যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি পাক প্রধানমন্ত্রীর

১২ সেপ্টেম্বর,২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
ইসলামাবাদ: পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন অবরোধ কিংবা সামরিক সহায়তা আরো হ্রাস করা হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হিতে বিপরীত হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শহিদ খাকান আব্বাসি। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে উভয় দেশের যুদ্ধকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

গত মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন আফগান নীতি প্রকাশ এবং ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করার পর থেকে মার্কিন-পাকিস্তান সম্পর্কে টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়েছে। আফগান তালেবান এবং অন্যান্য সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয় দেয়ার জন্য পাকিস্তানকে দোষারোপ করেছিলেন ট্রাম্প।

হাক্কানি নেটওয়ার্কের সন্ত্রাসীদের দমনে ইসলামাবাদের সাফল্যের ওপর ভবিষ্যতে পাকিস্তানে সহায়তা নির্ভর করবে বলে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে শর্তারোপ করেছে।

অভিযোগ করা হচ্ছে, হাক্কানি গ্রুপই আফগান তালেবান এবং অন্যান্য সন্ত্রাসীকে আফগানিস্তানের ভেতরে হামলা চালাতে সহায়তা করে থাকে।

সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেয়ার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে পাকিস্তান। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কিছুই করছে না- এমন অভিযোগও পাকিস্তান প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাকিস্তান বিপুল আত্মত্যাগ করেছে, ২০০১ সাল থেকে তাদের লাখ লাখ লোক হতাহত হয়েছে।

আব্বাসি রয়টার্সকে বলেন, পাকিস্তানি সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের যেকোনো ধরনের পরিকল্পিত অবরোধ সন্ত্রাসবিরোধী প্রয়াসে সহায়ক হবে না।

সোমবার ইসলামাবাদে এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি। এখন আমাদের জন্য মর্যাদাহানিকর কিছু হলে তা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াসকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এতে কী লাভ হবে?

মার্কিন কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে বলছেন, চরমপন্থী গ্রুপগুলোর সাথে সম্পর্ক রক্ষাকারী পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের ওপরই অবরোধ আরোপ করা হবে। এটা হবে আচরণ পরিবর্তনের জন্য পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি উদ্যোগ।

২০১৬ সালে পাকিস্তানে ওয়াশিংটনের বেসামরিক ও সামরিক সহায়তার পরিমাণ ছিল এক বিলিয়ন ডলারের কম। ২০১১ সালে সর্বোচ্চ হয়েছিল ৩.৫ বিলিয়ন ডলার।

আব্বাসি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, পাকিস্তানকে তহবিল থেকে বঞ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্র তার সন্ত্রাসবিরোধী লক্ষ্য হাসিল করতে পারবে না।

আব্বাসি বলেন, সামরিক সাহায্য হ্রাস এবং ভর্তুকি দিয়ে এফ-১৬ জঙ্গি বিমান বিক্রির ওপর মার্কিন কংগ্রেসের বাধা দানের একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে চীন ও রাশিয়া থেকে ইসলামাদের আরো বেশি অস্ত্র কেনা। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোরতর অবস্থান গ্রহণ ইসলামাবাদকে বেইজিংয়ের প্রতি আরো বেশি করে ঠেলে দেবে।

উল্লেখ্য, চীনের উচ্চাভিলাষী বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাকিস্তানে রাস্তা, রেললাইন ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো নির্মাণের জন্য পাকিস্তানকে প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বেইজিং। চীনের ওই উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে এশিয়াকে ইউরোপ ও আফ্রিকার সাথে জুড়ে দেয়া বাণিজ্যিক রুট নির্মাণ।

আব্বাসি বলেন, চীনের সাথে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের মধ্যে সামরিক সম্পর্ক রয়েছে ১৯৬০-এর দশক থেকে। ফলে তারা অবশ্যই আমাদের বিকল্পগুলোর একটি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আফগানিস্তানের সব ঝামেলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করা ‘অন্যায়।’ তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের হামলায় পাকিস্তানের ক্ষয়ক্ষতি এবং ৩৫ লাখ আফগান উদ্বাস্তুকে আশ্রয় দেয়ার জন্য পাকিস্তানের প্রশংসা করা উচিত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের।

তিনি বলেন, আফগানিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসীরা পাকিস্তানের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এটা প্রতিহত করার জন্য ইসলামাবাদ ২,৫০০ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে বেশ কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে বেড়া নির্মাণ করছে।

আব্বাসি বলেন, সাধারণ নির্বাচন এগিয়ে আসতে থাকায় অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি নির্বাচন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০১৬-১৭ সালে পাকিস্তানের ৩০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৫.৩ ভাগ। কয়েক দশকের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ।

মন্তব্য

মতামত দিন

এশিয়া পাতার আরো খবর

সৌদি মেয়েরা যেভাবে গাড়ি চালানোর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনরিয়াদ: সৌদি আরবে ২৪শে জুন থেকে নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে। তার জন্য ড্রাইভ . . . বিস্তারিত

আফগানিস্থানে তালেবান হামলায় ৩০ নিরাপত্তারক্ষী নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনকাবুল: আফগানিস্থানের বাদগিল প্রদেশে তালেবান হামলায় ৩০ নিরাপত্তারক্ষী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কয়েক . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com