ভারতকে অবশ্যই নিরাপত্তা ‘চুলকানি’ সারাতে হবে

১০ অক্টোবর,২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আরটিএনএন

বেইজিং: চীনের জনসাধারণ যখন জাতীয় ছুটি কাটাচ্ছে, তখন ভারতের মিডিয়াতে আবারো চীন-ভারত সীমান্ত ইস্যু ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে। ভারতীয় মিডিয়াগুলোর ভাষ্যমতে, দুই দেশের সেনাবাহিনী অতি সম্প্রতি যেখানে মুখোমুখি হয়েছিল, তার থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে চীনা সেনাবাহিনী আবারো রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেছে।

অবশ্য ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরে জানিয়েছে, ‘ওই এলাকায় স্থিতিতাবস্থা বজায় রয়েছে। এর বিপরীত কিছু হওয়ার খবর সত্য নয়।’

সপ্তাহান্তে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সিতারামন সিকিম, ভুটানের চীন-ভারত এবং চীনের তিব্বত স্বায়াত্তশাসিত অঞ্চলের সীমান্ত পরিদর্শন করেন। সফরকালে চীনা সীমান্তের কাছে সদ্য নির্মিত একটি বিমানবন্দরও তিনি পরিদর্শন করেন। আগামী নভেম্বরে এটি চালু হবে। তার আগ্রাসী ভাবভঙ্গি দৃশ্যত নমনীয় হয়ে যায় নাথুলায় চীনা সেনাদের সাথে তার বন্ধুত্বপূর্ণ ভাববিনিময়ে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি সেনাদের ঐতিহ্যবাহী নমস্তের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।

ভারতীয় মিডিয়ায় প্রায়ই বেইজিং ও নয়া দিল্লির মধ্যে ‘পরবর্তী রাউন্ড অচলাবস্থার’ ধোয়া তোলা হয়। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দৃশ্যত এ ধরনের জল্পনা কল্পনাকে সমর্থন করে না।

ডোকলাম অঞ্চলে চীনের রাস্তা নির্মাণ নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ার খবরগুলো প্রশ্নবোধক। কারণ রাস্তা নির্মাণের যথাযথ সময় এটা নয়। ডোকলাম হলো চীনা ভূখণ্ড এবং চীনের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও চীনা সরকারের তদারকিতেই রয়েছে। ডোকলামে দুই দেশের মুখোমুখি অবস্থানের সময় বেইজিং ওই অঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সড়ক নির্মাণের কাজ বেগবান করেছিল। এর একটি দীর্ঘ মেয়াদি ধারা রয়েছে।

কিছু কিছু ভারতীয় জাতীয়তাবাদী ভারতের শক্তি ও অধিকারের বাড়াবাড়ি হিসাব করে।

শিলিগুড়ি করিডোর নিয়ে ভারতের উদ্বেগ বোধগম্য। তবে দিল্লি তা নিয়ে অযৌক্তিক আচরণ করতে পারে না। ভারত মহাসাগর ও মালাক্কা প্রণালীজুড়ে পরিবহন রুট নিয়েও ভারত উদ্বিগ্ন। তবে নিজের লক্ষ্য হাসিলে চীন কোনো বলপ্রয়োগের পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

নয়া দিল্লির প্রয়োজন সংযম প্রদর্শন করা। সে কেবল আন্তর্জাতিক আইনে অনুমোদনযোগ্য সীমার মধ্যে তার নিজের ভূখণ্ডে সামরিক অবকাঠামো জোরদার করতে পারে। চীনের সাথে সে কৌশলগত নিরাপত্তা যোগাযোগ বাড়াতে পারে। এতে করে চীন ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বাড়বে।

ডোকলাম সঙ্কটের সময় চীন সুপ্রতিবেশীমূলক মনোভাব এবং ব্যাপক ধৈর্য ও সংযমের পরিচয় দিয়েছে। ভারতের উচিত তার নিরাপত্তা উদ্বেগকে যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা। তবে নয়া দিল্লি যদি নিরাপত্তা উদ্বেগের জন্য শান্তি ও উন্নয়নকে ঝুঁকিগ্রস্ত করে তবে তা হবে পাগলামি।

ভারত খুব বেশি জ্বালানি ব্যবহার করছে, এই হিসাব ধরে সম্পর্ককে বিবেচনা করতে চীন আগ্রহী নয় এবং চীনের কৌশলগত উচ্চাভিলাষে ভারত প্রধান কোনো বিষয় নয়। চীন-ভারত বন্ধুত্ব বজায় রাখা একটি কৌশলগত বিষয় এবং চীনের জন্য তা যৌক্তিক বিকল্প।

ডোকলাম অঞ্চলে চীনের অবকাঠামো নির্মাণ যৌক্তিক, এতে ভারতের জোরালো প্রতিক্রিয়া বেমানান। ভারতীয় সমাজ স্পর্শকাতর ও উদ্ধত্য। ভারতীয় মিডিয়া জাতীয়তাবাদকে প্রকট করে। ভারতকে অবশ্যই এই উন্মাদনা থেকে মুক্ত হতে হবে। আর ভারতের খামখেয়াালিপনায় মত্ত হওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই চীনের।

মন্তব্য

মতামত দিন

এশিয়া পাতার আরো খবর

বিবিসির সাথে সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের ডন পত্রিকার প্রধান বিতর্কে

আন্তর্জাতিকআরটিএনএনইসলামাবাদ: পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে দেশটির অন্যতম প্রধান একটি গণমাধ্যমের প্রধানের . . . বিস্তারিত

হিজাব নিষিদ্ধ হল ভারতের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে!

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনদিল্লি: ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মতো এবার ভারতে মাথা ও মুখ ঢাকার ওড়না নিষিদ্ধ করা শুরু হয়েছে। দেশট . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com