রাখাইনে গণহত্যা: কায়েমী স্বার্থের বেড়াজালে নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের ভাগ্য!

১২ সেপ্টেম্বর,২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
নাইপেদো:  মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চরম সহিংসতার দুই সপ্তাহ পরে দেশটির কার্যত প্রধান নোবেল বিজয়ী অং সান সু চি শেষ পর্যন্ত এই সঙ্কটের কথা স্বীকার করে মুখ খুলেছেন।  

কিন্তু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হতাশা সত্ত্বেও তিনি সেনাবাহিনীর পদক্ষেপের বিরোধিতা করেননি এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্রেপ এরোদোগানকে টেলিফোনে তিনি এটিকে ‘ভুল তথ্যে বিপুল হিমশৈল’ বলে মন্তব্য করেন।

সাম্প্রতিক এই সহিংসতায় কমপক্ষে তিন হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং তিন লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা তাদের বাড়ি ফেলে রেখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

রাখাইনের সহিংসতায় ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক উদ্বেগের সঙ্গে সু সুচি’র অবস্থান সরাসরি বিপরীত। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান হত্যাযজ্ঞকে ‘জাতিগত নিধন’ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বলে মন্তব্য করেছে।

লন্ডনের ‘ইয়েল ল’ স্কুল এবং কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় এটিকে একটি ‘গণহত্যা’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে।


গত কয়েক দশক ধরে রাখাইন রাজ্যের টেকসই শান্তির অভাব দেখা গেছে। ১৯৭০ সাল থেকে সেখানে বসবাসরত রোহিঙ্গারা জাতিগত বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। এ সময়ের মধ্য সেখানে একাধিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার আবেদন সত্ত্বেও এই দ্বন্দ্বগুলো বারবার কেন ছড়িয়ে পড়েছে? সত্যিকারের রাজনৈতিক বিষয় কি যা শান্তি প্রক্রিয়াকে কেন বাধাগ্রস্ত করছে?

মানবাধিকারের প্রতি অসম্মান
মায়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পরও দেশটি আন্তর্জাতিক নিয়ম এবং কূটনীতির ব্যাপারে কোনো ধরনের সম্মান দেখাচ্ছে না। সরকার সম্প্রতি জাতিসংঘকে জানায়, রাখাইন রাজ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের জন্য জাতিসংঘের পরিদর্শকদের তারা ভিসা দেবে না। এটি জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচীকে বাধাগ্রস্ত করেছে; যেটি দুর্বল মানুষকে সহায়তা প্রদানের প্রচেষ্টা করে থাকে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামান্য প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অনেক রোহিঙ্গা এবং অনেক বাংলাদেশি বিশ্বাস করেন যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মুসলমানদের প্রতি বৈষম্যমূলক এবং এই স্তরের নিষ্ঠুরতা যদি কোনো পশ্চিমা দেশে ঘটত তখন তাদের এই প্রতিক্রিয়া খুব বেশি সিরিয়াস হতো।

কায়েমী স্বার্থ
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়া পর্যন্ত মায়ানমার সরকার এবং তার সেনাবাহিনীকে সংযত করা যাবে না।

সাম্প্রতিকতম এই সহিংসতা মোকাবেলায় ব্রিটেনের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকার অনুরোধ জানানো হয় কিন্তু চীন জাতিসংঘের এই প্রচেষ্টার কঠোর বিরোধিতা করে। বিষয়টি সেপ্টেম্বরে সাধারণ অ্যাসেম্বলির বৈঠকে আলোচনা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মায়ানমারের রাজনৈতিক দমন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন অবসানে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবটি চীন ও রাশিয়া ভেটো প্রদান করে।

মায়ানমারের চীনা স্বার্থসমূহের মধ্যে রয়েছে তার উচ্চাভিলাষী ‘ওয়ানবেল্ট, ওয়ান রোড’ প্ল্যানের অংশ হিসাবে ৭.৩ বিলিয়ন ডলারের গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প। চীনা তেল ও গ্যাস পাইপলাইনের প্রবেশপথের জন্য ‘কিউক পাই’ বন্দরটি রাখাইন রাজ্যে অবস্থিত।

মায়ানমারের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের জন্য ভারত চীনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। গত জুলাই মাসে মায়ানমার সেনা প্রধান মম অং হ্যালিং ভারত সফর করেন এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান, প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করেন।

ভারত মায়ানমারে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র রপ্তানির মাধ্যমে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করছে। সাম্প্রতিক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মায়ানমার সফর করেন। তিনি স্পষ্টভাবে মায়ানমার সরকারকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।
 
সূত্র: দ্য কনভারসেশন

মন্তব্য

মতামত দিন

এশিয়া পাতার আরো খবর

ওসামা বিন লাদেন তার শেষ সাক্ষাৎকারে কী বলেছিলেন পাকিস্তানি সাংবাদিক হামিদ মীরকে

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনইসলামাবাদ: ওয়াশিংটন আর নিউইয়র্কে টুইন টাওয়ারে হামলার প্রতিশোধ নিতে আফগানিস্তানে যখন আমেরিকান . . . বিস্তারিত

বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে?

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: বাংলাদেশে দুর্নীতির বিস্তার এবং গভীরতা নিয়ে কারো মনে সন্দেহ থাকার কথা নয়। দুর্নীতির গভী . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com