‘মমতাই থাকবে, মোদী নয়’

১১ জানুয়ারি,২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আরটিএনএন

বীরভূম: এবার নোট বাতিল নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মেদীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘নোট বাতিল নিয়ে মমতা ব্যানার্জি বলছে বলে তৃণমূলের সবাইকে গ্রেপ্তার করতে হবে! কিছু যায় আসে না মোদী! মমতারাই থাকবে, তুমি থাকবে না!’


সেই সঙ্গে তার স্বভাব সুলভ কটাক্ষে ছড়া কেটে বলেন, ‘চলবে না অন্যায়, টিকবে না ফন্দি। জনগণের আদালতে হতে হবে বন্দি!’


বীরভূমের কেন্দুলিতে মঙ্গলবার বাউল উৎসবের উদ্বোধনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।


মূলত মোদী সরকারের নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মমতা যে প্রতিবাদে নেমেছিলেন, তা এখন পুরোদস্তুর রাজনৈতিক সংঘাতে পর্যবসিত হয়েছে। জাতীয় স্তরে মোদী-বিরোধী বাতাবরণ মজবুত করার লক্ষ্যে তৃণমূল নেত্রী যেমন বিরোধী ঐক্য গড়তে অনুঘটকের ভূমিকায় নেমেছেন। তেমনই সিবিআই তদন্তকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের মাজা ভাঙার চেষ্টায় নেমেছে বিজেপিও।


তৃণমূলের একাধিক প্রথম সারির নেতা স্বীকার করছেন, দ্বৈরথের এমন চেহারা দেখে ভেতরে ভেতরে টলে গিয়েছেন দলের কিছু তাবড় নেতাও। কিন্তু মমতা পোড় খাওয়া রাজনীতিক। দলে তার ঘনিষ্ঠদের মতে- দিদি বুঝতে পারছেন, এই খেলায় এতটুকু মানসিক দুর্বলতা দেখানো মানেই হেরে ছিটকে যাওয়া। উল্টে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বিজেপিকে বুঝে নিতে হবে। বিজেপি ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার হিসেবে সিবিআইকে ব্যবহার করলে, পাল্টা হুমকি দিতে হবে, ‘আমাদেরও আইন আছে, পুলিশ আছে, গ্রেপ্তার আমরাও করতে পারি।’


তৃণমূল নেতৃত্বের কথায়- নেত্রী দলে যেমন স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দমে গেলে চলবে না। তেমনই এখন সর্বভারতীয় রাজনীতিতেও এই বার্তা দিতে নেমেছেন যে চক্রান্তের ভয়ে পিছিয়ে যাওয়া তার অভিধানে নেই। তাই নিয়ম করে রোজ তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আক্রমণ করছেন তো বটেই, গোটা দলকেও রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছেন।


এমনকী সিবিআই তদন্তকে নিখাদ ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে মানুষের মনে ধারণা গেঁথে দিতে ভুবনেশ্বরে খোদ সিবিআই দফতরের অদূরে এদিন সভা করিয়েছেন সুব্রত বক্সী-মানস ভুঁইয়া-বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়দের দিয়ে। তা ছাড়া পঞ্জাবের অমৃতসরে গিয়ে এদিনই নোট বাতিলের প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি মুকুল রায়।


আবার কলকাতায় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আঞ্চলিক দফতরের দোরগোড়ায় মঙ্গলবারও সভা করেছেন পার্থ ও শোভন চট্টোপাধ্যায়রা।


তবে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতির অভিযোগ তুললেও মমতা এদিন জানান, সিবিআই প্রতিষ্ঠানটির প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল। সোমবারই তিনি সিবিআইকে ‘কনস্পিরেসি ব্যুরো’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। কিন্তু এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সিবিআইকে আমরা শ্রদ্ধা করি। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু কয়েকটা লোককে বসিয়েছে মোদী, একদম চক্রান্তকারী দালাল এগুলো। তাদের কাজ কী? মমতা ব্যানার্জি মানুষের কথা বলছে, ওকে চোর বলো! সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে চোর বল! তাপস পালকে চোর বলো!’


তাৎপর্যপূর্ণভাবেই বিজেপির পাশাপাশি লগ্নি কেলেঙ্কারি নিয়ে এদিন বামেদের বিরুদ্ধেও আক্রমণাত্মক হয়েছেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল আমলে একটাও ‘চিট ফান্ড’ হয়নি। সব হয়েছে সিপিএমের আমলে। তখন কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বিজেপির নেতারা সহারাসহ নানা সংস্থায় জড়িত হলেও কাউকে ধরা হয়নি। তার কথায়, ‘সিপিএম আর বিজেপি হচ্ছে বিষদাঁত! এই দু’টো বিষদাঁতকে ভেঙে দিতে হবে। গণতন্ত্রের মধ্যে দিয়ে, আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে, প্রতিরোধের মধ্যে দিয়ে।’


শুধু মুখে বলা নয়, সিপিএমের সঙ্গে বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার যোগসাজশ দেখিয়ে এদিন থেকে কলকাতায় পোস্টারও ফেলেছে তৃণমূল। চিট ফান্ড কাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে পোস্টারে কংগ্রেসের কিছু নেতার নামও রাখা হয়েছে। এ সব দেখে বিরোধী শিবিরের নেতারা অবশ্য মনে করছেন, এর পেছনেও মমতার সুচিন্তিত কৌশল রয়েছে। সিপিএমের এক নেতার কথায়, ‘ওরা আসলে নিজেদের আড়াল করার জন্য দেখাতে চান- শুধু ওরা নন, সকলেই চোর!’


সূত্র: আনন্দবাজার

মন্তব্য

মতামত দিন

এশিয়া পাতার আরো খবর

গুজরাটে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় দুইজন নিহত, আতঙ্কে মুসলমানরা

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনগুজরাট: বিজেপিশাসিত ভারতের গুজরাটের পাটান জেলার চানসামা থানা এলাকায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় দুইজন . . . বিস্তারিত

ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি বিচার করা হয়নি, জাতিসংঘের প্রস্তাব প্রত্যাখান

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএননাইপেদো: মায়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com