তীর থেকে ফেরা হলো না ১৭ বাংলাদেশির

১০ জানুয়ারি,২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আরটিএনএন

দিল্লি: তীরে পৌঁছেও কুশিয়ারা ফেরা হলো না ১৭ বাংলাদেশির। ভোরে হাসিমুখে যে চার দেয়াল ছেড়ে বেরিয়েছিলেন, বিকেলে চোখের জল মুছতে মুছতে সেখানেই ঢুকতে হলো সবাইকে।


ও পারে তাদের আত্মীয়স্বজন। এ পারে তারা দাড়িয়ে। ও পারে যেতে আব্দুল করিম, রফিকউদ্দিনদের যেন তর সইছিলো না।


বিএসএফের মোটরবোটে কতক্ষণই সময় লাগতো দেশের মাটিতে পৌঁছাতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফেরা হলো না বাংলাদেশে। ফিরে যেতেই হলো আবারো শিলচর জেলেই।


অবৈধ ভাবে সীমান্তে প্রবেশের অপরাধে সেখানেই বন্দি ছিলেন সকলে।


কবে যে সেই ‘অনুমোদন’ মেলে, তারই প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছেন  তারা।


করিমগঞ্জের পুলিশ সুপার প্রদীপরঞ্জন কর বলেন, দু-তিন দিনের মধ্যে তাদের নিজের দেশে পাঠানো সম্ভব হবে।


ওই বাংলাদেশিদের দেশে পাঠাতে ফাইল চালাচালি শুরু হয় গত বছর। দু’দেশের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার পর্যায়ের বৈঠকে ৭৩ জনের তালিকা তুলে দেয়া হয়েছিলো বাংলাদেশের হাতে। গত ১৩ অক্টোবর প্রথম দফায় ১০ জনকে ফিরিয়ে নেয় বাংলাদেশ।


দ্বিতীয় দফায় ১৭ জনের নাম-ঠিকানার যথার্থতার কথা ভারত সরকারকে জানিয়ে দেয়া হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন দুই মহিলাও। তারা হলেন: সুনামগঞ্জের মৌ দাস ও মাধবপুরের ভগবতী গোয়ালা।


৩১ ডিসেম্বর ঠিক হয়, ৯ জানুয়ারি তাদের প্রত্যপর্ণ করা হবে। শিলচর সেন্ট্রাল জেল কর্তৃপক্ষ-সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে তা জানিয়ে দেয়া হয়।


মঙ্গলবার সকালে শিলচরে করিমগঞ্জ পুলিশের গাড়িতে তাদের তুলে দেওয়া হয়। সে সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রমনদীপ কাউর ও জেল সুপার হরেন কলিতা। সকলের খুশিতে তারাও সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।


করিমগঞ্জের কালীবাড়িঘাট সীমান্তে আধঘণ্টা থাকার পর তাদের নিয়ে যাওয়া হয় অসম পুলিশের সীমান্ত শাখার কার্যালয়ে। সব কাগজপত্র পরীক্ষার সঙ্গে বাংলাদেশের হাতে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় নথিও চূড়ান্ত করা হয়।


এমন সময় গুয়াহাটি থেকে ফোন আসে, তাদের হস্তান্তর করা যাবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে শেষ মুহূর্তের ছাড়পত্র মেলেনি।


প্রদীপবাবু আরো বলেন, সব প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার পর রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তর কেন্দ্রের কাছে শেষ মুহূর্তের অনুমোদন চায়। কেন্দ্র থেকে রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তর হয়ে সেই অনুমোদন পুলিশ সুপারের কাছে পৌঁছনোর কথা। কিন্তু মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় রাজ্যকে শেষ মুহূর্তের অনুমোদন না দেয়ায় করিমগঞ্জ পুলিশ সমস্যায় পড়ে।


এ দিন যাদের বাংলাদেশে হস্তান্তর করার কথা ছিল সেই ১৭ জনই বিভিন্ন সময় করিমগঞ্জে ধরা পড়েছিল।


তারা হলেন: আব্দুল করিম (বাড়ি বাংলাদেশের মৌলভিবাজার), রফিক উদ্দিন (মৌলভিবাজার), কবি উসমান (নোয়াখালি), রিয়াজ উদ্দিন (মৌলভিবাজার), আব্দুল রহিম (মৌলভিবাজার), আনিসুর রহমান (কুমিল্লা), সামস উদ্দিন (জকিগঞ্জ), ইসাক উদ্দিন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), বাবুল মুল্লা (চান্দপুর), লালচান্দ মিয়া (চান্দপুর), ভগবতী গোয়ালা (মাধবপুর), মৌ দাস (সুনামগঞ্জ), রাহুল দাস (হবিগঞ্জ), তাফুর মিয়া (হবিগঞ্জ), সাজাহান আলি (ময়মনসিংহ), পঙ্ক্ষী মিয়া (বুবারথল), সুহাগ হুসেন (গোপালগঞ্জ)।


করিমগঞ্জের আদালত ২-৩ মাস কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু দু’দেশের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় ৩-৪ বছর কাটানোর পরও বাড়ি ফিরতে পারেননি তারা। ছিলেন ডিটেনশন ক্যাম্প নামে চিহ্নিত শিলচর সেন্ট্রাল জেলে।


মৌলভিবাজারের রিয়াজ উদ্দিন জানান, তার পরিবারের লোক ও পারে অধীর আগ্রহে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেলেন না।


তাদের জন্য আক্ষেপ করে জেল সুপার হরেন কলিতাও বলেন, ‘শাস্তির মেয়াদ কাটিয়ে কেউ বাড়ি ফিরলে ভালই লাগে আমাদের। তার উপর ওরা অনেক দিন ধরে আটক ছিলেন’।


সূত্র: আনন্দবাজার

মন্তব্য

মতামত দিন

এশিয়া পাতার আরো খবর

কী বিচার পেলাম? মোদীকে প্রশ্ন তেজ বাহাদুর (ভিডিও)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আরটিএনএন দিল্লি: বিএসএফ জওয়ানদের নিম্নমানের খাবার দেয়ার অভিযোগ করে স্যোস্যাল মিডিয়ায় ভিডিও আপলোড করায় . . . বিস্তারিত

সিরিয়ায় আত্মঘাতী হামলায় সামরিক গোয়েন্দা প্রধানসহ নিহত ৩২

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনহোমস: সিরিয়ায় সরকারি বাহিনী নিয়ন্ত্রণাধীন পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হোমসে সামরিক স্থাপনার উপর সিরিজ আত . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com