বেলজিয়াম সন্ত্রাসবাদে আক্রান্ত, তবে এর জন্য ইসলাম দায়ী নয়: গোয়েন্দা বিভাগ

১২ ফেব্রুয়ারি,২০১৯

বেলজিয়াম সন্ত্রাসবাদে আক্রান্ত, তবে এর জন্য ইসলাম দায়ী নয়: গোয়েন্দা বিভাগ

বেলজিয়াম সন্ত্রাসবাদে আক্রান্ত, তবে এর জন্য ইসলাম দায়ী নয়: গোয়েন্দা বিভাগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
ব্রাসেলস: বেলজিয়াম নামক দেশটি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত অভিবাসীদের সবসময় স্বাগত জানায়। কিন্তু ২০১৮ সালের ৩০ নভেম্বর ‘Belgian State Security Service (VSSE)’ কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, দেশটি বর্তমানে সন্ত্রাসীদের জন্য হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। যাকে ‘জিহাদিদের ধাক্কা’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

এসব সন্ত্রাসের মূল কারণ হিসেবে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে যে, বেলজিয়ামের কারাগারসমূহে আটক উগ্রপন্থীদের সাথে সেখানকার কয়েদিদের সখ্যতা এবং একই সাথে যেসব কয়েদী তাদের কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষে বাহিরে এসেছে তারাও দেশটিতে সন্ত্রাসবাদের মূল কারণ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আসন্ন বছর সমূহে VSSE এমন একটি প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে যাতে করে কারাভোগের পর যেসব সন্ত্রাসী ছাড়া পাবে তাদেরকে সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় আনা যায়।’

তথাপি, প্রতিবেদনটির মূল লেখক বেলজিয়ামের কারাগারসমূহে ঠিক কতজন উগ্রপন্থী কয়েদী আটক রয়েছেন তারা সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে সেপ্টেম্বর মাসে অন্তত ১৩০ জনকে সন্ত্রাসবাদের সাথে জড়িত থাকার দায়ে আটক করা হয়েছে।

তবে বেলজিয়ামের গোয়েন্দা বিভাগ দেশটিতে ইসলামি সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়ার জন্য ইসলাম ধর্মকে দায়ী করতে নারাজ। এর পরিবর্তে প্রতিবেদনটিতে কেন বিশ্বব্যাপী ইসলামি সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়েছে তার একটি ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে এবং এসব সন্ত্রাসের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে- ‘সত্যিকার বা ধারণাগত বৈষম্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা, খারাপ অর্থনীতি, বেকারত্ব এবং উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে পড়া’ ইত্যাদিকে সন্ত্রাসের কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

ইউরোপের জিহাদের রাজধানী
২০১৭ সালে অতি উচ্চ গোপনীয় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়ে পড়ে এবং তাতে দেখা যায় যে, ব্রাসেলসের মোলেনবিক নামক একটি অঞ্চলে অন্তত ৫১টি সংগঠন রয়েছে যারা সন্ত্রাসবাদের সাথে যুক্ত। এজন্য অঞ্চলটিকে ইউরোপের জিহাদের রাজধানী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

সেমিটিজম বিরোধী সংস্কৃতির আমদানি
বেলজিয়াম নামক দেশটিতে একটি ইসলামিক রাজনৈতিক দল রয়েছে যার নামই ‘ইসলাম’ বা ‘ISLAM’ । আর I এর অর্থ ন্যায়পরায়ণতা, S এর অর্থ একতা, L এর অর্থ স্বাধীনতা A এর অর্থ বিশ্বাসযোগ্যতা এবং M এর অর্থ নৈতিকতা বুঝায়।

দলটির অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে সেখানে একটি ইসলামিক দেশ গড়ে তোলা এবং নারী পুরুষদের জন্য আলাদা আলাদা যানবাহনের ব্যবস্থা করা। ২০১২ সালের স্থানীয় মিউনিসিপাল নির্বাচনে দলটি দুটি আসনে জয়লাভ করে যার একটি ছিল মোলেনবিক শহর। ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলটি মোলেনবিক শহরে তাদের আসনটি হারায় যার অর্থ হচ্ছে দলটির তার আবেদন দিন দিন হারিয়ে ফেলছে।

