আফগান শান্তি প্রক্রিয়া আবারো শুরুর উদ্যোগ পাকিস্তানের

১১ অক্টোবর,২০১৭

 ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
ইসলামাবাদ: আফগান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আবারো চার-জাতি শান্তি প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান। আগামী ১৬ অক্টোবর ওমানের রাজধানী মাস্কটে এই গ্রুপের সদস্যরা মিলিত হচ্ছেন বলে ডন পত্রিকার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রুপের সদস্য দেশগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, চীন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা আসিফ গত সপ্তাহে ভয়েস অব আমেরিকার উর্দু বিভাগের সঙ্গে এক স্বাক্ষাৎকারে বলেন, পাকিস্তান এই চুতর্জাতি সম্মেলনে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করবে। তালিবানদের আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসতে এই গ্রুপ কাজ করবে।

চতুর্জাতি সহযোগিতা গ্রুপ ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে প্রথম বৈঠকে বসে। এরপর এর পাঁচটি অধিবেশন হয়, যার সর্বশেষটি বসে ২০১৬ সালের মে মাসে পাকিস্তানের মারিতে।

কিন্তু শুরু থেকেই নানা সমস্যার কারণে এই গ্রুপ কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়। প্রথমত তালিবনরা শর্ত দেয় যে তাদেরকে আফগান সরকারের সমমর্যাদা না দেয়া হলে তারা আলোচনায় বসবে না। এরপরও যখন তাদেরকে আলোচনায় আনার চেষ্টা হচ্ছিল তারই মাঝে কাবুল ও ইসলামাবাদের সম্পর্কে অবনতি ঘটে।

চতুর্জাতি গ্রুপের প্রথম চারটি বৈঠকে কিছুটা অগ্রগতি দেখা যায়। বিশেষ করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান নিজেদের তিক্ততা একপাশে রেখে চীনের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানায়। চীনের অংশগ্রহণের ফলে পাকিস্তান তার উদ্বেগগুলো নিরসনের ব্যাপারে ভরসা পায়। বিশেষ করে আফগানিস্তানে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে পাকিস্তান ছিলো উদ্বিগ্ন।

অন্যদিকে, আফগান সরকারের আশা ছিলো ইসলামাবাদের ওপর বেইজিংয়ের প্রভাব দেশটির সঙ্গে কাবুলের সম্পর্ক উন্নয়নে কাজে লাগবে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও চতুর্জাতি আলোচনাকে স্বাগত জানায়। কারণ আফগানিস্তানে যেকোনো শান্তি আলোচনায় সফলতার জন্য এই দেশগুলোর অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু পঞ্চম অধিবেশনকালে কাবুলের কিছু কর্মকর্তা মিডিয়ার কাছে খবর ফাঁস করেন যে তালিবান নেতা মোল্লা ওমর ২০১৩ সালে করাচিতে নিহত হলেও পাকিস্তান ওই খবর গোপন করে। কারণ এতে তালিবানদের ওপর প্রভাব হারানোর আশংকা ছিলো ইসলামাবাদের।

ফলে ওই আলোচনা ভণ্ডুল হয়ে যায় এবং চার দেশের কর্মকর্তারা নিজ নিজ দেশে ফিরে যান। ২০১৬ সালের ২১ মে মোল্লা ওমরের উত্তরসূরি মোল্লা মনসুরও বেলুচিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হয়। এতে শান্তি প্রক্রিয়ার সম্ভাবনা আরো পিছিয়ে যায়।

তারপর থেকে পাকিস্তান বেশ কয়েকবার এই বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করেও সফল হয়নি।

এরই মাঝে আফগানিস্তানে তালিবানরা যুক্তরাষ্ট্র ও সরকারি বাহিনীর ওপর হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি করে। অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতিতে তালিবানদের আলোচনায় ফিরিয়ে আনতে বলপ্রয়োগকে সর্বোত্তম পন্থা হিসেবে বেছে নেয়া হয়।

তবে, সম্প্রতি ওয়াশিংটনে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র হিদার নুয়ার্ট চার-জাতি শান্তি প্রচেষ্টার সফলতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি কাতারে তালিবান অফিসের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

গত সপ্তাহে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াশিংটনে তিনদিনের সফরকালে স্বীকার করেন যে তালিবানদের ওপর পাকিস্তানেরও প্রভাব কমে যাচ্ছে।

এরপরও চারজাতি গ্রুপের সদস্যরা আফগানিস্তানে কিছু শান্তির প্রত্যাশা করেন এবং মাস্কট বৈঠকে তারা অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সেখানে আগের মতো সিনিয়র নেতাদের পরিবর্তে মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের পাঠানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মন্তব্য

মতামত দিন

এশিয়া পাতার আরো খবর

রাজস্থানে মুসলিম হত্যার নেপথ্যে

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএননয়াদিল্লি: প্রকাশ্যে একজন মুসলিমকে কুপিয়ে হত্যার পর আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা পুরো ভারত জুড়ে . . . বিস্তারিত

চীনের ওবিওআরে যোগ দিতে ভারতকে উদ্বুদ্ধ করছে রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনদিল্লি: চীনের ‘এক অঞ্চল এক সড়ক’ (ওবিওআর) উদ্যোগে যোগ দিতে ভারতকে উদ্বুদ্ধ করছে রাশি . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com