চীনকে ভবিষ্যতের সহযোদ্ধা হিসেবে দেখছেন এরদোগান

১৯ ডিসেম্বর,২০১৮

চীনকে ভবিষ্যতের সহযোদ্ধা হিসেবে দেখছেন এরদোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
আঙ্কারা: তুরস্কের ভবিষ্যত অর্থনৈতিক সহযোদ্ধা হতে যাচ্ছে চীন। এমনটাই বলছেন দেশটির নেতারা। তুর্কী রাষ্ট্রপতি রেসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, ‘আমরা একটি অর্থনৈতিক যুদ্ধের সম্মুখীন হয়েছি। তবে ভয়ের কিছু নেই, এই যুদ্ধে আমরাই জিতব’।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রা সংকট এবং অর্থনৈতিক পতন ঘটার পরিপ্রেক্ষিতে রেসেপ তাইয়েপ এরদোগান গত আগস্ট মাসে তাঁর একশ’ দিনের কর্ম পরিকল্পনা উপস্থাপনের সময় এ কথা বলেন।

এরদোগান ঘোষণা করেন, চীন ভবিষ্যতে তুরস্কের অর্থনৈতিক অংশীদার।

‘অ্যাসবেলিটি-তুরস্ক’ দলের চেয়ারম্যান ইসমেত ওজতানিকের কণ্ঠেও একই কথা প্রতিধ্বনিত হয়। ইসমেত ওজতানিক চীনের ‘বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ এ বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। পাশাপাশি বসফরাসের উপর দিয়ে দক্ষিণ চীন সাগর পর্যন্ত নতুন সেতু নির্মাণ করার কথাও বলেছেন তিনি।

‘এশিয়া টাইমস’ পত্রিকায় দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ওজতানিক জানান, ‘চীন ও তুরস্কের ব্যক্তিগত খাতে ব্যবসায়ীদের একত্রিত করার জন্য বেইজিংয়ের তুর্কি দূতাবাস একটি কর্মরত প্ল্যাটফর্মের উদ্ভোধন চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে’।

শীঘ্রই উদ্ভোধনের অপেক্ষাধীন এই প্লাটফর্ম দুই দেশের পারস্পরিক বিনিয়োগ বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত আগস্ট মাসে ওজতানিক বলেছিলেন, আলিবাবা’র চেয়ারম্যান জ্যাক মা এর নেতৃত্বে চীনা উদ্যোক্তা ক্লাব বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা পরীক্ষা করার জন্য তুরস্ক সফরের কথা ভাবছেন। এখন সংশ্লিষ্ট প্রতিপক্ষের সাথে সমন্বয় করা এবং কোটিপতিদের অংশগ্রহণের পথ প্রস্তুত করার দায়িত্ব তুরস্কের বেসরকারি খাত এবং আধা সরকারি সংস্থার।

ঋণদাতা এবং বিনিয়োগকারী চীন 
‘গ্রীষ্মকালের মধ্যে বিশ্বের অন্যান্য অংশীদারদের আমন্ত্রণ জানাবেন’ এরদোগানের এমন ঘোষণার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুরস্কের অবস্থান উন্নত হয়েছে। ইস্তাম্বুলে সৌদি কর্তাদের দ্বারা ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট জামাল খাসোগীর হত্যার ঘটনা তুরস্ককে নতুন এক প্রভাবশালী আসনে অধিষ্ঠিত করেছে, বিশেষ করে বলতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে।

কিন্তু চীনের আবেদন কোন অংশে হ্রাস পায়নি। ঋণদাতা এবং বিনিয়োগকারী হিসাবে চীন দিনদিন প্রভাব অর্জন করছে।

জ্বালানি ও পরিবহন খাতে বিনিয়োগের জন্য জুলাই মাসে তুরস্ক চীনের শিল্প ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৩.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ নিয়েছে।

তুরস্কের বিদ্যুৎ খাতে চীন
বর্তমানে চীনের সবচেয়ে বড় সরাসরি বিনিয়োগ হচ্ছে তুরস্কের আদানা শহরে ইএমবিএ হুনুত্লু থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট, যা দেশটির জ্বালানি চাহিদায় উল্লেখযোগ্যভাবে অবদান রাখতে পারে।

চীনের সাংহাই ইলেকট্রিক পাওয়ারের নেতৃত্বে যৌথ উদ্যোগে কয়লাভিত্তিক উদ্ভিদের কনসোর্টিয়াম বিনিয়োগ ১.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই তথ্য এশিয়া টাইমসকে জানিয়েছে আঙ্কারার চীনা দূতাবাস। ইএমবিএকে তুর্কি এনার্জি মার্কেট রেগুলেটরি অথরিটি থেকে হুনুত্লু’কে ৪৯ বছরের লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছিল এবং এতে ৭৮% শেয়ারের মালিকানা চীনের।

চীনা বিনিয়োগকারীরা তুরস্কের অবকাঠামো, ইলেকট্রনিক্স, পর্যটন, সরবরাহ ও রিয়েল এস্টেট খাতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আংকারা-ইস্তাম্বুল উচ্চ গতির রেল, সল্ট লেক ভূগর্ভস্থ প্রাকৃতিক গ্যাস সংগ্রহস্থল প্রকল্প এবং আঙ্কারার কাজান জেলার ‘সোডা এশ প্রজনন কমপ্লেক্স’র মতো মেগা প্রকল্পগুলিতে বেইজিং প্রধান ঠিকাদার হয়ে উঠেছে।

২০০১ সাল থেকে চীনা কোম্পানিগুলি তুরস্কের সাথে মোট ১৯.৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের চুক্তি করেছে। দু'দেশ এখন তুরস্কের তৃতীয় পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য আলোচনা করছে।

বর্তমান পারমাণবিক আলোচনার গুরুত্বকে জোর দিয়ে বেইজিংয়ের তুর্কী রাষ্ট্রদূত এমিন ওনেন গ্লোবাল টাইমসের একটি নিবন্ধে লিখেছেন, ‘আমরা ২০১৯ সালের মধ্যে এই আলোচনাগুলি সম্পন্ন করে চীন ও তুরস্কের দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কে নতুন গতিশীলতা আনতে চাই’।

ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে তুর্কি কর্মকর্তারা বলেন, শুধুমাত্র চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য তারা বিশেষ শিল্পাঞ্চলও তৈরি করবে।

ইস্তাম্বুল কুল্টুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বায়হান ইন্সিকার বলেন, এই পদক্ষেপগুলো বেইজিং ও আঙ্কারা উভয় পক্ষের জন্য উপকারী, বিশেষ করে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ নির্ধারণের মাধ্যমে তুরস্কে চীনের নেতৃত্বাধীন পরিবহন প্রকল্পগুলি।

[এশিয়া টাইমস থেকে ভাষান্তর করেছেন মুহাম্মদ তানজীমুদ্দীন]

মন্তব্য

মতামত দিন

ইউরোপ পাতার আরো খবর

সিরিয়ার মানবিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত তুরস্ক: ট্রাম্পকে এরদোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্কআঙ্কারা: সিরিয়ার মানবিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তুরস্ক প্রস্তুত বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড . . . বিস্তারিত

১৬ বছর ধরে তুরস্কের সবক্ষেত্রে যে উচ্চপ্রবণতা চলছে, তা বজায় রাখতে হবে: এরদোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনআঙ্কারা: তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বলেছেন, গত ১৬ বছরে সবক্ষেত্রে তুরস্কের উচ্ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com