ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে নরওয়ের তরুণ মুসলিমদের ভাবনা নিয়ে কী বলছেন মিনা

০৬ ফেব্রুয়ারি,২০১৯

ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে নরওয়ের তরুণ মুসলিমদের ভাবনা নিয়ে কী বলছেন মিনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
ওসলো: নরওয়ের মুসলিম নাগরিক মিনা তার ধর্ম বিশ্বাস সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে একে ‘নিজের অন্তরের বিষয়’ বলে আখ্যায়িত করেন। তার কাছে ইসলাম হচ্ছে একেবারে ব্যক্তিগত বিষয় যা কারো চিন্তার বিষয় না।

নরওয়ের ওসলো বিশ্ববিদ্যালয় ‘Radicalization and Resistance’ শিরোনামে এক গবেষণায় মিনাসহ আরো ৯০ জন মুসলিমদের সাক্ষাৎকার নিয়েছে যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩২ এর মধ্যে।

নরওয়ের অনেক তরুণ মুসলিম নিজেদের ধর্ম বিশ্বাস সম্পর্কে অন্যদের জানতে দিতে চান না। তাদের বিশ্বাস তাদের যার যার ব্যক্তিগত বিষয় এবং তাদের নিকট পবিত্র কুরআন অধ্যয়ন করাটা একটি সহজ কাজ।

ইদিল আবদি নামের অপর মুসলিম যিনি একটি গবেষণা প্রকল্পের সহকারী তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ অংশ গ্রহণকারী বলেছেন তাদের ধর্ম তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। তারা ধর্ম সম্পর্কে বেশি কিছু বলতে চান না।’

ইদিল আবদির গবেষণা প্রকল্প ‘Young Muslim voices’ নামের একটি বই প্রকাশ করেছে।

প্রার্থনা এবং এলকোহল নিয়ে শান্ত থাকা
তাদের গবেষণা প্রকল্পে নরওয়ের প্রায় সকল স্থান থেকে আসা লোকজন অংশ নিয়েছেন একই সাথে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থকে বিভিন্ন ধর্ম বিশ্বাসী লোকজনও অংশ নিয়েছেন।

ইদিল আবদি বলেন, ‘বেশিরভাগ সময় তাদের কাছে মসজিদে যাওয়ার সময় হয়ে উঠে না, কারণ তা বিদ্যালয় বা কর্মক্ষেত্রের সময়ের সাথে একীভূত না।’

খাদরা নামের একজন অংশগ্রহণকারী বলেন, ‘আমি কি দিনে পাঁচবার সালাত আদায় করি? আমি চেষ্টা করে থাকি। আমি কি উপবাস থাকি? আমি আসলে তা পালন করি। আমি কি এলকোহল পান করি? হ্যাঁ। আমি কি শূকরের মাংস খাই? না। আমি কি শালীন পোশাক পরিধান করি? হ্যাঁ, সাধারণত।’

পুনরায় জন্ম নেয়া মুসলিম?
‘পুনরায় জন্ম নেয়া’ শব্দটি সাধারণত সেইসব খ্রিস্টানদের প্রতি নির্দেশ করে যারা সৃষ্টিকর্তার সাথে সরাসরি সম্পর্ক তৈরি করে। এই শব্দটিকে মুসলিমদের ক্ষেত্রও প্রযোজ্য?

ওসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং গবেষণা প্রকল্পটির প্রধান সেভিনাজ সান্ডবের্গ বলেন, ‘তারা মসজিদে যায় কি যায় না বা নীতিমালা অনুসরণ করে কি করে না এসব বিতর্কের উর্ধ্বে তারা মুসলিম।’

গবেষণায় অংশ নেয়া তরুণদের ধর্ম চর্চার ক্ষেত্র অনেকটা শিথিলতা দেখে তিনি কিছুটা বিস্মিত হয়ে পড়েন।

নিজের মতামতের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা
সান্ডবের্গ মনে করেন ধর্মীয় ব্যাপারে খোলামেলা হওয়া কট্টরপন্থী চিন্তা চেতনা থেকে আমাদের রক্ষা করে।

তারা ভাষায়- ‘কট্টরপন্থীরা যা বিশ্বাস করে তার ব্যপারে তাদের দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে। তারা বলে তাদের নিকটে সত্য রয়েছে। কিন্তু যখন আপনার মনে ‘হতে পারে’ শব্দটা এসে যায় তখন আপনি অযথাই লোকজনদের মারতে পারেন না।’

অন্যদিকে ইদিল আবদি বলেন, ‘যদি তরুণ মুসলিমগণ তাদের মনকে উদার করতে পারেন তখন তারা হয়ত কট্টরপন্থীদের শিকারে পরিণত হতে বিরত থাকবেন।’

অনেকেই সমকামিতার বিরুদ্ধে
গবেষণায় অংশ নেয়া অনেকেই যৌন জীবনের ক্ষেত্রে শালীন। তারা বিবাহ বহির্ভূত যৌনতা বা সমকামিতাকে অপছন্দ করেন কিন্তু তারা অন্যদের সম্পর্কে মন্তব্য করতে চান না। তাদের মতে শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তাই তাদের সম্পর্কে বলতে পারেন।

