প্রাণঘাতী বায়ুদূষণ উপাদান নির্গমনে বিশ্বের শীর্ষে ভারত

১৩ নভেম্বর,২০১৭

ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
ঢাকা: চলতি সপ্তাহে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বায়ুদূষণের কারণে প্রায় চার হাজার স্কুল বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, দূষণের দিক থেকে আরো খারাপ খবর আছে: দেশটি মানবসৃষ্টি প্রাণঘাতী সালফার ডাইঅক্সাইড নির্গমনে চীনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের ১ নম্বর দেশে পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি নেচারে প্রকাশিত ম্যারিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমীক্ষায় বলা হয়, ২০০৭ সাল থেকে চীনের সালফার ডাইঅক্সাইড নির্গমন ৭৫ ভাগ কমেছে, আর একই সময়ে ভারতের বেড়েছে ৫০ ভাগ। এর ফলে চীনকে টপকে ২০০৫ সালের পর ভারতই বিশ্বের বৃহত্তম সালফার ডাইঅক্সাইড গ্যাস নির্মগনকারীতে পরিণত হয়েছে কিংবা হতে যাচ্ছে।

ভারত ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সালফার ডাই অক্সাইড নিঃসরণকারী দেশে পরিণত হয়। গত বছর তারা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কয়লা ব্যবহারকারী দেশের স্বীকৃতি পায়। কয়লার ওজনের ৩ ভাগ সালফার। আর কয়লা পোড়ালে সৃষ্টি হয় সালফার ডাই অক্সাইড। এই বিষাক্ত উপাদানের কারণে ১৯৫২ সালে লন্ডন ধোঁয়াশা সঙ্কটের সৃষ্টি হয়। এতে দেড় লাখের বেশি লোক হাসপাতালে ভর্তি হয়। এই ধোঁয়াশা ভারত ও চীনের অনেক নগরী ছেয়ে আছে, লোকজনের আয়ু কমিয়ে দিচ্ছে।

নাসার উপগ্রহ তথ্য এবং সেইসাথে প্রাথমিক নিঃসরণকারীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার গবেষকেরা ২০০৫ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ভারত ও চীনের নিঃসরণ মাত্রা নির্ধারণ করেছেন। তারা হিসাব করে দেখেছেন, চীনের সালফার ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ এখন আগের হিসাবে যতটুকু হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, তার চেয়ে কম, সম্ভবত চার গুণ কম। অন্যদিকে ভারতের যতটুকু হবে বলে আশা করা হচ্ছিল, তার চেয়ে বেশি নির্গমন হচ্ছে। কয়লা-চালিত বিদ্যুৎপ্লান্ট নির্মাণে জাতীয় নীতিকেই এর জন্য দায়ী করেছেন গবেষকরা। ভারত বেশি বেশি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণ করায় তাদের সালফার ডাইঅক্সাইড উৎপাদন বেড়ে গেছে। অন্যদিকে চীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

ভারত ২০১৬ সালে ৯.৫ থেকে ১২.৬ মেগাটন নিঃসরণ ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর চীনের এই পরিমাণ ছিল ৭.৫ থেকে ১১.৬ মেগাটন।

অবশ্য সালফার ডাইঅক্সাইডের অপেক্ষাকৃত বেশি ঘনত্বের মধ্যে ভারতের চেয়ে চীনে বেশি লোক বাস করে। ভারতে তিন কোটি ৩০ লাখ লোক ভয়াবহ সালফার ডাইঅক্সাইড দূষণে বাস করে, চীনে এই সংখ্যা ৯ কোটি ৯০ লাখ।

বায়ুদূষণ কমিয়ে আনার ব্যাপারে সাম্প্রতিক সময়ে চীন বিশেষভাবে আগ্রাসী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কয়লাভিত্তিক প্লান্টগুলোতে নিঃসরণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে উচ্চতর মান নির্ধারণ করেছে। বাসাবাড়ি এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানেও কয়লা ব্যবহার কমিয়ে আনছে। চলতি শীতে তারা ৪০ লাখ বাড়িতে কয়লার বদলে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। স্টিল কারখানাগুলোকে কয়লা পোড়ানো হ্রাস করার নির্দেশ দিয়েছে।

ভারত অবশ্য এই দিক থেকে পিছিয়ে আছে। তারা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশি বেশি কয়লাচালিত বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপন করেছে। অবশ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে ভারত সবুজতর অর্থনীতি গড়ার প্রয়াস চালাচ্ছে। কোল ইন্ডিয়া দেশটির ৮০ ভাগ কয়লা উৎপাদন করে। চাহিদা কিছুটা কমে যাওয়ায় তারা গত এপ্রিলে চলতি বছরের জন্য উৎপাদন ১০ ভাগ হ্রাস করার পরিকল্পনা নেয়।

মন্তব্য

মতামত দিন

এশিয়া পাতার আরো খবর

মায়ানমারের নৃশংসতার প্রতিবেদনের ওপর শুনানি করবে জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনওয়াশিংটন: জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মায়ানমারের নৃশংসতা বিষয়ে সংস্থাটির তদন্ত দলের প্রধানের তৈর . . . বিস্তারিত

আফগানিস্তানে তালেবানের হামলায় স্থানীয় গভর্নর ও পুলিশ প্রধান নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনকান্দাহার: আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশের গভর্নরের দেহরক্ষীর গুলিতে প্রাদেশিক গভর্নর যালমাই ও . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com