‘ভয়াবহ দৃশ্য, বাচ্চাগুলো কাতরাচ্ছে কেউ কেউ নিথর তাকাতে পারছিলাম না’

২০ এপ্রিল,২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
আলেপ্পো: অন্যান্য দিনের মতোই শুরু হয়েছিল হাবাকের সেই শনিবারটা (১৫ এপ্রিল)। কিন্তু শেষটা হল একেবারে অন্য রকম। পেশার তাগিদে সিরিয়ার আলেপ্পোয় ছবি তুলতে গিয়েছিলেন আব্দ আলকাদের হাবাক। হঠাৎই শুনলেন, বিস্ফোরণ হয়েছে শরণার্থীদের বাসের কনভয়ে। এ হল গত সপ্তাহের সেই হামলা, যেখানে নিহতের সংখ্যা ছুঁয়েছিল ১২৬। খবর পেয়েই সাংবাদিকের মন জানান দিয়েছিল, ‘ভাল’ ছবি চাই।

আলেপ্পো সেই ঘটনাস্থলে গিয়ে হাবাক নাকি ক্যামেরা অন করেও ফেলেছিলেন। কিন্তু ছবি তোলা হয়ে ওঠেনি। অন্তত ৬৮ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছিল ওই বিস্ফোরণে। পরে হাবাক বলেছেন, ‘ভয়াবহ দৃশ্য! বাচ্চাগুলো কাতরাচ্ছে। কেউ কেউ নিথর। তাকাতে পারছিলাম না।’

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে হাবাক বলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি ঠিক করে ফেলেন, ছবি পরে হবে। আগে বাচ্চাগুলো বাঁচুক। কিন্তু যে বাচ্চাটিকে প্রথম ছুঁয়ে দেখেন, সে-ই তো মৃত! ছুটে যান আর এক জনের দিকে। এক জন চেঁচিয়ে বলে,‘ও দিকে যাবেন না। বাচ্চাটা বেঁচে নেই।’ হাবাক শোনেননি। তার যেন মনে হয়, ছোট্ট বুকটা একটু ওঠানামা করছে। এক ঝটকায় কোলে তুলে নেন শিশুটিকে।

হাবাক পরে বলেছেন, ‘সর্বশক্তি দিয়ে আমার বাঁ হাতটা আঁকড়ে ছিল বাচ্চাটা। চোখ দু’টো আমার চোখের দিকে।’ হাবাক যখন শিশুটিকে নিয়ে আসছেন, তখন তার ছবি তোলেন সতীর্থ মহম্মদ আলরাগেব। তিনি কেন যাননি বাচ্চাদের উদ্ধারে? আলরাগেব বলছেন, ‘ভাবলাম পরে যদি বিতর্ক হয়! তাই সব রেকর্ড করা থাক। বন্ধুর কাজে গর্বিত।’

ছ’সাত বছরের ছেলেটাকে অ্যাম্বুল্যান্সে পৌঁছে দিয়েছিলেন হাবাক। তার পরে আবার ছুটে গিয়েছিলেন অন্যদের সাহায্যে। এখনো জানেন না ছেলেটা কেমন আছে। আদৌ বেঁচে আছে কি না। সে দিন প্রাণ খুঁজে ফিরতে ফিরতে একটা সময়ে ভেঙে পড়েন তরুণ চিত্রগ্রাহক। সহকর্মীদের তোলা ছবিতে দেখা গিয়েছে, একটি শিশুর দেহের পাশে হাঁটু মুড়ে বসে হাউহাউ করে কাঁদছেন হাবাক। নামানো হাতে নিজের ক্যামেরাটা তখনও ধরা। অনেকের মতে, আগাগোড়া অন থাকায় হাবাকের ওই ক্যামেরাতেও সম্ভবত ধরা পড়ে গিয়েছে মর্মান্তিক কিছু ছবি।

খবর জোগাড় বা ছবি তোলার সময়ে সব আবেগকে দূরে ঠেলে রাখাই দস্তুর সংবাদ জগতে। অনেক সময় সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিকদের এ জন্য সমালোচিত হতে হয়। বিপর্যয় যা-ই ঘটুক, পেশার তাগিদ ছাপিয়ে আর্তের পাশে দাঁড়ানো যায় কি? এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

দু’বছর আগে তুরস্কের সৈকতে নিষ্প্রাণ আলান কুর্দির ছবি ফের উস্কে দিয়েছিল সেই বিতর্ক। সে বছরেই হাঙ্গেরির রোজস্কে সীমান্তে পুলিশি ঘেরাটোপ টপকে ঢুকে পড়া, বাচ্চা কোলে এক শরণার্থীর ছবি তুলতে লাথি মেরে তাকে ফেলে দেন এক মহিলা ক্যামেরা অপারেটর। শেষমেশ চাকরি খোয়ান পেত্রা লাজলো নামে ওই মহিলা। হাবাক কিন্তু অন্য গল্প লিখলেন— মানবতার। তার এমন কাজের চিত্র এখন বিশ্বজুড়ে আলোড়িত হচ্ছে।

মন্তব্য

মতামত দিন

এশিয়া পাতার আরো খবর

আফগানিস্তানে আত্মঘাতী বোমা ও বন্দুক হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭১

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনকাবুল: আফগানিস্তানে সরকারি বাহিনীর ওপর দুটি পৃথক আত্মঘাতী বোমা ও বন্দুক হামলায় নিহতের সংখ্যা বে . . . বিস্তারিত

রাখাইনে খাদ্য সঙ্কটের তথ্যও গোপন করেছে জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএননাইপেদো: মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের মাঝে খাদ্য সঙ্কট বিষয়ে বিস্তারিত এক প্রতিবেদন চেপ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com