একই সাথে দেখা যাচ্ছে যে, বেলজিয়ামে সেমিটিজম(ইহুদি বিরোধী মতবাদ) আমদানি করা হচ্ছে বলেও অনেকে মত প্রকাশ করেন। ২০০১ সালে হামলার পরে ব্রাসেলসের ইহুদি ধর্ম গুরুদের প্রধান রাব্বি তার ধর্মীয় পোশাক ‘স্কালকেপ’ পরিধান করা হতে বিরত থাকছেন।

‘স্কালকেপ’ পরিধান থেকে বিরত হওয়ার কারণ জানতে চাইলে প্রধান রাব্বি এবং ইহুদি সম্প্রদায়ের অন্যান্য সদস্যরা তাদের নিরাপত্তা হীনতার কথা জানায়। ২০১৪ সালে ব্রাসেলসের একটি ইহুদি জাদুঘরে সন্ত্রাসীদের হামলায় চারজন ইহুদি নিহত হয়েছিলেন।

এদিকে ২০১৩ সালে ৪,০০০ হাজার মুসলিম তরুণদের মধ্যে করা এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, বেলজিয়ামের মুসলিম তরুণদের অর্ধেকের বেশি তরুণ ইহুদি বিরোধী মনোভাব পোষণ করেন।

‘ইহুদিরা সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ করছে’ এমন বিবৃতির সাথে অন্তত ৪৫.১ শতাংশ মুসলিম একমত অন্যদিকে এ বিবৃতির সাথে মাত্র ১০.৮ শতাংশ অমুসলিম একমত হয়েছেন। আর ‘ইহুদিরা বেলজিয়ামে খুব বেশি স্বল্প বসনা হয়ে থাকে’ এমন বিবৃতির সাথে প্রায় ৩৫ শতাংশ মুসলিম একমত হয়েছেন অন্যদিকে মাত্র ১১.৮ শতাংশ অমুসলিম এই বিবৃতির সাথে ঐক্যমত্য পোষণ করেছেন।

Belgian League Against Antisemitism নামের একটি সংগঠনের মতে, ‘বেলজিয়ামের ইহুদি সম্প্রদায় অবরোধের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে পৌঁছিয়েছে।’

সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট জোয়েল বুবিনফিল্ড বলেন, ‘গত দুবছর কিংবা তিন বছর যাবত বেলজিয়ামের বিদ্যালয়েরসমূহে অধ্যয়নরত ইহুদি শিক্ষার্থীরা ‘ইহুদি বিদ্বেষ’ মূলক আক্রমণের শিকার হয়েছে। তার মতে বর্তমানে ইহুদি অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদের সরকারি বিদ্যালয়সমূহে ভর্তি করার ঝুঁকি নিতে চাইছে না।

তিনি বলেন, ‘একে আমরা দ্বিগুণ শাস্তির মত দেখছি। একদিকে তারা ইহুদি বিদ্বেষের মুখোমুখি অন্যদিকে তারা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে যাতে করে তারা বিদ্যালয় পরিত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছে।’

তিনি বলেন, বেলজিয়াম বর্তমানে গুরুতরভাবে ইহুদি বিদ্বেষের সম্মুখীন হচ্ছে এ বিষয়টি দেশটির রাজনীতিবিদদের উপলব্ধিতে আনা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ২০০৮-২০০৯ সালে আমি তাদের বলেছিলাম: আপনার যদি আমাদের সন্তানদের জন্য কিছু করতে না পারেন তবে অন্তত পক্ষে আপনাদের সন্তানদের জন্য হলেও কিছু করুন।’

সূত্র: বেলজিয়ামের The Gatestone Institute নামের গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র গবেষক জুডিথ ব্রেগম্যান এর কলাম থেকে।

মন্তব্য

মতামত দিন

ইউরোপ পাতার আরো খবর

মানুষের স্মৃতি চুরি করবে হ্যাকাররা

ডেস্ক নিউজআরটিএনএনলন্ডন: কল্পনা করুন যে, আপনি ইন্সটাগ্রামের ফিডের মতো আপনার স্মৃতিগুলো স্ক্রল করে দেখছেন। বিশদভাবে দেখছে . . . বিস্তারিত

গাড়ী থেকে উধাও ৩ মিলিয়ন ইউরো

ডেস্ক নিউজআরটিএনএনপ্যারিস: ফ্রান্সে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের একটি শাখায় নগদ অর্থ সরবরাহ করতে গিয়ে নিজেদের এক সহকর্মী তিন . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com