জলবায়ু পরিবর্তনে এশিয়ায় দেশগুলোর ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটবে: এডিবি

১৫ জুলাই,২০১৭

নিউজ ডেস্ক
আরটিএনএন
ঢাকা: এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশসমূহে অপ্রতিহত জলবায়ু পরিবর্তন ভয়াবহ ক্ষতি বয়ে আনবে বলে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

‘ঝুঁকিতে এ অঞ্চল: এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনে মানবিক ডাইমেনশন’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়।

এতে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনে এই অঞ্চলের দেশসমূহে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি হ্রাস, বর্তমান উন্নয়ন ধারা বাধাগ্রস্ত এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান কমে যাবে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন এ অঞ্চলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে যাবে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং পোস্টড্যাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চ (পিআইকে) যৌথ উদ্যোগে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অঞ্চলে বায়ু দূষণের ক্ষতিকর প্রভাবে প্রতি বছরে ৩৩ লাখ লোক মারা যাচ্ছে। এ ধরনের মৃত্যুর তালিকায় চীন, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ শীর্ষে রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে তাপ প্রবাহে বৃদ্ধ লোকের মৃত্যুর সংখ্যা ৫২ হাজার উন্নীত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুর মতো রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। এতে আরো বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বসতি সমস্যা, ব্যাপক অভিবাসন, বিশেষ করে নগর এলাকায় বৃদ্ধি পাবে। ফলে নগরীতে জনসংখ্যার চাপ বাড়বে এবং সেবামূলক খাতগুলোতে চাপ বাড়বে। বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ও টাইফুনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। এই বৃদ্ধির পরিমাণ ৫০ শতাংশের বেশি হতে পারে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে বৃষ্টিপাত ২০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে।

অঞ্চলের উপকূল ও নিচু এলাকায় বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। ২৫ নগরীর মধ্যে ১৯টিতে সমুদ্র জলসীমা এক মিটার উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। এর মধ্যে ফিলিপাইনেই সাতটি উপকূলীয় বন্যায় অঞ্চলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হবে ইন্দোনেশিয়া। ২১০০ সাল পর্যন্ত এখানে প্রতিবছরে ৫৯ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বাংলাদেশে একটি স্বাভাবিক বছরে নদী প্লাবিত এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে দেশের ২০ থেকে ২৫ ভাগ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। একশত বছরের বন্যা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এ সময়ে দেশের মোট এলাকার ৬০ ভাগ ভূখন্ড প্লাবিত হয়েছে।

বিগত ২০ বছরের মধ্যে তিন বছর যথাক্রমে ১৯৮৭, ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালে বড় বন্যা হয়। এ সময় দেশের ৬০ ভাগের অধিক এলাকা প্লাবিত হয়।

প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবেলায় প্যারিস চুক্তিতে উল্লেখিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এতে এশিয়ার দেশসমূহের অর্থনীতির উন্নয়ন গতিধারা ধরে রাখতে এবং অঞ্চলের অতি দরিদ্র লোকদের রক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রতিবেদনে টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ বন্ধে সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দেয়া হয়।

সূত্র: বাসস

মন্তব্য

মতামত দিন

এশিয়া পাতার আরো খবর

ভারতে পথ নাটক করতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার ৫ নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএননয়াদিল্লি: রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়খণ্ড রাজ্যের এমন একটি জায়গায় যেখান থেকে নারী পাচার হয় ব . . . বিস্তারিত

মাকে তালাবন্দি রেখে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে তিন দিনেও খোঁজ নেই ছেলে-পুত্রবধূর!

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনকলকাতা: জন্মদাত্রী মায়ের অবস্থান বাঙালি সংস্কৃতিতে স্রষ্টার সম্মানের পরেই। মায়ের সন্তুষ্টিতে আল . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com