আসামে নাগরিত্ব নিয়ে মুসলমানদের পক্ষে রায় দিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট

০৬ ডিসেম্বর,২০১৭

আসামে নাগরিত্ব নিয়ে মুসলমানদের পক্ষে রায় দিল সুপ্রিমকোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
গৌহাটি: ভারতের আসাম প্রদেশে মুসলিম নাগরিত্ব মামলায় মুসলমানদের পক্ষে রায় দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ফলে প্রায় ৫০ লাখ মুসলিম নারীর নাগরিকত্ব নিয়ে যে ভয়ংকর আশঙ্কা তৈরী হয়েছিলে তা আর থাকলো না৷

আসাম নাগরিকত্ব মামলায় ২টি বিষয় আদালতে বিচারাধীন ছিলো৷ এক: আসাম সরকার বলে আসছিলো যে, নাগরিকত্বের জন্য পঞ্চায়েত সার্টিফিকেট যথেষ্ট নয়৷ আদালত একে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখান করেছে৷

দ্বিতীয় বিষয় ছিলো, আসামের মুসলিমরা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে গণ্য হবে৷ এটাও আদালতে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে৷

মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছে, ভারতে ‘দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক’ বলতে কোনো পরিভাষা নেই৷

আসামে এক নতুন আইনে মুসলিম নাগরিকত্ব নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিলে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ(এম) শুরুতেই আইনিভাবে লড়াই শুরু করে৷ পরবর্তীতে মাওলানা সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানির নেতৃত্বাধীন জমিয়তও আদালতে আপিল করে দুই জমিয়ত এক সঙ্গে কাজ করে৷

মামলা চলাকালেই দিল্লিতে মাওলানা সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানির এক সেমিনারে আসামের মুসলিম নাগরিকদের নাগরিকত্ব বাতিল করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে- এমন বক্তব্যে পুরো ভারতে তোলপাড় শুরু হয়৷ এমনকি আসামসহ বিভিন্ন জায়াগায় আরশাদ মাদানির বিরুদ্ধে ‘এফআইআর’ও দাখিল করা হয়৷

মামলার রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে মাওলানা সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানি, জমিয়ত সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ আসআদ মাদানি ও আসামের পার্লামেন্ট সদস্য মাওলানা বদরুদ্দীন আজমল বলেছেন, এ মামলার বিজয় ঐতিহাসিক৷

‘আসামে মায়ানমারের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে’

ভারতের বিজেপিশাসিত আসামে মায়ানমারের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দের প্রধান মাওলানা আরশাদ মাদানী। আসামে মুসলিমদের একাংশের নাগরিকত্ব নিয়ে টানাপড়েন প্রসঙ্গে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আসাম অ্যাকশন কমিটি রাজ্যে মুসলিমদের নাগরিক অধিকার নিয়ে আন্দোলন চালাচ্ছে। কমিটির পক্ষ থেকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা আরশাদ মাদানী বলেন, ‘রাজ্যে ভোটার নথিভুক্তকরণে ৪৮ লাখ বিবাহিতা মুসলিম নারীর নাম অপসারণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের অধিকার কেড়ে নেয়া ও তাদের শিশুরা যাতে শিক্ষা না পায় এবং তাদের দেশের বাইরে বের করে দেয়া যায় সেজন্য এসব করা হচ্ছে। যদি এরকম চলতে থাকে তাহলে আসামে মায়ানমারের পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।’

আসাম অ্যাকশন কমিটি বলছে, একদিকে, জাতীয় নাগরিক নিবন্ধনের কাজ চলছে, অন্যদিকে হাইকোর্ট এমন সিদ্ধান্ত দিয়েছে যাতে ৪৮ লাখ মুসলিম নারীর নাগরিকত্ব সঙ্কটের মধ্যে পড়েছে। মাওলানা আরশাদ মাদানী বলেন, তারা হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন।

রাজ্যে শিক্ষা ও অন্য অনগ্রসরতার কারণে অনেকেই তাদের জন্ম প্রমাণপত্র তৈরি করতে পারেননি। যদি কোনো মুসলিম মেয়ের বিয়ের সময় গ্রামপ্রধান প্রমাণপত্র দেয় তাহলে তাকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। কিন্তু আদালত এ ধরণের প্রমাণপত্রকে বাতিল বলে ঘোষণা করেছে। এরপরেই মুসলিম নারীদের নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত রাখার আন্দোলন শুরু হয়েছে।

মাওলানা আরশাদ মাদানী বলেন, ‘সরকারকে আসাম চুক্তি ও আইন-কানুন গুরুত্ব সহকারে অনুসরণ করা উচিত। একদিকে কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে অন্য দেশ থেকে আসা হিন্দুদের নাগরিকত্ব ও বিশেষ অধিকার প্রদান করছে। কিন্তু আসল নাগরিকদের বাংলাদেশি বা বিদেশি বলে অভিহিত করে দেশ থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করছে। সরকার এভাবে দ্বৈত মনোভাব ও ধর্মের নামে নীতি গ্রহণ করছে।’

আসামে ধর্ম ও ভাষার নামে বৈষম্য করা হলে তা দেশের সংবিধান ও মূল্যবোধের বিরোধী হবে এবং একে কোনোভাবেই বৈধতা দেয়া যায় না বলেও মাওলানা আরশাদ মাদানী মন্তব্য করেন।

মন্তব্য

মতামত দিন

এশিয়া পাতার আরো খবর

‘মোদি আমাকেই বিয়ে করেছেন’

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএননয়াদিল্লি: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাকি ব্যাচেলর। সম্প্রতি এমনই দাবি করেছিলেন মধ্যপ্ . . . বিস্তারিত

নেপাল কি ভারতীয় প্রভাবের বাইরে চলে যাচ্ছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনকাঠমান্ডু: নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এখন পাঁচ দিনের চীন সফরে রয়েছেন। চীনের গণমাধ্যম . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com