকেছে, সেখানে সিদ্ধান্তহীনতার কারণে ভারত তার অবস্থানগত সুবিধা সত্বেও গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের অধ্যাপক স্বরণ সিং স্পুটনিককে বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়াটি নিঃসন্দেহে জটিল। কিন্তু ভারতের তথাকথিত প্রভাব বলয়ের মধ্যেও চীন তার কূটনীতি নিয়ে আগে এগিয়ে গেছে।’

কৌশলগত সাফল্যের পথে, মায়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি’কে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বেইজিংয়ে নিতে পেরেছে চীন। সেখানে দুই পক্ষ চীন-মায়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে আলোচনায় দুই দেশই অনেক এগিয়েছে। বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মায়ানমার সংযোগ প্রকল্পের যে ধারণা ছিল, এই করিডোর সেটা থেকে আলাদা। মায়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইংও নভেম্বরের শেষে চীন সফর করেছেন।

চীন একদিকে মায়ানমারের জঙ্গি-বিরোধী অভিযানের সমর্থন করছে, অন্যদিকে উদ্বাস্তুদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারেও সহায়তা করছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যখন রোহিঙ্গা ইস্যুতে মায়ানমারের নিন্দা জানানো হয়, তখন চীন এর বিরোধিতা করছে। অন্যদিকে ভারত সেখানে নিশ্চুপ ছিল। দক্ষিণ এশিয়ায় বিভিন্ন মেগা-প্রকল্পে অর্থায়ন, নির্মাণ, হস্তান্তর এবং ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা দেখিয়ে ভারতের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে চীন। রোহিঙ্গাদের যদিও মানবিক সহায়তা দেয়ার চেষ্টা করছে ভারত, তবু তাদেরকে একরকম নিষ্ক্রিয় দেখাচ্ছে বলে মন্তব্য করলেন স্বরণ সিং।

বিশেষজ্ঞরা এটাও বলছেন যে দীর্ঘমেয়াদে ভারতের চেয়ে চীনই মায়ানমারের বেশি ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠবে, যদিও ভারতকে ঠিক অগ্রাহ্য করতে পারবে না মায়ানমার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পররাষ্ট্র বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন স্পুটনিককে বলেন, ‘মায়ানমার জানে, আন্তর্জাতিক ফোরামে বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে তারা ভারতের চেয়ে বেশি সাহায্য পাবে চীনের কাছে। মনে হয় মায়ানমার এটা বুঝতে পারছে যে তাদের নিজেদের স্বার্থেই নয়াদিল্লির চেয়ে বেইজিংয়ের কাছাকাছি হওয়া প্রয়োজন।’

মায়ানমারে সামরিক বাহিনীর অভিযান থেকে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

মন্তব্য

মতামত দিন

এশিয়া পাতার আরো খবর

রাজস্থানে মুসলিম হত্যার নেপথ্যে

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএননয়াদিল্লি: প্রকাশ্যে একজন মুসলিমকে কুপিয়ে হত্যার পর আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা পুরো ভারত জুড়ে . . . বিস্তারিত

চীনের ওবিওআরে যোগ দিতে ভারতকে উদ্বুদ্ধ করছে রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনদিল্লি: চীনের ‘এক অঞ্চল এক সড়ক’ (ওবিওআর) উদ্যোগে যোগ দিতে ভারতকে উদ্বুদ্ধ করছে রাশি . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com