এন্টোন নামের একজন অংশগ্রহণ কারী বলেন, ‘এটি অনেকটা একটি ধূসর এলাকা। যদি একজন ব্যক্তি সমকামী হয় তবে আমার কাজ হচ্ছে তা সুপথ দেখানো। যদি সে আমার কথা না শোনে তবে তার জীবন তার মত চলুক। এজন্য আমি তাকে হত্যা করতে পারি না।’

তাদের মনে শরিয়া নেই
গবেষণায় অংশ নেয়া অনেক তরুণ মুসলিম আইন বা শরিয়া সম্পর্কে উত্তর দিতে অস্বস্তি বোধ করে। তারা আসলে এ বিষয়টি নিয়ে অতোটা চিন্তা করে না।

ইদিল আবদি বলেন, ‘জনগণ যেরকম জিহাদ এবং শরিয়া সম্পর্কে উদ্বিগ্ন, তেমনটি আমাদের প্রকল্পে অংশ নেয়াদের মধ্যে দেখা যায় নি।’

সেভিনাজ সান্ডবের্গ বলেন, ‘আমি অবাক হয়েছি যে, এসকল অংশগ্রহণকারীর অনেকেরই এমন বন্ধু রয়েছে যারা কট্টরপন্থী বা যারা কট্টরপন্থীদের সম্পর্কে জানতে আগ্রহী।’

ইসলাম সম্পর্কে জানার মধ্য দিয়ে কি কট্টরপন্থী থেকে বাঁচা সম্ভব? গবেষকদের ধারণা ধর্ম সম্পর্কে খোলাখুলি আলোচনা তরুণদের কট্টরপন্থী থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

পরিবার এবং বন্ধু-বান্ধব কট্টর পন্থা থেকে দূরে রাখে
বেশীরভাগ তরুণ মুসলিমগণ কট্টরপন্থী সম্পর্কে তেমন কিছু জানতে আগ্রহী নন কারণ তারা পুলিশের নজরে পড়তে ভয় পান। তবে গবেষকরা এমন লোকদের সাথেও কথা বলেছেন যারা নরওয়ের কিছু জিহাদি দলের সাথে সংযুক্ত রয়েছেন।

সেভিনাজ সান্ডবের্গ এমন একজন তরুণ মুসলিমের কথা বলেন যিনি নরওয়ে থেকে সিরিয়ায় জিহাদে অংশ নিতে উদ্যোগী হয়ে পড়েন কিন্তু পরবর্তীতে তার বন্ধুরা এবং পরিবার তাকে এ পথ থেকে বিরত রাখতে সক্ষম হন।

সিরিয়া থেকে জিহাদে অংশ নিয়ে ফিরে আসা এমন একজন মুসলিম বলেন, সোশ্যাল মিডিয়াগুলো কট্টর পন্থায় ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
যথাযথ কর্তৃপক্ষের অভাবে কট্টরপন্থার দরজা খুলে দিতে পারে

সহজীকরণ হয়ত কোনো কোনো ক্ষেত্রে শক্তি হতে পারে। কিন্তু ‘সকল কিছুই গ্রহণযোগ্য’ এ ধরনের ইসলামি বিশ্বাস যে কারো জন্য যে কোনো ভাবে ধর্মীয় গ্রন্থ ব্যাখ্যা করা সুযোগ করে দেয়।

সেভিনাজ সান্ডবের্গ বলেন, ‘ঐতিহ্যগত ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের জন্য কট্টরপন্থীদের নজরে আনা কঠিন বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণ উত্তর এবং উগ্রপন্থী সমাধাণ হয়ত ক্ষতির দিকে নিয়ে যেতে পারে, যদি আপনি আপনার জীবনের দিক ঠিক করতে সংগ্রাম করতে থাকেন অথবা আপনার কোনো অপরাধী মনোভাব থেকে থাকে।’

নরওয়ের পুলিশ নিরাপত্তা বিভাগের তদন্তে উঠে আসে যে, বেশিরভাগ কট্টরপন্থী উগ্রপন্থায় জড়ানোর পূর্বে কোনো না কোনো ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত ছিল।

তথাপি, বেশ কিছু গবেষক বলেছেন যে, আমাদের আরো সতর্ক হওয়া প্রয়োজন যে, কট্টরপন্থীরা যে কোনো অবস্থান থেকে উঠে আসতে পারে।

সূত্র: সাইন্সনরডিক ডট কম।

মন্তব্য

মতামত দিন

ইউরোপ পাতার আরো খবর

খেলাধুলায় মুসলিম শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ব্রুনেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্পোর্টস হিজাব চালু

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনলন্ডন: চলতি মাসের ১১ তারিখ সোমবার বার্তা সংস্থা বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, লন্ডন ভিত্তিক . . . বিস্তারিত

মানুষের স্মৃতি চুরি করবে হ্যাকাররা

ডেস্ক নিউজআরটিএনএনলন্ডন: কল্পনা করুন যে, আপনি ইন্সটাগ্রামের ফিডের মতো আপনার স্মৃতিগুলো স্ক্রল করে দেখছেন। বিশদভাবে দেখছে . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com