মালয়েশিয়ায় অন্য রকম শিশু আদালত

১৬ জুলাই,২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
কুয়ালালামপুর: শিক্ষক ও সমাজসেবক সেজে এক ব্রিটিশ নাগরিক কুয়ালালামপুরে বসে নিপীড়ন করেন বিপুল সংখ্যক শিশুকে। সেই ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর গোটা মালয়েশিয়া জুড়ে পড়ে যায় হইচই।

এছাড়া সার্বিকভাবেও সমাজে শিশুদের প্রতি যৌন নিপীড়ন বাড়ছিল। এই অবস্থায় শিশুদের প্রতি এ ধরনের অপরাধের বিচারে মালয় সরকার এমন এক আদালত চালু করেছে, যেটা কেবল দেশটিতেই প্রথম নয়। বরং পুরো দক্ষিণ-পূর্বই এশিয়াতেই প্রথম।
 
শিশুদের যৌন হয়রানির বিচার করতে অনন্য এই ফৌজদারি আদালতে কেবল দ্রুত শুনানির ব্যবস্থাই থাকবে না, বরং ঘটনার হোতাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে অনুকূল এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।

সোমবার প্রথম মামলা শুনানির মাধ্যমে এই আদালতের মূল কার্যক্রম শুরু হয়। তবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে আরো আগে, গত ২২ জুন। তবে এখনই দেশব্যাপী এই আদালত চালু হচ্ছে না। আপাতত পাইলটভিত্তিতে একটি হয়েছে। শীঘ্রই সারা দেশেও করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

এই ধরনের ঘটনার শিকার শিশুরা এক ধরনের ট্রমার মধ্য দিয়ে যায়। বিচার চলাকালে ঘটনা মনে করতে গেলেও তাদের ট্রমা বেড়ে যেতে পারে। তাই দরকার বিশেষ ব্যবস্থা আর সতর্ক পদক্ষেপের। তাতে ভয়ংকর অভিজ্ঞতার আতঙ্ক থেকে তাঁরা বের হয়ে যেতে পারে।

এই সব বিষয়কে মাথায় রেখেই গড়ে তোলা হয়েছে এই আদালত। যা একদিকে দ্রুততম সময়ে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে ভিক্টিমদেরকে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা থেকে বের হয়ে আসতে সাহায্য করবে।

এ বছর দেশটির সংসদ শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ আইন পাস করেছে। এই আইনের অধীনেই এই আদালত গঠন করা হয়েছে। এখানে শিশু পর্নোগ্রাফি, শিশুদের সঙ্গে এমন সম্পর্ক স্থাপন করা, যা নিপীড়নের দিকে নিয়ে যেতে পারে – এটাও এই আইনের অধীনে বিচার করা যাবে।

সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়ার শিশুদের যৌন নিপীড়নের ঘটনা বেড়েই চলছে। অনেকে এক্ষেত্রে হয়রানির পূর্বে শিশুদেরকে প্রলব্ধ করতে মোবাইলের চ্যাট অপশনকেও ব্যবহার করে। এ কারণে নতুন আইন করার দরকার হয়ে পড়ে।
গত বছর ব্রিটেনের সবচেয়ে ভয়ংকর শিশু নিপীড়নকারী রিচার্ড হাকল ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর মালয়েশিয়ার মানুষ আঁতকে উঠে। কুয়ালালামপুরে বসে তিনি ডজন ডজন দরিদ্র শিশুদের নিপীড়ন করেছিলেন।

ইংরেজি শিক্ষক এবং সমাজ সেবকের আড়ালে অভিভাবকদের বিশ্বাস অর্জন করে তিনি এই কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি ২২ বছরে কারাজীবন পার করছেন।

নতুন এই আদালতেক স্বাগত জানিয়ে শিশু অধিকার গোষ্ঠীগুলো বিচারক, সহকারি পাবলিক প্রসিকিউটর, আসামীপক্ষের আইনজীবী, কল্যাণকাজে নিয়োজিতদের যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত হতে হবে। যাতে তারা যথাযথভাবে সাক্ষী ও ঘটনার শিকার শিশুদের বক্তব্য নিতে পারেন।

ভয়েস অফ চিলড্রেন নামে অ্যাডভোকেসি গ্রুপের চেয়ারপার্সন ও আইনজীবী শর্মিলা শেকারান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট, দায়রা আদালতের বিচারক এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ হয়ে গেছে। তবে এখনও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ হয়নি।

তার কথায়, ‘শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধসংক্রান্ত মামলাগুলোর ক্ষেত্রে নতুন একটি আচরণবিধির কাঠামো করতে আমরা বার কাউন্সিলের ফৌজদারি আইন বিষয়ক কমিটিকে বলেছি। আমি যতদূর জানি, প্রাথমিক পর্যায়ের প্রশিক্ষণ হয়েছে। আরো নিবিড় প্রশিক্ষণ দরকার।’

এছাড়া পুলিশ এবং ওয়েলফেয়ার সার্ভিসের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন শেকারান। তিনি বলেন, শিশু যথাযথভাবে সহযোগিতা পাবে কিনা, তা নিশ্চিত করতে হবে। যোগ্য আইনজীবীদের নিয়ে আসতে হবে। শিশু সাক্ষীদেরও যথাযথ কাউন্সেলিং এবং সমর্থন দরকার হয়।

বর্তমানে দেশটিতে পুলিশ, সমাজকর্মী, হাসপাতালে ঘটনার শিকার শিশুদেরকে বারংবার সাক্ষাৎকারের মুখে পড়তে হয়। কোনো কোনো মামলা শেষ হতে বছরের পর বছর লেগে যায়। এই ধরনের মামলাগুলো এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তি করা যাবে বলে প্রধানমন্ত্রী নাজিব নিজেই আশা প্রকাশ করেছেন।

শেকারান বলেন, এই সংক্রান্ত বিষয়ে সমাজের বদ্ধমূল ধারণাগুলো অপসারণে শিক্ষা ও সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এতে শিশুরা এই সব অপরাধের বিষয়ে আরো সরব হবে, কেউ অপরাধ করলে বিচার চাইতে আসবে।

শিশুদের প্রতি এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে অধিকাংশ অপরাধীই পরিবারের সদস্য – এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেকারান বলেন, ‘আমাদেরকে এটা মনে রাখতে হবে। যেমন আমি এখন একটা ঘটনা নিয়ে কাজ করছি। যেখানে শিশুটি প্রথম তার মাকে এই ঘটনা জানায়। কিন্তু তাঁর মা সেটা বিশ্বাস করেনি। শিশুদেরকে শেখাতে হবে ‘নিরাপদ এবং অনিরাপদ স্পর্শ’ কাকে বলে? কোথায়, কার কাছে কিভাবে – এ সব বিষয়ে অভিযোগ করতে হয়?'

সূত্র: ডয়চে ভেলে

মন্তব্য

মতামত দিন

এশিয়া পাতার আরো খবর

রাখাইনে নতুন করে অাগুন দিয়েছে সেনাবাহিনী: অ্যামনেস্টি

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দাবি করছে, এখনো জ্বলছে রাখাইনে রোহিঙ্গ . . . বিস্তারিত

রোহিঙ্গাদের সমর্থনকারী ফেসবুক পোস্ট কারা ডিলিট করছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপরে সহিংসতা আর তাদের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার নানা ছবি, . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com