মহানবী (সা.) কে নিয়ে কটূক্তির দায়ে অস্ট্রিয়ান নারীর অর্থদণ্ড, অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়নি দাবি ইইউ আদালতের

২৬ অক্টোবর,২০১৮

মহানবী (সা.) কে কটূক্তির দায়ে অস্ট্রিয়ান নারীর অর্থদণ্ড, অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়নি দাবি ইইউ আদালতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
ভিয়েনা: ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়ার একজন নারী কর্তৃক মহানবী হযরত মুহাম্মদ(সাঃ) কে শিশু-কামী (নাউজুবিল্লাহ) বলে মন্তব্য করায় দেশটির একটি আদালত ওই নারীকে ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত এবং জরিমানা দণ্ড প্রদান করেছেো।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকার সম্পর্কিত আদালত চলতি মাসের চলতি মাসের ২৫ তারিখ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, অস্ট্রিয়ান ওই নারীকে নবী মুহাম্মদ (সা:) নিয়ে কটূক্তি করায় তার বিরুদ্ধে ঘোষিত জরিমানা দণ্ডের ফলে ওই নারীর মত প্রকাশের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয় নি।

২০০৮ এবং ২০০৯ সালে অস্ট্রিয়ার Far-right Freedom Party (FPO) কর্তৃক আয়োজিত ইসলাম সম্পর্কে একটি আলোচনা সভায় ওই নারী নবী মুহাম্মদ(সাঃ) এর সাথে হযরত আয়েশা(রাঃ) এর বিবাহ সম্পর্কে বলেন, বিবাহের সময় আয়েশা (রাঃ) একজন শিশু ছিলেন, যা একধরনের শিশুকামীতার সামিল।

এর পরেই অস্ট্রিয়ার একটি আদালত ওই নারীকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন এবং তার বিরুদ্ধে ৪৮০ ইউরো(৫৪৮ মার্কিন ডলার) জরিমানার আদেশ প্রদান করেন।

আদালত তার রায়ে বলেন, ‘নবী মুহাম্মদ(সাঃ) এর সম্পর্কে এধরনের কটূক্তি করে অভিযুক্ত নারী মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর মত কাজ করেছেন।’

এদিকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মানবাধিকার সম্পর্কিত আদালত জানিয়েছেন, নবী মুহাম্মদ(সাঃ) সম্পর্কে কটূক্তি করা কারো মত প্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে না।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মানবাধিকার সম্পর্কিত আদালত আরো জানিয়েছে যে, ‘অস্ট্রিয়ার স্থানীয় আদালত খুবই সতর্কতার সাথে অভিযুক্ত নারীর মন্তব্য সমূহ বিশ্লেষণ করেছে এবং তার মত প্রকাশের স্বাধীনতা সম্পর্কে খুঁটিয়ে দেখেছে।

আদালতের মতে, কারো মত প্রকাশের স্বাধীনতার মানে এই নয় যে, অন্য ধর্মের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে তা করতে হবে একই সাথে অস্ট্রিয়ায় ধর্মীয় শান্তি বজায় রাখার জন্য এধরনের মন্তব্যের কোনো বৈধতা নেই।’

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মানবাধিকার সম্পর্কিত আদালতের দেয়া বিবৃতিটিতে আরো বলা হয়- অভিযুক্ত নারীর বিরুদ্ধে যে জরিমানা করা হয়েছে তাকে একেবারে অপ্রতুল বলা যায় না।

অস্ট্রিয়ার আদালত শিশুকামীতা এবং শিশু বিবাহের মধ্যে বিষদ পার্থক্য তুলে ধরেছেন এমনকি ঐতিহাসিক ভাবেই ইউরোপের বিভিন্ন দেশের পরিবার সমূহের মধ্যে শিশু বিবাহের প্রচলন রয়েছে বলেও আদালত মন্তব্য করে।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মানবাধিকার আদালত আরো জানায় যে, অভিযুক্ত নারীর দেয়া মন্তব্যটি ইসলামের নবী মুহাম্মদ(সাঃ) এর উপর আক্রমণের সামিল, যা একই সাথে ধর্মীয় অশান্তি সৃষ্টির জন্য দায়ী।

ধর্মীয় বিশ্বাসসমূহ অবশ্যই সমালোচনার যোগ্য কিন্তু যদি এসব সমালোচনা ধর্মীয় বিশ্বাসকে ইচ্ছাকৃত আঘাত করার উদ্দেশ্যে হয় যা ধর্মীয় অশান্তির কারণ হতে পারে তখন এধরনের সমালোচনা গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রসঙ্গত, অস্ট্রিয়ার ৮.৮ মিলিয়ন নাগরিকের মধ্যে অন্তত ৬০০,০০০ জন মুসলিম নাগরিক রয়েছে। তবে বর্তমান Far-right Freedom Party (FPO) কর্তৃক পরিচালিত সরকার ইসলাম-ভীতি দ্বারা আক্রান্ত বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে Far-right Freedom Party (FPO) এর চ্যান্সেলর সেবাস্টাইন ক্রুজ ভিয়েনায় অবস্থিত অস্ট্রিয়ার সবচেয়ে বৃহৎ মসজিদটির কার্যক্রমের তদারকি করার জন্য ভিয়েনা শহরের কর্তৃপক্ষের প্রতি আবেদন জানান।

সূত্রঃ ডেইলি সাবাহ।

মন্তব্য

মতামত দিন

ইউরোপ পাতার আরো খবর

সিরিয়ার মানবিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত তুরস্ক: ট্রাম্পকে এরদোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্কআঙ্কারা: সিরিয়ার মানবিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তুরস্ক প্রস্তুত বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড . . . বিস্তারিত

১৬ বছর ধরে তুরস্কের সবক্ষেত্রে যে উচ্চপ্রবণতা চলছে, তা বজায় রাখতে হবে: এরদোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনআঙ্কারা: তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বলেছেন, গত ১৬ বছরে সবক্ষেত্রে তুরস্কের উচ্ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com