আফগানিস্তানে যুদ্ধরত দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চায় জাতিসংঘ

০৬ ডিসেম্বর,২০১৭

আফগানিস্তানে যুদ্ধরত দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চায় জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
কাবুল: আফগানিস্তানে যুদ্ধরত গোষ্ঠীগুলো যাতে বেসামরিক নাগরিকদের হামলার লক্ষবস্তু না করে সে জন্য তাদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করছে জাতিসংঘ। দেশটিতে জাতিসংঘ সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ)-এ নিযুক্ত মহা সচিবের বিশেষ প্রতিনিধিত্ব তাদমাইচি ইয়ামামোতো এ কথা জানান।

তিনি বলেন, আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধরত দলগুলোকে আলোচনার টেবিলে আনতে জাতিসংঘ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে একটি বিশেষ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

এদিকে, আফগানিস্তানে বেসামরিক হতাহত সংখ্যা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটির মানবাধিকার কমিশন (এআইএইচআরসি)। কমিশন যুদ্ধের সময় বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টপক্ষগুলো প্রতি আহ্বান জানায়।

জাতিসংঘের পরিসংখ্যানের দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সশস্ত্র সংঘাতে দেশটিতে ১,৬০০ জনেরও বেশি বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে।

ইয়ামামোতো বলেন, ‘বেসামরিক জনগণকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার জন্য দ্বন্দ্বে জড়িত সকল পক্ষের সঙ্গে কাজ করে যাবে জাতিসংঘ। পাশাপাশি, একটি শান্তিপূর্ণ আফগানিস্তান গড়ার কাজে এগিয়ে যেতে সাবইকে উৎসাহিত করবে।’

আফগানিস্তানে নির্বাচন নিয়ে ইয়ামামোতো আশা প্রকাশ করছেন যে এতে নারীদের অংশগ্রহণ ব্যাপকভাবে বাড়বে।

তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি যে, নারীরা যাতে নির্বাচনে ভোটার, প্রচারক, নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে পারে তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে।’

আফগানিস্তানে যুদ্ধক্ষেত্রে শিশুদের নিয়োগের বিষয়েও মানবাধিকার গ্রুপগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করছে, যা স্পষ্টত একটি যুদ্ধাপরাধ।

এআইএইচআরসি চেয়ারপারসন সিমা সামার বলেন, ‘এমনকি স্থানীয় পুলিশ বাহিনীতেও অল্প বয়সীদের নিয়োগ করা হচ্ছে। আমরা আশা করি এই প্রবণতা দ্রুত বন্ধ হবে’।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে যে সরকার পুলিশের গঠনতন্ত্রের কিছু পরিবর্তন আনার কথা বিবেচনা করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াইস আহমদ বারমাক বলেন, ‘অতীতে স্থানীয় পুলিশ কাঠামোতে শিশুদের নিয়োগ করার সমস্যাটি আমরা চিহ্নিত করেছি। আমরা এখনো সমস্যাটি সম্পূর্ণরূপে দূর করতে পারিনি।’

এআইএইচআরসি’র পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত বছর যুদ্ধ ও সহিংসতার কারণে ২ লাখ আফগান বাস্তচ্যুত হয়েছে।

আফগানিস্তানের হেরাতে দুই শতাধিক স্কুল তালেবানদের নিয়ন্ত্রণে

আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা এলাকায় দুই শতাধিক স্কুল তালেবানরা পরিচালনা করছে। মঙ্গলবার হেরাত শিক্ষা বিভাগের চেয়ারম্যান আহমেদ রাজা আহমেদী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তালেবানরা তাদের এলাকায় যেভাবে স্কুলগুলো পরিচালনা করছে তাতে তিনি সন্তুষ্ট।

এদিকে, তালেবান সম্পর্কে আহমদীর এই মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন সুশীল সমাজের কয়েকজন কর্মী। তারা হেরাত প্রাদেশিক কাউন্সিলের শিক্ষা বিভাগের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন যে এতে সরকারের ব্যর্থতাই ফুটে উঠেছে। আহমেদীর মতে, শিক্ষার বিভাগ হেরাতের শিনদাদ, গেরান, কাশাক কোহনা, আদ্রাসকান ও ওবা জেলার বিদ্যালয়গুলো তদারকি করতে পারছে না। কারণ সেখানে নিরাপত্তা হুমকি অত্যন্ত বেশি।

আহমদী বলেন, ‘যেখানে নিরাপত্তার হুমকি রয়েছে সেখানে তালেবানদের তত্ত্বাবধানে কাজ হয়ে থাকে। আমাদের কর্মীরা এসব বিদ্যালয়গুলোর ওপর নজরদারি করতে পারে না। তালেবানরাই তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকার স্কুলগুলো দেখভাল করছে।’

আহমাদী বলেন যে তিনি তালেবানদের দ্বারা এই বিদ্যালয়গুলোর পরিচালনায় সন্তুষ্ট। তার ভাষ্য ছিল, ‘আমরা তালেবানের পরিচালনায় খুশি। কারণ অন্তত তারা এগুলোর দেখভাল করছে। যেমন: কাশাক কোহনা জেলার জনগণের কাছ থেকে আমরা তথ্য পেয়েছি যে সেখানে তালেবানরা স্কুলগুলোর তত্ত্বাবধান করছে। তারা স্কুল এলাকায় উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করছে যাতে এগুলো স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে। আমরা তালেবানদের এই কাজে খুশি।’

এর প্রতিক্রিয়ায় হেরাত প্রদেশের কাউন্সিলের সদস্য সায়েদ আজিম কিবরজানি বলেন, ‘শিক্ষা বিভাগ বলছে যে তারা তালেবানদের নজরদারির ব্যাপারে খুশি। আহমাদী এমনভাবে একথা বছেন যা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ (শিক্ষা বিভাগের) নীতিমালা ও প্রবিধান ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করা প্রয়োজন এবং সশস্ত্র একটি গ্রুপ সরকারের কাজ করতে পারে না, এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।’

হেরাত শিক্ষা বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সেখানে বিদ্যালয় সংখ্যা ৯৬৯টি। এর ৭৫০টি শিক্ষা বিভাগের অধীনে, বাকি ২১৯টি নিয়ন্ত্রণ করছে তালেবানরা।

মন্তব্য

মতামত দিন

এশিয়া পাতার আরো খবর

পানিতে ডুবে থাকা পক প্রণালীর পাথুরে সেতু রামের নয়, মানুষের তৈরি!

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: ডিসকভারির এক চ্যানেলে দাবি করা হয়েছে, তামিলনাড়ুর ধনুষ্কোটি থেকে পক প্রণালী ধরে শ্রীলংকা প . . . বিস্তারিত

ভোটের রাজনীতি করতে গিয়ে মোদী বিদেশনীতির মৌলিক দর্শন থেকে বিচ্যুত!

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএননয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রীর এ কোন ধরনের অপ্রধানমন্ত্রী সুলভ আচরণ? প্রশ্ন তুললেন জয়ন্ত ঘোষাল। সাসপ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com