যেসব দেশে সামরিক ঘাঁটি বানাতে পারে চীন

১১ অক্টোবর,২০১৭

জিবুতিতে চীনা সামরিক বাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
বেইজিং: আফ্রিকান রাষ্ট্র জিবুতিতে চীনা সামরিক বাহিনীর প্রথম বৈদেশিক ঘাঁটি স্থাপন করার ব্যাপারে দুই দেশ গত জুলাই মাসে সমঝোতায় পৌঁছে। চায়না ডেইলি’র ওয়েবসাইট রিপোর্ট অনুযায়ী, আফ্রিকার পূর্ব উপকূলের এ ঘাঁটি চীনের জন্য মহাদেশের অন্যান্য অংশে সাহায্য ও শান্তিরক্ষী পাঠানোর কাজ সহজ করবে। এতে করে যৌথ সামরিক মহড়া আরো সহজে করা যাবে, ‘আন্তর্জাতিক কৌশলগত পানিপথের নিরাপত্তা’ও বজায় রাখা যাবে।

তবে এটা মাত্র একটি ঘাঁটি। যুক্তরাষ্ট্রের যেমন- এশিয়া, ইউরোপ এবং অন্যান্য মহাদেশের ১৬টি দেশে সামরিক ঘাঁটি আছে, বেইজিং তেমনটা করার আশা করছে না। তবে একটাতে সন্তুষ্ট না থেকে তারা আরো ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করতে পারে। চীন সম্ভবত পূর্ব আফ্রিকা উপকূলে আরো ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করতে চাইবে। তারা ভারত মহাসাগর এবং আরব সাগরেও ঘাঁটি বানানোর পরিকল্পনা করতে পারে।

বিদেশে থাকা চীনা নাগরিকদের সুরক্ষা প্রদান এবং অপরিশোধিত তেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রীর বাণিজ্যে ব্যবহৃত নৌপথগুলো যাতে খোলা থাকে তা নিশ্চিত করতে চীন আরো ঘাঁটি বানাবে বলে চায়না ডেইলির খবর থেকে আভাস পাওয়া যায়।

আফ্রিকাকে প্রথম ঘাঁটির স্থান হিসেবে বেছে নেয়ার কারণ হলো জিবুতি উপকূলের কাছে ইডেন উপসাগরে জাতিসংঘ ম্যান্ডেটে চীন নৌ পাহারা মিশন পরিচালনা করে থাকে। তাছাড়া চীনের ঐতিহাসিক বিনিয়োগের টার্গেটে পরিণত হয়েছে আফ্রিকা। এই মহাদেশ থেকে তেলসহ খনিজসম্পদ নিংড়ে নিচ্ছে বেইজিং, আর বিনিময়ে স্মার্টফোনের মতো সামগ্রী পাঠাচ্ছে। ওয়াশিংটনের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক স্টিমসন সেন্টারের ইস্ট এশিয়া প্রোগ্রামের সিনিয়র এসোসিয়েট ইয়ান সান বলেন, স্থানটির বাণিজ্যিক গুরুত্ব রয়েছে।

তিনি জানান, মায়ানমার, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা ছাড়া বিদেশে আর কোনো স্থানে ঘাঁটি বানানোর পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেনি চীন। তবে ভারত মহাসাগরে চীনের পরিচালিত বন্দরগুলোতে সামরিক উপস্থিতির কথা ভাবছে চীন।

শ্রীলঙ্কায় কী হবে? গত জুলাই মাসে চীন ও শ্রীলঙ্কা হামবানতোতা বন্দরের ব্যাপারে একমত হয়। বন্দরটির ৭০ ভাগ মালিকানা চলে যাচ্ছে চীনা কোম্পানির হাতে। আর মায়ানমারে একটি বন্দরের ৮৫ ভাগ পাচ্ছে চীন। তেল আমদানির জন্য চীন এই বন্দর ব্যবহার করবে।

আবার পাকিস্তানে রয়েছে চীনের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের জন্য নির্মিত গোয়াদর বন্দরটির পরিচালনার দায়িত্ব ৪০ বছরের জন্য পেয়েছে চায়না ওভারসিস পোর্ট হোলিং কোম্পানি। মার্কিন মদদপুষ্ট ভারতের কারণে চীনের আরো কাছাকাছি হয়েছে পাকিস্তান।

সান বলেন, মায়ানমার, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বন্দরগুলোর অবস্থান ভারত মহাসাগর কিংবা আরব সাগরে। এগুলো বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ব্যবহৃত হলেও নৌবাহিনীর তৎপরতায় ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন

বর্তমানে চীন কেবল জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনের নামেই কাজ চালাবে। ২০১৫ সালে চীন এই মিশনে ৮ হাজার সেনা মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। চীন আসলে নিজের স্বার্থেই এসব সেনা পাঠায়। জলদস্যূ প্রতিরোধ এবং অন্য দেশগুলোর কাছ থেকে শেখার জন্য এটা দরকার ছিল।

মন্তব্য

মতামত দিন

এশিয়া পাতার আরো খবর

পাক সামরিক বাহিনীর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক সৌদিকে যেভাবে সাহায্য করছে

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনইসলামাবাদ: পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তারা প্রায়ই সৌদি আরবে দায়িত্ব পালন করে বলে দক্ষিণ এশিয়াভিত্ . . . বিস্তারিত

বালিতে কোথা থেকে এল এই বোয়িং বিমান?

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: এভাবেই পড়ে আছে একটি বোয়িং বিমান! ভিডিও থেকে সংগৃহীত।খোলা জানালা দিয়ে মাঝে মাঝেই ঢুকে পড়ে . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com