আফগানিস্তানে তালেবান হামলায় ২২ পুলিশ নিহত

১৪ নভেম্বর,২০১৭

আফগানিস্তানে তালেবান হামলায় ২২ পুলিশ নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
কাবুল: আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ কান্দাহারে এক ডজনেরও বেশি তল্লাশি চৌকিতে তালেবানের ধারাবাহিক হামলায় ২২ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।

ছয় ঘন্টারও বেশি সময় ধরে চালানো এসব হামলায় আরো ১৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে পুলিশ। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

সোমবার দিবাগত রাতজুড়ে চালানো এসব হামলার সময় সরকারি বাহিনী ৪৫ জন বিদ্রোহীকে হত্যা ও ৩৫ জনকে আহত করেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিদ্রোহীরা পুলিশের ওই তল্লাশি চৌকিগুলোর একটিরও দখল নিতে পারেনি বলে জানিয়েছেন তারা।

কান্দাহারের পুলিশ প্রধানের মুখপাত্র জিয়া দুরারানি বলেছেন, ‘অতিরিক্ত সেনা ও বিমান হামলার সমর্থন না পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিরোধ করে যায় আমাদের বাহিনী।’

তালেবান হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সাংবাদিকদের জানিয়েছে, পুলিশ ও একটি বেসামরিক বাহিনীর ৪৩ জনকে হত্যা করেছে তারা এবং ১৩টি সাঁজোয়া যান ধ্বংস করেছে।

তবে বিদ্রোহীরা প্রায়ই প্রতিপক্ষের হতাহতের সংখ্যা বাড়িয়ে বলে।

অক্টোবরে আফগানিস্তানে হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে ৩৯ শতাংশ

গত অক্টোবরে আফগানিস্তানে ১৬৯টি হামলায় আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ হতাহত হয়েছে। এই সংখ্যা সেপ্টেম্বরের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের ৩১টি প্রদেশে ২০৩টি হামলার ঘটনায় ১,৮০০ লোক হতাহত হয়েছিল। আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বর মাসে হতাহতের সংখ্যা ৪০ শতাংশ কম ছিল।

পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, গত মাসে হামলার তীব্রতা আরো বেশী ছিল, সেপ্টেম্বরে যেখানে প্রতি হামলায় গড় ৯ জন আহত/নিহত হয় সেখানে অক্টোবরের হামলাগুলোতে গড়ে ১৫ জন নিহত/আহত হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া খবরে দেখা গেছে, অক্টোবরে আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের ২৯টিতে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ৮টি আত্মঘাতী হামলা, ৮১টি মুখোমুখি সংঘর্ষ জন্য ২০টি বিমান হামলা, ৪১টি উদ্দেশ্যমূলক হামলা এবং ১৯টি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে।

অক্টোবরে, সহিংসতার শিকার প্রতি ২৮ জনের মধ্যে ১৫ জন মুখোমুখি সংঘর্ষে, ৭ জন আত্মঘাতী হামলায়, ৪ জন বিমান হামলা এবং একজন নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় হতাহত হয়। যেখানে সেপ্টেম্বরে সহিংসতার শিকার প্রতি ২৩ জনের মধ্যে একজন আত্মঘাতী হামলায়, ৬ জন বিমান হামলা এবং বাকিরা বিভিন্ন নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনায় হতাহত হয়।

গত মাসে আক্রমণের ঘটনা সবচেয়ে বেশী হয় নানগারহার প্রদেশে (২৬টি), এর পর ফারিয়াব (১২), উরুজগান (১১), লগার ও ফারাহ প্রদেশে ১০টি এবং বাকি ২৩ প্রদেশে ৮৯টি হামলার ঘটনা ঘটে। এ মাসে বাঘিস, বামঈন, ডাইকুন্ডি, তাখার ও নুরস্তান প্রদেশে হামলার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

গত তিন বছরে প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় পাঞ্জশি প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা হয়।

অক্টোবরের ১৭ তারিখে সবচেয়ে বেশী হামলা হয়। এদিন ১২ হামলায় ৪১৬ জন হতাহত হয়। আগের মাসের (১৭ সেপ্টেম্বর) একই দিনেও সর্বোচ্চ সংখ্যক হতাহতের ঘটনায় ১৬০ জন নিহত/আহত হয়েছিল।

গত মাসে নিহতদের প্রায় অর্ধেক ঘটনা পাটিয়া, নঙ্গারহর, উরুজগান, কান্দাহার ও গজনি প্রদেশে ঘটে। হতাহতদের সংখ্যায় এই পাঁচটি প্রদেশের পরেই ছিল রাজধানী কাবুল।

মন্তব্য

মতামত দিন

এশিয়া পাতার আরো খবর

চলে গেলেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারি বাজপেয়ি

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএননয়া দিল্লি: ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সুপরিচিত রাজনীতিকদের একজন অটল বিহারী বাজপেয়ী মারা গেছ . . . বিস্তারিত

রোহিঙ্গা-বিদ্বেষী হাজারো পোস্ট, অজ্ঞাত কারণে নীরব ভূমিকায় ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনরেঙ্গুন: রোহিঙ্গা-বিদ্বেষী এক হাজারের বেশি পোস্ট ফেসবুকে ঘোরাফেরা করেছে গত সপ্তাহে যেখানে তাদের . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com