মায়ানমার সেনাদের পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে বিকলাঙ্গ হচ্ছেন রোহিঙ্গারা

১২ সেপ্টেম্বর,২০১৭

নিউজ ডেস্ক
আরটিএনএন
ঢাকা: মায়ানমার সীমান্ত অতিক্রম করতে গিয়ে ল্যান্ডমাইনের বিস্ফোরণে আহত ও বিকলাঙ্গ হওয়া রোহিঙ্গাদের আর্তনাদে পরিবেশ বিষণ্ন হয়ে ওঠেছে চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১৫ বছরের এক শিশুকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। হামলায় সে তার দুই পা হারিয়েছে। একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজন নারী বলছিলেন যে, ল্যান্ডমাইনের উপর পা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা বিস্ফোরিত হলে তিনি আহত হন।

সীমান্ত এলাকাটিতে ১৯৯০ এর দশকে মাইন স্থাপন করা হয়েছে বলে মায়ানমার দাবি করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের সরকারি সূত্র জানায়, মায়ানমারের সেনাবাহিনী সম্প্রতি নতুন করে এগুলো স্থাপন করেছে।

মায়ানমারের সেনাদের নিষ্ঠুর নির্যাতনে ৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশি বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

সোমবার জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান জেইদ রাদ আল-হুসাইন বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ওপর নিষ্ঠুর সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে।’ তিনি এটিকে ‘জাতিগত নিধনের’ একটি পাঠ্যপুস্তক উদাহরণ বলে অভিহিত করেন।

বৌদ্ধ-সংখ্যাগরিষ্ঠ মায়ানমারে রোহিঙ্গারা সংখ্যালঘু মুসলিম। মায়ানমার সরকার দীর্ঘদিন ধরে তাদের ওপর নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে।

আইন শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং নাগরিকদের বাস্তুচ্যুতি বন্ধ করতে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে মায়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের উদ্দেশ্য সীমান্ত এলাকায় ল্যান্ডমাইন স্থাপন করার জন্য রবিবার মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দেশটির কর্তৃপক্ষকে অভিযুক্ত করেছে।

গত সপ্তাহে রয়টার্স নিউজ এজেন্সিকে বাংলাদেশের সরকারি সূত্রগুলোও একই অভিযোগ করেছে।

বিবিসি কর্তৃক পরিদর্শন করা হাসপাতালটি গিয়ে দেখা যায় ল্যান্ডমাইনের আঘাতে আহত হয়ে অনেক মানুষরক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

১৫ বছর বয়সী বালক আজিজুল হকের দুই পা ল্যান্ডমাইনের বিস্ফোরণে উড়ে গেছে। একই রকম ভাগ্য নিয়ে তার আরেক ভাই অন্য একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে বলে তার মা জানায়।

তিনি বলেন, ‘তাদের আঘাত মৃত্যুর চেয়েও খারাপ। সবচেয়ে ভাল হয় আল্লাহ তাদেরকে নিয়ে যাক। তারা এতই কষ্ট পাচ্ছে যে মা হয়ে আমি তা সহ্য করতে পারছি না।’

৫০ বছর বয়সী আহত সাবেকুর নাহার বলেন, তিনি মায়ানমার থেকে পালিয়েছেন কারণ সেনাবাহিনী তাদের সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হত্যা-নির্যাতন চালাচ্ছে। তিনি তার তিন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্ত পার হওয়ার সময় ল্যান্ডমাইনের বিস্ফোরণে আহত হন।


তিনি বলেন, ‘আমাদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে এবং আমাদেরকে হত্যার উদ্দেশ্য তারা মাইন পুঁতে রেখেছে।’

‘ভয়ঙ্কর আঘাত’, বিবিসির রিতা চক্রবর্তীর প্রতিবেদন।
আজিজুল হকের পুরো শরীর মাইনের বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। তার পা দুই ওড়ে গেছে এবং তার কাঁধের অংশেও মারাত্মক আঘাতের চিহৃ। তাকে বাঁচানোর সব রকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ডাক্তাররা। তবে সফল হওয়ার আশা অনেকটাই ফিকে হয়ে আসছে। আজিজুলের রক্তের গ্রুপ অনেকটাই দুষ্প্রাপ্য। হাসপাতালটিতে কোনো ব্ল্যাড ব্যাঙ্কও নেই এবং রক্ত দাতাদের সংখ্যাও কমে আসছে।

পাশেই মহিলা ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন সাবিকুর নাহার। ক্লান্ত শরীর নিয়ে বলেন, তিনি তার তিন সন্তানকে নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করছিলেন। সন্তানেরা পিছনে থাকায় তারা বিস্ফোরণের হাত থেকে বেঁচে যান বলে তিনি জানান।

মায়ানমার সরকারের এই নিষ্ঠুর পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রশ্ন তুলছেন আহতরা।

মায়ানমার বাহিনীর অবরোধের মুখে গত ২৪ আগস্ট মধ্যরাতের পর রোহিঙ্গা যোদ্ধারা অন্তত ২৫টি পুলিশ স্টেশনে হামলা ও একটি সেনাক্যাম্পে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এতে মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়।

এরপর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে অভিযান শুরু করে মায়ানমারের সেনাবাহিনী। তাদের সঙ্গ যোগ দেয় দেশটির বৌদ্ধ চরমপন্থীরাও। অভিযানে হেলিকপ্টার গানশিপেরও ব্যাপক ব্যবহার করে মায়ানমার সেনাবাহিনী। সীমান্তে পুঁতে রাখায় হয় স্থলমাইন।

মায়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা, কুপিয়ে হত্যা, নারীদের গণর্ষণের অভিযোগ উঠে। তারা রোহিঙ্গাদের হাজার হাজার ঘরবাড়ি এবং একের পর এক রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়। তাদের হত্যাযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি বয়োবৃদ্ধ নারী এবং শিশুরাও। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই সহিংসতায় প্রায় ৩ হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছে।

জেনেভায় সংবাদ সম্মেলন করে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) মুখপাত্র ভিভিয়ান জানান, মিয়ানমারের রাখাইনে কমপক্ষে এক হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। জাতিগত নিধনযজ্ঞের মুখে প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে।

সূত্র: বিবিসি

মন্তব্য

মতামত দিন

এশিয়া পাতার আরো খবর

ওসামা বিন লাদেন তার শেষ সাক্ষাৎকারে কী বলেছিলেন পাকিস্তানি সাংবাদিক হামিদ মীরকে

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনইসলামাবাদ: ওয়াশিংটন আর নিউইয়র্কে টুইন টাওয়ারে হামলার প্রতিশোধ নিতে আফগানিস্তানে যখন আমেরিকান . . . বিস্তারিত

বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে?

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: বাংলাদেশে দুর্নীতির বিস্তার এবং গভীরতা নিয়ে কারো মনে সন্দেহ থাকার কথা নয়। দুর্নীতির গভী . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com